আওয়ামীলীগ নেতার মদদে প্রকল্পবাজদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

0
60

বিশেষ প্রতিনিধি: আওয়ামীলীগ নেতার মদদে এভারগ্রীন ও ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের প্রকল্পবাজ জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সিলেট শহর ও শহরতলীর ৭টি এলাকার লোকজনদের উপর বিভিন্ন রখম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত দু’টি প্রকল্পের জামায়াত নেতারা পুলিশ প্রশাসন ও জামায়াতপন্হি আওয়ামীলীগ নেতাদের হাত করে নিরীহ লোকজনের জায়গা-জমি জোরপুর্বক দখল করে নিচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। জানা যায়, এসব জঙ্গী জামায়াত নেতাদের মদদ দিচ্ছেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। এলাকার লোকজন আওয়ামীলীগ নেতা, অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রকল্পবাজ জামায়াত নেতাদের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রী ও মহা-পুলিশ পরিদর্শক বরাবরে গত ২৪ জুন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, এভারগ্রীনের চেয়ারম্যান জামাল আহমদ নুর (উরফে ফেছন মিয়া উরফে সিলেটের বাংলা ভাই), এমডি আব্দুর রউফ, রউফ মিয়া, এহসান, জামায়াত নেতা আব্দুল জলিল, আব্দুস সালাম। ইষ্টার্ন প্রা: লিমিটেডের বোরহান উদ্দিন প্রকল্পের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা কামালউদ্দিন, ডা: সায়েফ উদ্দিন (সিলেট জেলা জামায়াতের আমির), প্রকল্পের এমডি-জামায়ত নেতা নাদের উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, আব্দুর রহিম, শাহিনুল ইসলাম শাহিন, এনাম ও মুসলিমলীগ নেতা বদরুল ইসলাম মিলে গরিব অসহায় লোকদের জায়গা-জমি জোরপুর্বক দখল করে তৈরী করেছেন এভারগ্রীন ও ইষ্টার্ন হাউজিং নামে আবাসন প্রকল্প। যা সম্পুর্ন অবৈধ অন্যায়ভাবে গড়ে তুলা হয়েছে। গরীব অসহায় লোকদের জায়গা-জমি অন্যায়ভাবে দখল করে জাল দলিল পত্র তৈরী করে এরা রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ দু প্রকল্পের জাল কাগজাদি তৈরী করেন মখন (উরফে জাল মখন) ও এভারগ্রীন  হাউজিংয়ের ফিল্ড ম্যানেজার আসাদ মিয়া নামক দু’ব্যাক্তি। এরা জাল কাগজ, পেশী শক্তি ও পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে সাধারন লোকজনের জায়গা-জমি শুধু কেড়েই নিচ্ছেনা তাদের বিরুদ্ধে কেউ রুখে দাড়ালে আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করে থানা পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরে তাদেরকে এসব মিথ্যা মামলায় আটক করে চালানো হয় নির্যাতন। আর এসব আইনী চিকন কাজের সহযোগীতা করে আসছেন সিলেট পুলিশ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। এরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলা সাজিয়ে লোকজনদের আটক করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এ দুটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্হানীয় সাধারন জনগনের রয়েছে প্রায় ৪০ টি মামলা। বর্তমানে জামায়াত শিবির প্রকাশ্যে আসতে না পেরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদেরকে ম্যানেজ করে তাদের ফায়দা হাসিল করছে। আওয়ামীলীগ নেতারা সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে একের পর এক নিরীহ লোকদেরকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ থেকে জানা যায়। জানা যায়, এভারগ্রীন ও ইষ্টার্ন হাউজিং কোন বন্ধবস্হ ছাড়াই জেলা প্রশাসকের ১ নং খতিয়ানের বেশ কিছু জায়গা দখল করে আছে। এসব জায়গার উপর জালালাবাদ গ্যাসের লাইন প্রায় ৫০ ফুট নিচ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নেয়া হয়েছে। শূধু তাই নয় পতিত ভুমিকে প্রকল্পবাজরা সাইল, আমন ও বাড়ি রখম ভুমি দেখিয়ে এক শ্রেণীর দালালদের মাধ্যমে জরিপ ও নামজারি করে নিয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অনেক নিরীহ লোকদের জায়গা-জমি তারা তাদের নামে জাল দলিল করে নিয়েছে। এসব নিরীহ লোকজন জায়গা-জমি উদ্ধার করতে না পেরে আইনের আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তাদের শান্তি নাই। দুর্নীতিবাজ পুলিশ  কর্মকর্তারা আওয়ামীলীগের অসাধু নেতাদের কথায় কাজ করেন। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়ে লোকজন জায়গা বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিন্তু যারা কিনে নিচ্ছেন তারাও পড়ছেন বিপদে। জায়গা কেনার পর দখলে গেলে দেখা যায়, জামায়াতের লোকজন জাল দলিল বলে জায়গায় বসে আছে। আর যখন তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলে তখনই জামায়াত চক্ররা আওয়ামীলীগ নেতাদের সুপারিশে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে পুলিশদের দিয়ে চালায় অমানুষিক নির্যাতন। উল্লেখিত আজাদুর রহমান আজাদ ও জঙ্গী জামায়াত নেতাদের এতই ক্ষমতা যে তারা চাইলে যে কোন সময় যে কাউকে গ্রেফতার, খুন, গুম করাতে পারে। অভিযোগে এলাকাবাসী বলেন, গত- ১৮/০৬/২০১৪ইং তারিখে এলাকার পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। কিন্তু ওই সাংবাদিক সম্মেলন করার কারনে এলাকার এক মুরব্বীকে মিথ্যা মামলায় আটক করে শাহপরান থানা পুলিশ। শুধু তাই নয় এখনও নানারখম হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে ডাকাতি, চুরি-ছিনতাই, মাদকসহ যে কোন মামলায় আটক করা হবে। এসব হুমকির কারনে কল্যানপুর, টিলাগড়, পুর্ব শাপলাবাগ, রাজপাড়া, মিড়াপাড়া, কুশিঘাট ও টুলটিকর এলাকাবাসী চরমনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের ২ মার্চ পূর্ব শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমানকে দেশের শীর্ষ স্হানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী র‌্যাব আটক করেছিল। আর এ এলাকা পুরোটাই রয়েছে জঙ্গী মদদদাতা জামায়াত শিবিরের দখলে। তাই তারা জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্হায় এলাকার নিরীহ লোকদের জায়গা-জমি দখল করে নেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভুমিখেকো জামায়াত শিবির হিমঘরে চলে যায়। কিন্তু থেমে নেই তাদের ভুমি দখলের কাজ। আওয়ামীলীগ নেতাদের মাধ্যমে এখনও তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এভারগ্রীন ও ইষ্টার্ন হাউজিং নিয়ে আরেকটি তথ্যবহুল সংবাদ পরে প্রকাশ করা হবে।  

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here