নবীগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের বলি ৯ মাসের শিশু

0
118

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে দুই শিশু সন্তানকে পুলিশের মাধ্যমে স্ত্রীর নিকট সমজিয়ে দেয়ার প্রায় ৬ ঘন্টা পর কালিয়ারভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ৯ মাসের শিশুপুত্র সীমান্ত ইসলাম ওরফে তাননুর ইসলাম মারা গেছে। সূত্র জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ১২ জানুয়ারি চুরির অভিযোগ এনে তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী বেগমকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে ওইদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। লাভলী বেগমকে গ্রেফতারের সময় তার ২ বছরের শিশুকন্যা তানহা ইসলাম ও ৯ মাসের শিশুপুত্র সীমান্ত ইসলাম ওরফে তাননুর ইসলাম তাদের পিতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নিকট ছিল। গত ১৪ জানুয়ারি লাভলী বেগম জামিনে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তি পাবার পর ১৫ জানুয়ারি তিনি নিজের দুই সন্তানকে স্বামী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধারের আবেদন জানান। তার আশঙ্কা চেয়ারম্যান নজরুল তার দুই সন্তানকে হত্যা করে ফেলতে পারে। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত দুই শিশুকে উদ্ধার করে লাভলী বেগম এর জিম্মায় দেয়ার জন্য নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। আদেশের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ৮টার দিকে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশু তানহা ইসলাম ও তাননুর ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় চেয়ারম্যান নজরুল থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশকে জানান, লাভলী ও তার পিতা-ভাইদের মাধ্যমে তার সন্তানদের ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান নজরুল রাত ১০টার দিকে লাভলী বেগম, তার বাবা লেদু মিয়া, ভাই শেকুল ইসলাম ও শোয়েব ইসলামের মাধ্যমে তার সন্তানদের ক্ষতি হতে পারে উল্লেখ করে থানায় একটি জিডি করেন। রাত প্রায় ১২টার দিকে পুলিশ তানহা ও তাননুরকে লাভলী বেগমের নিকট হস্তান্তর করেন। এদিকে রাতে শিশু তাননুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সকালে শিশু তাননুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ব্যাপারে কলিয়ারভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে পুলিশ আসে। আমি তাদের আসার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, আদালতের নির্দেশে শিশু তানহা ও তাননুরকে উদ্ধার করতে এসেছি। এ সময় আমি আমার আদরের শিশুদের নিয়ে পুলিশের সাথে থানায় যাই। আমি থানায় একটি জিডিও করি। এ অবস্থায় পুলিশ আমার উপস্থিতিতেই আমার প্রিয় দুই সন্তানকে লাভলী, তার পিতা ও ভাইয়ের নিকট সমজিয়ে দেয়। তিনি জানান, আমি লোকমুখে জানতে পারি আমার আদরের ছেলে মারা গেছে। তিনি দাবি করেন- লাভলী তার বাবা, ভাইদের পরামর্শে তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এরপর আমার ছেলের লাশ তারা কি করেছে তাও আমি জানি না।  

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here