প্রায় দেড় যুগ পর আজাদ রনজিৎ ইতি টানলেন বন্ধুত্বের

0
48

সিলেটের সংবাদ ডট কম: কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি। এরখম গান গেয়েই এখন দিন যাচ্ছে তাদের। অভিমান আর ক্ষোভে দুজন দুজনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের  সম্পর্ক নেই আর আগের মতো। বন্ধুত্বে ধরেছে ফাটল। এদের একজন হলেন তিনবারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ আর অন্যজন হলেন এডভোকেট রণজিৎ সরকার। উভয়ই আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন থেকে টিলাগড়ের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন একই বলয়ে থাকা আজাদ-রনজিৎ। টিলাগড়ের রাজনীতি দখল নিতে গিয়ে অন্যান্য নেতাদের বহুবার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই দুই নেতার। আজাদ- রণজিৎ এর কাছে কৌশলের মার খেয়েছেনও অনেকবার। কিন্তু এখন আজাদ+রনজিৎ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নিজেদের মতো করে গ্রুপ গুচাচ্ছেন উভয়ে। কিছুদিন আগেও যারা ছিলেন গলায় গলায় আজ তারা হয়েছেন একে অন্যের প্রতিদ্বন্ধি। আর তাদের এই আলাদা হওয়ার পিছনে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বানিজ্য, এমসি ও সরকারী কলেজে ভর্তি বানিজ্য এবং টিলাগড় অঞ্চলের প্রভাব বিস্তারের কারন। একতরফা আজাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়াতে এবং রনজিৎ সরকারের কর্মীদের মারধরের কারনে পাল্টে গেছে টিলাগড়ের রাজনীতির দৃশ্যপট। তাই এখন আর কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। দুজন হয়েছেন দুই মেরুর কান্ডারী। অপরদিকে বিগত ৫ বছরে এই দু’নেতার কাছে রাজনীতির ময়দানে পরাজিত অপর আরেকটি গ্রুপ এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। টিলাগড়ের স্থানীয় রাজনৈতিক সুত্রে জানা যায়, আজাদ+রনজিৎ ভাগ হয়ে যাওয়াতে অপর গ্রুপের সুবিধে হয়েছে। তাই তারা তাদের অবস্হান জানান দিচ্ছেন। বিগত দিনে আজাদ+রনজিৎ গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের কারনে টিলাগড় পরিণত হয়েছিল সন্ত্রাসী জনপদে। এলাকাবাসী ছিলেন অজানা আতংকে। আজাদ+রনজিৎ ভাগ হওয়াতে এলাকাবাসীর মাঝেও বিরাজ করছে আনন্দ।এ যেন দীর্ঘদিনের বন্দী দশা থেকে তারা পেয়ছেন মুক্তি। রনজিৎ সরকার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে এসে এমসি কলেজে ভর্তি হয়ে এমসি কলেজের ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনীতিতে উত্থান তার। এমসি কলেজ খেকেই আজাদের সঙ্গে সম্পর্ক। এই সম্পর্ক প্রায় দেড় যুগেরও বেশী সময় ছিল। প্রায় দুই বছর আগের এমসি হোস্টেল জ্বালানোর সময়ও এক ছিলেন তারা। আজাদের সাথে রাজনীতি শুরু করেন রনজিৎ সরকার। দিনে দিনে পরিচিতি লাভ করেন একজন ছাত্র নেতা হিসেবে। অপর দিকে আজাদুর রহমান আজাদ টিলাগড়ের স্হানীয় হওয়ার সুবাদে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে খুব দ্রুত পরিচিতি পান। উভয়ে হয়ে উঠেন টিলাগড় ভিত্তিক রাজনীতির কান্ডারী। জানা যায়, মফস্বল থেকে আসা নিরীহ ছাত্ররা এমসি কলেজে ভর্তি হতে গেলেই এদের নির্যাতনে অস্হির হয়ে পড়তো। না পেরে তাদের সাথে নোংরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তো। আর এভাবে আজাদ+রনজিৎ গড়ে তুলেন তাদের বিশাল গ্রুপ। অতিতে যেমন আজাদ+রনজিৎ উভয়ে একসাথে কাজ করেছিলেন, সেরখম সবাইকে জানান দিয়ে আবার পৃথকও হলেন। শুক্রবার রাতে বন্দুক যুদ্ধ দিয়ে তাদের বন্ধুত্বের ইতি টানলেন। আধিপত্য বিস্তার ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মন কষাকষি চলে আসছিল। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে এ বহি:প্রকাশ ঘটে। নিজেরা প্রকাশ্যে না এসে দলীয় কর্মীদের দিয়ে গোলাগুলির মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন একলা চলার অভিপ্রায়। তাই এখন আজাদ+রনজিৎ এর মাঝখান থেকে উঠে গেল যোগ চিহ্ন। ইতি টানলেন বন্ধুত্বের। হয়ে গেলেন আজাদ গ্রুপ ও রণজিৎ গ্রুপ নামে পৃথক গ্রুপ। পরবর্তীতে থাকছে আজাদ গ্রুপ ও রনজিৎ গ্রুপ আলাদা হওয়ার উপর আরেকটি প্রতিবেদন।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here