জামায়াত নেতাদের মালিকাধীন এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের ফাঁদে ক্রেতারা

0
50

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট দেবপুর মৌজায় অবস্হিত জামায়াত নেতাদের মালিকাধীন এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউন বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৩.৫ একর জমির অনুমোদন নিয়ে আবাসন ব্যবসা শুরু করে। মাত্র ৩.৫ একর জমির অনুমোদন থাকলেও পুরো আবাসন প্রকল্প অনুমোদন নেয়া হয়েছে বলে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩.৫ একর ব্যতিত বাকি পুরো জায়গাটি অবৈধ বলে জানা গেছে। দু’টি আবাসনের মালিকগন আংশিক অনুমোদনকে পুঁজি করে প্রকল্পের প্লট বিক্রি করছেন। আর ক্রেতাদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দেশে বিদেশে বিভিন্ন লোভনীয় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ দু’টি আবাসন প্রকল্প থেকে প্লট কিনে একখণ্ড জমির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন যারা, আদৌ তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। আর এ কারনে এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউন প্রকল্পের ফাঁদে পড়েছেন ক্রেতারা। জানা যায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউনের মালিকরা কেবল ৩.৫ একর জমির অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। উল্লিখিত জমি ছাড়া তাদের আর কোনো জমির অনুমোদন নেই। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে এলাকার নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে জমি কিনে তৈরী করা হয়েছে এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউন। এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউনের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানা গেছে, প্রকল্পের অনুমোদিত অংশের কয়েক গুণ বেশী জমি বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্লট কিনেছেন তারা পড়েছেন বিপদে। সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতারা তাদের জমি খোজে পাচ্ছেন না। আর যারা জমির খোজ পেয়েছেন তারাও রয়েছেন মহা বিপদে। দেখা গেছে উক্ত জমি নিয়ে আদালতে রয়েছে মামলা। এ দু’টি প্রকল্পের মালিকরা বিশেষ করে বিদেশে তাদের প্লট বিক্রি করছে। তার কারন সম্পর্কে জানা যায়, বিদেশে প্লট বিক্রি করা খুব সহজ। কেউ প্লটের কাগজের খোজ খবর নেয়না। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের আকর্ষণীয় স্থানের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সরকারি অনুমোদনের নামে ক্রেতাদের ধোঁকা দিয়ে প্লট বিক্রি করা হচ্ছে। স্হানীয় সুত্রে জানা যায়, জামায়াত নেতারা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সিলেট শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকার লোকজনদের উপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের জমি জোরপুর্বক দখল করে নেয়। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জমির বিনিময়ে মামলা আপোষ করে আজ প্রায় ১হাজার একর জমির মালিক এ দু’টি প্রকল্প। এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউনের নকশা অনুযায়ী বেশিরভাগ জমির মালিকানা এখনো তাদের হয়নি। অধিকাংশ জমি নিয়ে এখনও আদালতে মামলা ঝুলে রয়েছে। কিন্তু এরপরও এরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করছে টাকা। গরীব অসহায় লোকদের জায়গা-জমি অন্যায়ভাবে দখল করে জাল দলিল পত্র তৈরী করে গড়ে তুলা হয়েছে এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউন নামে প্রতারনা ব্যবসা। সুত্র থেকে আরো জানা যায়, এ দু’টি আবাসন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে অদলবদল চুক্তি নামা। এরা রেজিষ্ট্রি ছাড়া জমি বিক্রি করে শুধু চুক্তির মাধ্যমে। আর এ কারনে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে। দেবপুর মৌজার কান্দিপুতা, পুর্বশাপলাবাগের একাংশ, নয়া মার্কেটের সামন, বড় হাওর, হোনাপুর একাংশ, আব্দুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের অংশ, কাঙ্গালী বিলের একাংশ, রানিখেও, শাহপরান থানার পিছনের অংশ, মিররচক, মুক্তির চক আংশিক, পানির টেংকির একসাইট, মাষ্টরের ইটভাটা ও কুশিঘাটের পিছনের অংশ নিয়ে তৈরী করা হয়েছে এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্প ও ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লি: এর গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউন। ভোক্তভোগী এক জমির মালিক রুহুল আমিন জানান, তাদের মৌরসী সুত্রে প্রাপ্ত জমি এই দু’টি প্রকল্প অবৈধ ভাবে দখল করে নিয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আমাদের না এরখম আরো অনেক লোকজনের জমি এরা দখল করে তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। অত্র এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, উক্ত দু’টি প্রকল্পের জামায়াত নেতারা নিরীহ লোকজনের জায়গা-জমি জোরপুর্বক দখল করে নিচ্ছে। এ দু’টি প্রকল্পের মুল কান্ডারীর দায়ীত্বে রয়েছেন, ইষ্টার্ন হাউজিং প্রা: লিমিটেডের গাজী বোরহান উদ্দিন মডেল টাউনের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা কামালউদ্দিন, ডা: সায়েফ উদ্দিন (সিলেট জেলা জামায়াতের আমির), প্রকল্পের এমডি-জামায়ত নেতা নাদের উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, আব্দুর রহিম, শাহিনুল ইসলাম চৌধুরী শাহিন।অপর দিকে এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্পের দায়ীত্বে রয়েছেন, জামায়াত নেতা আব্দুল জলিল, জামাল আহমদ নুর (উরফে ফেছন মিয়া উরফে সিলেটের বাংলা ভাই), এমডি আব্দুর রউফ, রউফ মিয়া, এহসান ও আব্দুস সালাম। এ দু প্রকল্পের জাল কাগজাদি তৈরী করেন মখন (উরফে জাল মখন) ও এভারগ্রীন আবাসন প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার আসাদ মিয়া। পতিত ভুমিকে প্রকল্পবাজরা সাইল, আমন ও বাড়ি রখম ভুমি দেখিয়ে এক শ্রেণীর দালালদের মাধ্যমে জরিপ ও নামজারি করে নিয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অনেক নিরীহ লোকদের জায়গা-জমি তারা তাদের নামে জাল দলিল করেও নিয়েছে। জানা যায়, এভারগ্রীন ও ইষ্টার্ন হাউজিং কোন বন্ধবস্হ ছাড়াই জেলা প্রশাসকের ১ নং খতিয়ানের প্রায় ১৫ একর জমি দখল করে আছে। এসব জমির উপর দিয়ে নেয়া হয়েছে জালালাবাদ গ্যাসের লাইন। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এ দুটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্হানীয় সাধারন জনগনের রয়েছে প্রায় ৪০ টির ও বেশী মামলা। এসব মামলা নিস্পত্তি এখনও হয়নি। কিন্তু প্রকল্পের মালিকগন তাদের প্লট প্রতিদিনই বিক্রি করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের ২ মার্চ পূর্ব শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমানকে দেশের শীর্ষ স্হানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী র‌্যাব আটক করেছিল। আর এ এলাকা পুরোটাই রয়েছে জঙ্গী মদদদাতা জামায়াত শিবিরের দখলে। তাই তারা জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্হায় এলাকার নিরীহ লোকদের জায়গা-জমি দখল করে নেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভুমিখেকো জামায়াত শিবির হিমঘরে চলে যায়। কিন্তু থেমে নেই তাদের ভুমি দখলের কাজ। এসব জঙ্গী মদদদাতা জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য সরকারে প্রতি দাবী জানিয়েছেন এলাকার ভোক্তভোগী জনসাধারন। পরবর্তিতে থাকছে আরেকটি সংবাদ।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here