প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি সহ অপপ্রচার চালাচ্ছে মাসকাওয়াত আহসান

0
1490

0 (1)সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার এবং কিছু বিচারের রায় কার্য্যকর করার পর থেকে পাকিস্তান অনেকটা প্রকাশ্য এর বিরোধিতা করে আসছে।

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে সেই সাথে জঙ্গীবাদে অর্থ যোগান সহ নানান অপ তত্‍পরতায় পাকিস্থানের প্রত্যক্ষ অংশ নেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচির মালির ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতে স্থায়ী ভাবে বসবাসরত মাসকাওয়াথ আহসান নামক একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিভিন্ন মন্ত্রী, বিজিবির মহাপরিচালক, পুলিশের আইজি, RAB প্রধান সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের ব্যাঙ্গাত্বক ছবি ও আপত্তিকর মন্তব্য সম্বলিত লেখা প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগের মাধমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে মাসকাওয়াথ আহসানের ফেইসবুক আইডি থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল অলম খোকনের ছবি সহ ধারাবাহিক বিষেদাগার প্রচার করা হচ্ছে। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল তার ফেইসবুকে স্টাটাস দিয়ে লিখেছেন, “যে বা যারা আমার আপা শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে ট্রল করে তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। চাকুরির নিকুচি করি। স্ত্রীণশট আছে। প্রয়োজনে আদালতে দৌড়াবো”।

আলোচিত পাকিস্তানের করাচির মালির ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতে স্থায়ী ভাবে বসবাসরত মাসকাওয়াথ আহসানের বিষয়ে অনুসন্ধানে ব্যাপক চমকপ্রদ তথ্যের সন্ধান মিলেছে। একদা বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত থাকার সুবাদে জার্মানির ডয়চে ভেলে রেডিওতে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান মাসকাওয়াথ আহসান। সেখানে থাকা অবস্থায় তার সাথে এক পাকিস্তানি নারী সহকর্মীর পরিচয় থেকে প্রণয়ের সূত্রপাত ঘটে। সেই নারীর পিতা পাকিস্তান সেনা বাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার কট্টর বিরোধী পন্থি সাময়িক অফিসার হিসেবে পাকিস্থানের সাময়িক বাহিনীকে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন।

সেই সুত্রে ধরেই মাসকাওয়াথ আহসানের সাথে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানের জামায়ত ইসলামের একটি সম্পর্ক স্থাপন হয়। জার্মানীর ডয়চে ভেলে রেডিও থেকে তাকে বিভিন্ন অভিযোগে চাকুরী চ্যুত করার পর তিনি ঐ পাকিস্তানি নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর পরই তিনি বিশেষ মিশন নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তায় বিকল্প ধারার মনোনয়নে রাজশাহী-৬ আসন থেকে প্রতিদ্ধন্দিতা করে মাত্র ৫০১ ভোট পেয়ে জামানত হারান। তার সেই নির্বাচনে প্রদত্ব হলফ নামাতে পাকিস্তানের সরাসরি অর্থ সরযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ আছে।

তার নির্বাচনী মিশন ব্যার্থ হওয়ার পর তিনি পাকিস্থানের করাচীর মালির ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকাতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। বর্তমান সরকারের গত আমল থেকে যুদ্ধ অপরাধিদের বিচারের প্রক্রিয়া এবং কিছু বিচারের রায় কার্য্যকরের পর থেকে মাসকাওয়াত আহসান তার ফেইস বুক আইডি এবং বিভিন্ন ভয়েস রেকডিং প্রকাশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্য, আইন মন্ত্রী সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী, বিজিবির মহাপরিচালক, পুলিশের আইজি, RAB প্রধান সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের নামে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।

তার ফেইস বুক আইডিতে চলতি বছরের জানুয়ারির ২৫ তারিখে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেহারাকে বৃটেনের রানী এলিজাবেথের শরীরের সাথে যুক্ত করে লিখেছেন, যায় যাবে যাক প্রাণ রানীমাতা ভগবান। ২০১৪ সালের জুন মাসের একটি Status এ দেখা গেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেহারটিকে বৃটেনের রানী এলিজাবেথের শরীরের সাথে যুক্ত করে লিখা আছে- Long Live the Queen of Bangladesh। সেই একই মাসের ২ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সয়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছবি সহ Status এ তিনি লিখেছেন, সুখবর # বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

মানসিক ভাবে বিভ্রান্ত দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন। ২০১৪ সালের ১১ই নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পবিত্র কোরআন শরীপ পাঠরত অবস্থার একটি ছবির নিয়েও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে Status দিয়েছেন। গত ৭ই এপ্রিল পুলিশের আইজি এবং RAB প্রধানের ছবিকে ব্যাঙ্গাত্বক ভাবে প্রদর্শন করে Status লিখেছেন ”অনুগ্রহ করে জনস্বার্থে নাটক ও চলচিত্রে পুলিশকে ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চরিত্রে চিত্রায়িত করুন। এমনকি যাত্রাশিল্পেও বিবেকের চরিত্রকে পুলিশ চরিত্র দিয়ে প্রতিস্থাপিত করুন”। কিছুদিন পূর্বে রাজধানীতে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিলে পুলিশ কতৃক এক নারী নেত্রীকে আক্রমনের ঘটনাটিকে তিনি ইস্যু বানিয়ে সরকারের ওপর ভিষণ বিষেদগার করে চলেছেন।

এর পর অন লাইনে জনৈকা সুপ্রীতি ধরকে কে বা কাহারা নাকি ”যৌন সন্ত্রাস” করেছেন এমন অভিযোগ তুলে প্রতিদিন লাগাতার নানান ব্যাক্তিকে জড়িয়ে Status দিয়েই চলেছেন। অথচ তার নিজের বিরুদ্ধে দুই কন্যা সহ বাংলাদেশে প্রথম স্ত্রীকে ফেলে রেখে পাকিস্তানে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগও উঠেছে। তার Status গুলোর আরেকটি বিশাল অংশ জুড়ে প্রচন্ড ভারত বিরোধী প্রচারণাও লক্ষ করা গেছে। তবে নজর দাড়ি এড়াতে মাঝে মাঝে জাতীর জনকের ছবি এবং ভাষনের ক্লিপ পোষ্ট করে নিজেকে সুচতুরতার সাথে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন।

অথচ তার Status গুলো ধারাবাহিক ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ আওয়ামী পরিবারের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচারের সুস্পষ্ট তথ্য এখনো তার ফেইস বুকে দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর বিরুদ্ধে আন্ত রাষ্ট্রীয় জঙ্গিবাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ নতুন নয়। পাকিস্থানি সেনা বাহিনী ও তাদের ক্যান্টনমেন্ট গুলোকে কেন্দ্র করে নানান আন্তঃ রাষ্ট্রীয় অপকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে।

পাকিস্তানের এবটাবাদের প্রিমিয়ার মিলিটারি ট্রেনিং একাডেমী সংলগ্ন সুরক্ষিত এলাকায় আল কায়দার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনকেও খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। আর একদা বাংলাদেশী আর এখন বৈবাহিক সূত্রে পাকিস্থানি নাগরিক মাসকাওয়াথ আহসান শুরু করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরদ্ধে অন লাইন অপ প্রচার। সচেতন মহল মনে করেন ঐ মাসকাওয়াথ আহসান ব্যাপারে অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

(Visited 25 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here