চা শ্রমিকদের দাবি পূরণ করে বাগান চালুর দাবি

0
129

সিলেটের সংবাদ ডট কম: বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের শাখা সংগঠন চা শ্রমিক সংঘ সিলেট ভেলি কমিটির এক সভা হিলুয়াছড়া চা বাগানে অনুষ্টিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চা শ্রমিক সংঘ সিলেট ভেলি কমিটির আহবায়ক রাধামনি মুন্ডা, সভায় আলোচনা করেন বিমল গঞ্জু, সুনিল মুদি, বাসু দেব, নিখিল মুন্ডা, রাজু মুন্ডা, রুনা বেগম, সুজন মিয়া, মিলন মুন্ডা। সভার শুরুতে চা শ্রমিক সংঘের যুগ্ম আহবায়ক রাবার শ্রমিক নেতা জয় মাহাত্ব কুর্মির স্ত্রী মালনিছড়া চা বাগানে শ্রমিক রিতা কুর্মির মৃত্যুতে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় কালাগুল চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচিতে রয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর শ্রমমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, মিছিল সমাবেশ লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি। ১২ সেপ্টেম্বর মালিনিছড়া চা বাগানের শ্রমিক রিতা কুর্মির শোক সভা করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় আলোকচকরা বলেন, যুগের পর যুগ নির্ম শোষণ, বেপরোয়া লুণ্ঠন ও মালিকের সর্বোচ্চ মুনাফার ঘানি টানতে টানতে চা শ্রমিকরা নিদারুন দুঃখ কষ্ট, অনাহার-অর্ধাহার, অপুষ্টি, অশিক্ষা, বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। এমতাবস্থায় চা শ্রমিকরা দীর্ঘ দিন থেকে দৈনিক৩০০ টাকা মজুরীসহ অন্যান্য ন্যায্য দাবীতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর ফলে ২০০৬ সাল থেকে দৈনিক মুজরী ৩০ টাকা থেকে ৬৯ টাকায় উন্নিত হয়। চলমান আন্দোলনে অংশ হিসেবে সিলেট ভ্যালীর বুরজান টি এস্টেটের অন্যতম কালাগুল চা বাগানের শ্রমিকরা আজ মালিকের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও সরকারের উদাসীনতায় বাঁচা মরার সংগ্রামে নিয়োজিত। মালিকের সাথে পূর্বের চুক্তি ভঙ্গের প্রতিবাদের এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নামে চুরি ডাকাতিসহ সকল প্রকার অপপ্রচার বন্ধ, একের পর এক দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে এই বাগানের শ্রমিকরা গত ১ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে আসছে। চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলন দমনে সরকার ও প্রশাসনের তৎপরতায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবী মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতি প্রদান করেন। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে যে কোন সমস্যায় শিল্প বিরোধ মীমাংসার দায় দায়িত্ব শ্রম দপ্তরের থাকলেও এক্ষেত্রে শ্রম দপ্তরকে নিষ্ক্রয় করে শ্রমিকের ন্যায্য দাবির তোয়াক্কা না করে সরকারের প্রভাবশালী এক ব্যাক্তি প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বেআইনিভাবে জোরপূর্বক শ্রমিকদের কাজে লাগানোর চেষ্টা চালায়। তা সত্তে¡ও প্রশাসনের ও ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় ইউপি মহিলা মেম্বার সুখা রাণী ও সাবেক ইউপি মেম্বার দোলন কর্মকার দুল সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে আসলে শ্রমিকরা তা গ্রহণ করে সমঝোতার জন্য নির্ধারিত দিন ২০ আগস্ট বেলা দেড়টায় অপেক্ষা করলেও ম্যানেজমেন্টের কেউ না আসায় সমঝোতা বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। এভাবে ম্যানেজমেন্ট ও প্রশাসন বাগান অচল রেখে শ্রমিকদের ভাতে মারতে চাচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একজন প্রভাবশীল। জন প্রতিনিধি জোর পূর্বক স্বীয় স্বার্থ হাসিলের ষড়যন্ত্র করছে। এভাবে মালিক ও স্থানীয় প্রশাসন চা শ্রমিক আন্দেলনকে দমনের লক্ষ্যে হামলা-মামলা, গুম-খুন হত্যাসহ নানা অপতৎপরতার দিক সামনে আনছে। এর বিরুদ্ধে চা শ্রমিকসহ শ্রমিক কৃষক জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে, গড়ে তুলতে হবে গণপ্রতিরোধ এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি আমাদের আহবান কালাগুল বাগানের অনাহারী শ্রমিকদের সকল রূপের সহযোগিতা করার আহবান জানান।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here