সিলেটে আসামী ও ভিকটিমের আদালতে আত্নসমর্পন

0
111

সিলেটের সংবাদ ডট কম: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় স্কুল ছাত্রী অপহরনের ১৯ দিন পর আদালতে আত্মসমর্পন করেছে মামলার আসামী ও ভিকটিম। বৃহস্পতিবার সকালে আইজীবীর মাধ্যমে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পন পূর্বক জামিনের আবেদন করে তারা। এ সময় আদালত ভিকটিমকে সার্বিক বয়স নির্ধারনের জন্য তাকে নিরাপদ হেফাজতে ও মামলার আসামী দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার এলাকার আহাদ মিয়ার পুত্র মুদির দোকানদার মোঃ জাবেদকে (২০) কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আদালত আগামী ২২ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেন। ভিকটিম সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী এলাকার মশলঘাট গ্রামের দিনেন চন্দ্র চন্দের কন্যা। বর্তমানে তারা দক্ষিণ সুরমা লালাবাজার এলাকায় ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে আসছিল। সে লালাবাজার স্কুল এন্ড কলেজের ১০ শ্রেণীর ছাত্রী। মামলার সুত্রে জানা গেছে, ১৯ জুন সকাল ১০ টায় লিপি রাণী চন্দ লালাবাজার স্কুল এন্ড কলেজে পরীক্ষা দিতে যায়। সেখানে সে যথারীতি পরিক্ষা দিয়ে ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে স্কুল থেকে বাসায় ফিরার পথে জাবেদ আহমদ তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে জাবেদ তাকে নিয়ে লামাকাজি তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রীটিকে রেখে জাবেদ স্থানীয় একজন ইমামের মাধ্যমে তাকে ধর্মান্তরিত করে। ১৯ জুন নোটারী পাবলিকের (হলফনামা) মাধ্যমে ছাত্রীটির নাম পরিবর্তন করা হয়। গত ২১ জুন অপহরক মোঃ জাবেদ প্রেমের জালে আটকে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার দেনমোহর সাব্যস্তক্রমে মেয়েটিকে বিয়ে করে লামাকাজি তার আত্মীয়ের বাড়িতে সংসার করতে থাকে। বিয়ের কাবিনে মেয়েটির জন্ম তারিখ ১৭ মার্চ ১৯৯৫ ইং লিখা হয়। কিন্তু স্কুল সাটিফির্কেটে তার জন্ম তারিখ ২৬ আগষ্ট ১৯৯৭ ইং লিখা রেয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ভিকটিম মহিলা কোর্ট লকাফ থেকে এ প্রতিবেদককে জানায়, জাবেদের সাথে তার ২/৩ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। ঘটনার দিন সে স্বইচ্ছায় জাবেদের সাথে পালিয়ে যায়। পরে জাবেদ তাকে নিয়ে লামাকাজি তার আত্মীয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কালেমা পাঠ করে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। পরে আমি কাবিন মুলে জাবেদ আমাকে বিয়ে করে ১৫/২০দিন ধরে দু’জন মিলে সংসার করতে থাকি। বৃহস্পতিবার আমরা দু’জন আদালতে আত্মসমার্পন করি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমার উপপরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান জানান, গত বুধবার রাতে থানার ওসি আসামী জাবেদের পিতা আহাদ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য থানায় নিয়ে এসে ঘটনার বিষয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে ভিকটিম তারা সিলেট নারী নির্যাতন আদালতে আত্মসমর্পন করে। এ সময় আদালত ভিকটিম লিপির সার্বিক বয়স নির্ধারন ও ধর্ষন সংক্রান্তে কোন ডাক্তারী সনদপত্র না থাকায় ভিকটিমের মামলা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সার্বিক বিবেচনায় সকল আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে আসামী জাবেদকে কারাগারে ও ভিকটিমকে বাগবাড়ী নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়। ভিকটিমের ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য আজ আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here