সাহেব বাজারে ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

0
154

সিলেটের সংবাদ ডট কম: সিলেট সদর উপজেলার সাহেবে বাজারে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৮৩ জনকে আসামীর করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই এয়ারপোর্ট থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কৃষক সংগ্রাম পরিষদের ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০০/২৫০ জনকে আসামী করে সরকারি কাজে বাধা দানের অপরাধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-২৫। এদিকে, ময়না তদন্তশেষে নিহত দেওয়াইরবহর গ্রামের মৃত আবদুল বারীর পুত্র মাসুকুর রহমানের (২৬) লাশ পুলিশ গতকাল দুপুরে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। গতকাল বাদ আছর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার বিপুল সংখ্যক লোক উপস্থিত ছিলেন। পরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।  তার পরিবারের পক্ষ থেকেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি  চলছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি শাহজামান। মামলার আসামীরা হচ্ছে- এয়ারপোর্ট থানার বড়বন্দের মৃত আব্দুর রহমানের তছির আলী (৪০), তার সহোদার বিলাল আহমদ (৩৪),একই এলাকার মৃত আব্দুল ওহাবের পুত্র মুহিবুর রহামান (২৫), মৃত ইরশাদ আলীর পুত্র মোঃ আরব আলী (৩২), ছালিরমহলের আজিজুর রহমানের পুত্র আব্দুল খালিক (৩০), ফতেগড়ের মৃত ইরফান আলীর পুত্র চেরাগ আলী (৪৮), সাইদ আলী, মোক্তার আলী, মরতুজ আলী, উমর আলী, হবি, জামাল, সুজন, মোবারক, ছানাবর, ভাষান ছত্রী, মঙ্গল ছত্রী, সমছুল মিয়া, বাবুল, ফারুক, আব্দুল ছুফান, হেলাল, গৌছ আলী, আব্দুল বারিক, সামছু উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুম, আলাই মিয়া, শামীম মিয়া, আব্দুস ছত্তার, আব্দুল মুতলিব, ছালেক আহমদ, লায়েক, দুদু মিয়া ও ইয়াছিন। এদের সকলের বাড়ি একই থানার বড়বন্দ, ছালিরমহল, কালাগুল চা বাগান, পাঠানগাও, ফড়িংউরা, দেরাইবহর, ফতেগড় ও মাখরখলা গ্রামে।  এদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া তছির আলী, মুহিবুর রহমান, আব্দুল খালিক, চেরাগ আলী, বিলাল আহমদ ও মোঃ আরব আলীকে গতকাল শনিবার পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। মামলার বাদী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আহত আব্দুল খালিক ঢাকার আগারগাঁওয়ে অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে (সাবেক পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের পরিবার বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এর আওতাভূক্ত কৃষক সংগ্রাম পরিষদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে প্রায় ১০দিন আগে এলাকার লোকজনের সাথে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর হামলার জের ধরে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবারও দুইপক্ষের কয়েক শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে মাসুকুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন মহিলাসহ অর্ধশত লোক। পরে পুলিশ গিয়ে ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁেড় পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় পুলিশ  ওসমানী হাসপাতাল থেকে তিন জনসহ মোট ৬ জনকে আটক করে।

 

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here