সুমন বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে ফাইজাকে : আদালতে স্বীকারোক্তি

0
67

সিলেটের সংবাদ ডট কম ডেস্ক: বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রী ফাইজা বেগমকে (২২) হত্যা করেন স্বামী আতিকুর রহমান সুমন (২৬)। হত্যার পর নিজেই স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের গ্রীলের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। পরে আতিক পরিবারের সদস্যদের বলে ফাইজা আত্মহত্যা করেছে। শনিবার দুপুরে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলী আদালতে আতিকুর রহমান সুমন ১৬৪ ধারায় এ বিষয়ে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করে। ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাহেদুল করিম তার খাস কামরায় প্রায় আড়াই ঘন্টা তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন। আতিক নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার খোজারখলা ১ নম্বর সড়কের ১১৬ নাম্বার বাসার সালেকুর রহমানের পুত্র। এদিকে, শনিবার বিকেলে পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেছে। রোববার ফাইজার লাশ দাফন হবে। তার লাশবাহী কফিন হাসপাতালে হিমাগারে রাখা হয়েছে। এদিকে, পুলিশের হাতে আটক নিহত ফাইজা বেগমের শ্বশুড় সালেকুর রহমান, ননদ ফাতেমা বেগম ও দেবর মামুন আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার ছেড়ে দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুমিনুল ইসলাম জানান,শনিবার সিলেটের হাকিম আদালতে ধৃত আতিকুর রহমান সুমন ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। জবানবন্দীতে আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার জের ধরে নিজে বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রী ফাইজাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে সে বাঁচার জন্য আতিক স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের গ্রীলের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখে আত্মহত্যার প্ররোচণা চালায়। প্রায় আড়াই ঘন্টা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী শেষে শনিবার সন্ধ্যার আগে আতিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য,মোগলাবাজার থানার কুচাই গ্রামের ফারুক আহমদের কন্যা ফাইজা বেগমের সাথে দক্ষিণ সুরমা থানার খোজারখলা ১ নং রোডের এ/ব্লকের ১১৬ নম্বর বাসার সালেকুর রহমানের পুত্র আতিকুর রহমান সুমনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে ঘটনার ৪০ দিন আগে তাদের দু’জনের বিয়ে হয়। গত শুক্রবার সকালে আতিকুর রহমান সুমন তার স্ত্রী ফাইজা বেগমকে পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনা ধামাচাপা  দিতে সে স্ত্রীর গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরের গ্রীলের সাথে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখে ফাইজা আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজায়। গত শুক্রবার দুপুরে নববধু ফাইজার গ্রীলের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো ওড়না পেচানো লাশ দেখতে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে নববধুর লাশ উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আতিকুর রহমান সুমনসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করে। পরে ঘটনা উদঘাটনে তাৎক্ষণিক সিআইডির তদন্ত একটি দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় নিহত ফাইজার পিতা ফারুক আহমদ বাদী হয়ে একমাত্র আতিকুর রহমান সুমনকে আসামী করে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নং- ৭ (১৮-০৭-১৪)।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here