ফেঞ্চুগঞ্জের কুরকুরি খাল থেকে হাত-পা বাঁধা এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার

0
53

সিলেটে খাল থেকে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের হাত-পা বাধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খালেদ আহমদ নামের ওই ছাত্র গত ২১ জুলাই সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ করিমউল্লাহ মার্কেটের সামনে থেকে অপহৃত হয়েছিল। ৫ দিন পর শুক্রবার বিকেল ৪টায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মানিককোনা গ্রামের পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীর সাথে সংযুক্ত কুরকুরি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খালেদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের নিমাদল গ্রামের মো. ছল­ছ মিয়ার ছেলে। নিহত ছাত্রের পারিবারিক সূত্রে জানা যায় ২১ জুলাই সকালে ল্যাপটপ বিক্রির জন্য খালাতো ভাই জহিরুল ইসলামের সাথে করিমউল্লাহ মার্কেটে আসে খালেদ আহমদ। এসময় ল্যাপটপটি বেশি দামে বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে করিমউল্লাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী কবির তাদেরকে বিয়ানীবাজারে নিয়ে যায়। বিয়ানীবাজারের রামধাবাজারের চন্দ্রগ্রামে নিয়ে গিয়ে কবীর তাদেরকে আটকে রাখে। এরপর কবীর ও তার লোকজন খালেদের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দর কষাকষির একপর্যায়ে খালেদের পরিবারের সাথে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ সাব্যস্ত করে কবির। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে আসার জন্য অপহরণকারীরা জহিরকে ছেড়ে দিয়ে খালেদকে আটকে রাখে। খালেদের পরিবার ঘটনাটি বিয়ানীবাজার থানাকে অবগত করলে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কবিরের ফুফাতো ভাই মুমিত আল মাহমুদকে আটক করে। এসময় কবিরের বাড়ি থেকে মুক্তিপণের দাবির জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে। এরপর খালেদের পরিবার তাকে উদ্ধারের জন্য সিলেট কোতোয়ালী থানা ও বিয়ানীবাজার থানায় বার বার ধর্ণা দিলেও কোন থানা পুলিশই মামলা রেকর্ড করেনি। খালেদকে উদ্ধারেরও কোন উদ্যোগ নেয়নি তারা। এ অবস্থায় গতকাল শুক্রবার ফেঞ্চুগঞ্জে হাত-পা বাধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান অভিযান চালিয়ে একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে অপহরণের ঘটনাস্থল সিলেট কোতোয়ালী হওয়ায় বিয়ানীবাজার থানায় এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি বলে জানান।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here