সিলেটে ছাত্রদলের রাজনীতি বিভিন্ন গ্রুপে বিভিক্ত : জিলুর খুনের ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা

0
116

সিলেটের সংবাদ ডট কম: ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলুর খুনের ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রদলের জামান ও মিজান-জিল্লুর গ্রুপের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের কয়েকটি দল পয়েন্টে পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইং প্রধান রহমত উল্লাহ। নিহত ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলুর গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, শনিবার বাদ আসর সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার পালপুরে তার নিজ গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। এদিকে জিলুর খুনের ঘটনায় আরও রক্তপাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছাত্রদলের জামান ও মিজান-জিল্লুর গ্রুপের মধ্যে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তারা মনে করছেন, জিলু খুনের প্রতিশোধমূলক হামলার চেষ্টা করা হতে পারে। এ নিয়ে সিলেট ছাত্রদলে উত্তেজনাও বিরাজ করছে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ছাত্রদলের গ্রুপ-উপ গ্রুপের এই উত্তেজনার বিষয়টি আঁচ করেই নগরীতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় সিলেটে ছাত্রদলের রাজনীতি বিভিন্ন গ্রুপে বিভিক্ত। দীর্ঘ দিন ধরে কমিটি  না হওয়ায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান এর নামে একটি গ্রুপ পরিচালিত হচ্ছে। অপর একটি গ্রুপ পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এডভোকেট শামসুজ্জামান জামানের নামে। যদিও তারা আড়াল থেকে এদের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। সুত্র জানায়, মিজান গ্রুপ ও জামান গ্রুপের মধ্যে আবার বেশ কটি উপ গ্রুপ গড়ে উঠেছে। নগরীর চৌহাট্টা, সুবিদবাজার, খাসদবির, মদন মোহন কলেজ, পাঠানটুলা- সিনিয়র জুনিয়র ভেদে এসব গ্রুপের নিয়ন্ত্রন করছেন নেতারা। সূত্র জানায়, ছাত্রদল নেতা মিজান সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন গ্রুপিং রাজনীতিতে। তিনি এ দায়িত্ব দেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি  জিয়াউল গণি আরেফির জিল্লুর, মাহবুব কাদির শাহী ও ওমর আশরাফ ইমনকে। এরপর থেকে সুবিদবাজার গ্রুপ তদারকি করেন মাহবুব কাদির শাহী। আর এ গ্রুপের তখন নেতৃত্ব দিতেন খুন হওয়া জিল্লুল হক জিলু। কাজী মেরাজ তখন মদন মোহন কলেজ এরিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন। জিল্লু মিজান গ্রুপ ছেড়ে জামান গ্রুপে যোগ দেয়ার পর শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন। সুবিদবাজার গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়া শুরু করেন কাজী মেরাজ। অন্যদিকে, মিজান গ্রুপের খাসদবির গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন মাহফুজুল করিম জেহিন। তিনি আমেরিকা থাকায় লুৎফুর রহমান ও মামুন আহমদ মিন্টু ওই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও বর্তমান মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর পুরো মিজান গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মীরবক্সটুলা কেন্দ্রিক গ্রুপের দায়িত্বে রয়েছেন ছাত্রদল নেতা লোকমান আহমদ। মূলত লোকমানেন নেতৃত্বেই কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাইসুল ইসলাম সনিসহ একটি গ্রুপ চলে। জামান গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা আব্দুল আহাদ খান জামাল। তার সাথে আব্দুল কাইয়ুম, রানা ও আম্বিয়া নামের ৩ জন জুনিয়র নেতা রয়েছেন। যারা জামান গ্রুপকে সক্রিয় রেখেছেন। সর্বশেষ ৭/৮ মাস আগে জামান গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন খুন হওয়া জিল্লুল হক জিলু। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী খালেদ একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রন করছেন। তিনি বসেন জিন্দাবাজারের সহির প্লাজার সামনে। অপরদিকে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ চৌধুরী ফয়েজ জিন্দাবাজার সিতারা ম্যনাশনের সামনে বসে তার গ্রুপ নিয়ে আড্ডা দেন। মহানগর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মুর্শেদ স্কাউট ভবেনর সামনে প্রান্তিকে আড্ডা দেন তার গ্রুপ নিয়ে। নিখোঁজ ইফতেখার আহমদ দিনার গ্রুপ বর্তমানে নিয়ন্ত্রন করছেন উমেদ নামের একজন। তবে দিনার নিখোঁজ হওয়ার পর বিভক্ত হয়ে তারা রাজনীতি করছে। এর বাইরেও অনেকটা উপ গ্রুপ গড়ে উঠেছে সিলেট ছাত্রদলে। এসব গ্রুপ উপ গ্রুপ বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ কেউ আড়াল থেকে আশ্রয় দেন। ছাত্রদল নেতা জিল্লুর রহমান জিলু সেই গ্রুপিং রাজনীতির বলি হয়েছেন বলে দাবি তার সতীর্থ-সমর্থকদের। সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রী কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের হাত ধরে সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠে সুবিদবাজার এলাকায় নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তুলেন। সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কমিটি আসছে এমন খবর পেলে দৌড়ঝাপ শুরু করতেন। নিজেকে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী ঘোষণা করে চালাতে থাকেন তৎপরতা। জিল্লুরের গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের পালপুর গ্রামে। বাবা নূর মিয়া। ৪ ভাই ও ২ বোন। তিনি ছিলেন ৩য়। বড় ভাই ল্ন্ডনে থাকেন। এক ভাই শিক্ষক। ছোট ভাই লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে এবং বোনেরাও সবাই শিক্ষিত। জিল্লুর রাজনীতি করার সুবাদে গ্রামেগঞ্জে ছুটে যেতেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্যও কাজ করেছিলেন। সুত্র:- সি: স

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here