দক্ষিণ সুরমায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ : আটক ২

0
124

সিলেটের সংবাদ ডট কম: দক্ষিণ সুরমার বলদীতে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে অপহরণ করে লাগাতার ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে এক মহিলাসহ চারজনকে আসামী করা হয়েছে (মামলা নং-৩০)। ঘটনার সাথে জড়িত এক মহিলাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুর গ্রামের মৃত সমশের আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম গেদা (৩৫) ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার শিমুলতলা গ্রামের আব্দুল খালিকের স্ত্রী ও বদিকোনাস্থ সিরাজ মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা রহিমা বেগম (৪০)। শুক্রবার আটককৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে, ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ধর্ষিতাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রেরণ করে চিকিৎসা ও মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. মুরসালিন। পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার দুদু মিয়া স্বপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ সুরমার বলদীতে বসবাস করে আসছেন। গত ২৪ আগস্ট রোজ রোববার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে তার মেয়ে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তেতলী আহমদপুর গ্রামের সিএজি চালক কুটন মিয়া (৪০) মেয়েটিকে জোরপূর্বক নিয়ে যায় বদিকোনা এলাকার সিরাজ মিয়ার কলোনীর রহিমা বেগমের রুমে। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে সিএনজি চালক কুটন, হারুন ও কলোনীর কেয়ারটেকার আমিনুল ইসলাম গেদা। ভোরে ওই প্রতিবন্ধী তরুণীকে হাত বদলসহ পতিতালয়ে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মেয়েটির মা নাসিমা বেগম। এদিকে, প্রতিবন্ধী মেয়েটি নিখোঁজের এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট মেয়ের বাবা দুদু মিয়া দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন (জিডি নং-১৩৫৯)। সাধারণ ডায়েরীর পর ঐ প্রতিবন্ধী তরুণীকে উদ্ধারে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে পুলিশী অভিযান পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ওই প্রতিবন্ধী তরুণীকে কদমতলী এলাকায় পেয়ে দুজন মহিলা নিয়ে আসেন বদিকোনায়। খবর পেয়ে দুই মহিলাসহ প্রতিবন্ধী তরুণীকে থানায় নিয়ে যান মেয়ের বাবা-মা’সহ স্বজনরা। পরে তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ আসামীদেরকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলাম গেদা ও রহিমা বেগমকে আটক করে। শুক্রবার আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ধর্ষিতা প্রতিবন্ধীকে ওসমানী ভিকটিম সেন্টারে চিকিৎসা ও মেডিকেল টেস্ট শেষে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের করা মামলা নং ৩০। তারিখ ২৯-৮-১৪। তবে মামলার প্রধান আসামী তেতলী আহমদপুর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক কুটন ও তার সহযোগী একই এলাকার মাঝপাড়া গ্রামের মৃত জামাল আলীর ছেলে সিএনজি চালক হারুন মিয়া পলাতক রয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানা সূত্র।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here