সিলেট এমসি ও সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের ভর্তি বাণিজ্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা

0
113

এমসি কলেজ প্রতিনিধি: সিলেট সরকারী ও এমসি কলেজে ভর্তি বানিজ্যের প্রায় ১৫ লাখ টাকা সিলেট জেলার বহিস্কৃত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের পকেটে ঢুকেছে। কলেজের মেধা তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে না পারলেও ওই ছাত্রলীগ নেতাদের টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছে মেধা তালিকায় না থাকা অনেক শিক্ষার্থীরা। প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। ভর্তি শুরুর আগ থেকে আজাদুর রহমান আজাদ বলয়ে থাকা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক বিরাজ করে। এসময় তারা মেধা তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে জিম্মি করে জোরপুর্বক টাকা আদায় করে। মেধা তালিকায় না থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এছাড়া টাকার বিনিময়ে অপেক্ষমান তালিকার পেছনে থাকা শিক্ষার্থীদেরও আগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেয় এসব ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। একাজে কলেজ দুইটির সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও বাধ্য করেন তারা। এমসি ও সরকারী কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী সুত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কলেজ সুত্রে জানা যায়, ২৮ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত অনলাইলে এমসি ও সরকারী কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদন জমা দেন। ২২ জুন কলেজ কর্তৃপক্ষ দুটি কলেজের মেধা তালিকা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে এমসি কলেজের শুধু বিজ্ঞান বিভাগে ৩০০ আসনের জন্য মেধা তালিকা এবং সরকারি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও মানবিক  বিভাগে ৯০০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী সরকারি কলেজে ২৩ জুন বিজ্ঞান, ২৪ জুন মানবিক ও ২৫ জুন ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া মেধা তালিকার যেসব শিক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে ভর্তি হতে পারেননি তাদেরকে ২৬ জুন ভর্তির সুযোগ দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করা হয়। অপেক্ষমান তালিকায় যারা সুযোগ পেয়েছেন তাদের ভর্তির তারিখ ২৮ জুন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২৬ জুন প্রকাশিত তালিকা ছিঁড়ে ফেলেন সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একইভাবে এমসি কলেজের প্রথম মেধা তালিকা ছিঁড়ে ফেলে ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের নেতাকর্মীরা। তারা তালিকার বাইরে তাদের পছন্দসই শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি করতে শিক্ষকদের হুমকি দেন। এরপর থেকে শূরু হয় হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের ক্যাডারদের কলেজ ক্যাম্পাসে মহড়া। কলেজ সুত্র থেকে আরো জানা যায়, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভর্তি কার্যক্রমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের তালিকা অনুযায়ী ভর্তির জন্য শিক্ষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে সে সুযোগ না দিলে তারা ক্যাম্পাসে আতংক ছড়িয়ে তালিকা ছিঁড়ে ফেলে এবং কলেজে ভাংচুর করে। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়। ভর্তি হওযা কয়েকজন শিক্ষার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অর্থের বিনিময়ে মেধাতালিকার বাইরে থেকে ভর্তি করার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বাণিজ্য বিভাগে ভর্তিচ্ছুক আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগের ছেলেরা এসে দেয়ালে সাটানো লিস্ট ছিড়ে ফেলে। তিনি বলেন, হিরন মাহমুদ নিপু, নাজমুল ইসলাম, ওলিউল্লাহ বদরুল, কালা সৌরভ, সঞ্জয়, রুমেল, গাজা টিটু, উজ্জল, মাসুম, মুরাদ ও নাজমুল ইসলাম মিলে অধ্যক্ষের কক্ষে বসেই ভর্তি বাণিজ্য করে। এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে পেয়েছিল ৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। অথচ ৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট পাওয়া অপর এক শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভর্তি করানো হয়। অপর এক শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগের ছেলেরা তার কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিল। তার চোখের সামনেই জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে নেয় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here