নিজ গালে জুতো মারার প্রস্তাব দিয়েও শেষ রক্ষা হলনা আতাউরের

0
71

সিলেটের সংবাদ ডট কম: ক্লোজড হয়ে যাওয়া ওসি আতাউর তার মধুমাখা গদিটি রক্ষার জন্য অনেক  অবিশবাস্য ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সকলের অজানা   একটি ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলো: ওসি ক্লোজড হওয়ার মাত্র দু\'দিন আগের ঘটনা এটি। সরকারী দলের এক প্রভাবশালী নেতার বাসায় পরামের্শের জন্য যান  ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম আহমদ চৌধুরী ও তার বড়ো ভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহজাহান আহমদ চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন। প্রত্যক্ষদশী সুত্র জানায়, আলাপ আলোচনা চলছে ঠিক সেই মুহুর্তে আকস্মিকভাবে  ছাতকের দুই পুরনো বন্ধুকে নিয়ে ঘরে ঢুকেন ওসি আতাউর। ঘরে ঢুকেই পরনের শার্ট খুলে মেয়র কালাম চৌধুরীর পায়ের নিচে প্রথমে লিনডাউন হন, তারপর নিজের পায়ের জুতো খুলে কালামের হাতে দিয়ে নিজেকে পেটানোর অনুরোধ জানান। ওসির এমন আচরন দেখে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে যান।এ সময় মেয়র কালাম ও তার ভাই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললে ওসি আতাউর তদন্ত না করে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ জানান।এ সময় লিনডাউনে থাকা ওসি বলেন মনে করো তোমাদের ভাইয়ের হাত পা কেটে ফেলেছি আমাকে ক্ষমা করে দাও। এরপর ওসি আতাউরের সঙ্গে আসা এক লোক প্রস্তাব দেন যে  ওসি আতাউরকে যেভাবে পিটাবেন সে রাজি আছে, প্রয়োজনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সে ক্ষমা চাইবে। মেয়র কালাম ও তার ভাই শাহজাহান আবারো বলেন তদন্ত সাপেক্ষে যে দোষি হবে আমরা তার বিচার চাই। কিন্তু ওসি  আবারো তার পিট দেখিয়ে তাকে পেটোনোর অনুরোধ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতা যার বাড়িতে এ সব হচিছল তিনি ওসি আতাউরকে ধমক দেন। ধমক খেয়ে ওসি সেখান থেকে বিদায় নেন। ওসি আতাউর মানষিকভাবে কি পরিমান নিচু প্রকৃতির তা বোঝাতে প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র এভাবেই ঘটনাটির বর্ননা দিচ্ছিলেন। এতোকিছুর পরও  তার পদবীটুকু রক্ষা  করতে পারলেননা  ওসি আতাউর।নিচু মনের এই মানুষটি সম্পর্কে আরো যা জানা যায়,  ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম আহমদ চৌধুরীর বেশ গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল তার সংগে। একেবারে গলায় জড়াজড়ি সম্পর্ক যাকে বলে! কিন্তু আতাউরই সম্পর্কটা নষ্ট করলেন। বন্ধুকে বানিয়ে ফেললেন শক্র! আর এই বন্ধুকে শক্র বানানোটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো আতাউরের জন্য! ১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক থানার সেকন্ড অফিসার (এসআই) ছিলেন আতাউর রহমান। তখন থেকেই ছাতক আওয়ামী লীগ নেতা কালাম আহমদ চৌধুরীর সাথে ঘনিষ্টপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে আতাউরের। ধীরে ধীরে ছাতক থানা এলাকাজুড়ে ‘কালামের লোক’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন আতাউর। এমনকি তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধের ঘটনায় সর্বদাই কালাম আহমদ চৌধুরীর পক্ষ নিতেন আতাউর। শুধু তাই নয়, আতাউর রহমান নিজের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন দক্ষিণ ছাতকের কুর্শি গ্রামে। এই বিয়ের সম্বন্ধও ওই কালাম আহমদের হাত ধরে হয়। এমনকি বিয়েতে কালাম আহমদ চৌধুরীকে ‘উকিল পিতা’ বানান আতাউর। কিন্তু সিলেট কোতোয়ালি থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করার পর ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকেন আতাউর। ভুলে যেতে থাকেন বন্ধু কালাম আহমদকে। একসময় যে দু’জনের গভীর সম্পর্ক ছিল- সেটা বেমালুম ভুলেই যান আতাউর! নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! বন্ধুত্বের কথা অবলীলায় ভুলে গিয়ে একসময়কার ঘনিষ্ট বন্ধুর ভাই কামাল আহমদ চৌধুরীকে সঙ্গীদের নিয়ে বেধড়ক মারধর করলেন আতাউর! বন্ধুকে বানিয়ে দিলেন চরম শক্র। আর এই বন্ধুকে শক্র বানিয়ে দেয়াটাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো ওসি আতাউরের জন্য! গত ১৭ জুলাই ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম আহমদ চৌধুরীর ভাই কামাল আহমদ চৌধুরীকে নির্যাতন করার প্রেক্ষিতেই, হাইকোর্টে দায়ের করা তাদের আরেক ভাই শামীম আহমদ চৌধুরীর রিট আবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই নির্দেশনার ফলেই কপাল পুড়লো আতাউরের। কোতোয়ালি থানা থেকে ইতিমধ্যেই তাকে ক্লোজড করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া মামলার ব্যাপার তো আছেই। সুত্র:সিলেটবার্তা

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here