বিশ্বনাথে অপহরণ নাটক অত:পর আটক

0
51

সিলেটের সংবাদ ডট কম ডেস্ক: গত ৩ জুলাই নিখোঁজ হন বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ কাজিরগাঁও গ্রামের আইরম আলীর পুত্র মিরাশ আলী মারুফ (২৮)। মিরাশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের পুরানবাজার ‘আরফিজ ভিলা’য় বসবাস করে আসছে। ঐ দিন দুপুরে মিরাশ তার বাসা থেকে বের  হয়ে আর বাসায় ফিরেননি। এঘটনায় ৭ জুলাই তার ভগ্নিপতি মোঃ সালিকুর রহমান বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং ২২২। এদিকে, নিজের টাকার প্রয়োজনে আত্মগোপন করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করে বাড়িতে ফিরে আসায় মিরাশকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটকের পর বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। এনিয়ে উপজেলা চলছে তোলপাড়। এঘাটনায় সোমবার বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে প্রেস রিলিজ দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন। মিরাশ আলী মারুফ নিজে আত্মগোপনে থেকে একটি অপহরন নাটকের মাধ্যমে তার পরিবারকে, পুলিশ বিভাগকে হয়রানী করায় এবং দুরভিসন্ধিমূলক আচরন গুরুত্বর কোনো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে মর্মে সংগত কারনেই বিশ্বাস হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানা জিডি নং-৪১২ করা হয়েছে। গত রবিবার ধারা-কাঃ বিঃ ৫৪ মূলে মিরাশকে গ্রেফতার করে সোমবার আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক হওয়ায় বিস্তারিত বিবরণ উল্লেক পূর্বক বিশ্বনাথ থানা পুলিশ দেশের সকল থানায় জরুরী বার্তা প্রেরণ করে ছবিসহ সিআইডি’র ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স গেজেটে প্রকাশনার ব্যবস্থা গ্রহন করে। পাশাপাশি পুলিশের সকল প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বৃন্দের সহায়তা/কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই সময়ে উক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর গত ৯ জুলাই (০১৭৯৮ ৪৬৬১৯৩) থেকে মিরাশের বোন আফরোজা বেগমের ফোন নাম্বারে নগদ ২ লাখ টাকা মিরাশের নিজের একাউন্টে জমা দেওয়ার জন্য অজ্ঞাতনামা কন্ঠ থেকে বলা হয়। নতুবা মিরাশকে (কথিত ভিকটিম) হত্যা করার হুমকি প্রদান করে। এরপর ভিকটিমের বোন ১০ জুলাই ব্র্যাক ব্যাংক, বিশ্বনাথ শাখায় তার (ভিকটিম) একাউন্ট নাম্বার-৬৩০৪২০২৭১১৬৬২০০১ তে নগদ ১ লাখ টাকা জমা দিলে ওই দিন ঢাকার বিজয় নগর ও তোপখানা রোড শাখার এটিএম বুথ থেকে কথিত ভিকটিম মিরাশ আলী মারুফ নিজে টাকা উত্তোলন করে। যা  সংশ্লিষ্ট বুথের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত তথ্যে প্রমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় টাকা পরিবার থেকে অপহরন নাটকের মাধ্যমে উত্তোলন শেষে কথিত ভিকটিম মিরাশ আলী মারুফ বাড়ীতে এসে হাজির হয়। তখন তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে, ঢাকার বর্ণিত ব্র্যাক ব্যাংকের বুথ থেকে সে নিজেই বোনের পাঠানো ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে এবং কেউ অপহরন করে নি বা মুক্তিপনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। অজ্ঞাতনামা সহযোগী অপরাধীরা পরষ্পর যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে এই অপহরন নাটক সাজানো হয়েছে বলে অনেকেই ধারনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি নারায়নগঞ্জের অপহরন পূর্বক ৭ খুন এবং বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের স্বামী-আবু বক্কর সিদ্দিকীর অপহরন ঘটনার পর এসব ঘটনা কে পুঁজি করে কোনো একটি চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের কিছু সাজানো ঘটনার সৃষ্টি করে আসছে। ফলে রাষ্ট্র ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশে-বিদেশে ও বিভিন্ন সংস্থার নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here