পাঠানটুলার বাসার কেয়ারটেকারকে জেল হাজতে প্রেরণ

0
192

9সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকার করেরপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা যুবতীর (৩০) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার জালালাবাদ থানার এসআই প্রদীপ সরকার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ রোববার পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা যুবতীর পরিচয় জানতে পারেনি।

পুলিশ রোববার ময়না তদন্ত শেষে যুবতীর লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মচুয়ারীতে রেখে দিয়েছে। এদিকে, আটককৃত করেরপাড়ার সুফিয়া মঞ্জিল মোহনা বি-৩৮/১ নম্বর ৫মতলা ফ্ল্যাট বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল কাদির’কে (২৫) রোববার পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ধৃত কাদির বিশ্বনাথ উপজেলার গোয়াহরি গ্রামের মৃত চমক আলীর পুত্র।

মামলার বাদী জালালাবাদ থানার উপ পুলিশ পরির্দশক (এসআই) প্রদীপ সরকার জানান, গত ১ এপ্রিল ইজিবাইক (টমটম) চালক পরিচয় দিয়ে মিজান নামের এক ব্যক্তি ৫ তলা বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলার ৪০১ নং ফ্ল্যাটে ভাড়া হিসেবে তার স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করে আসছিলেন। গত মাসের ১৫ তারিখে ওই বাসায় এসে অজ্ঞাত পরিচয় (৩০) ওই যুবতীও থাকতো। গত ২৯ মে সন্ধ্যার সময় ভাড়াটে মিজান স্ত্রী সন্তান মার্কেটে যাওয়ার কথা বলে কেয়ারটেকার কাদিরকে বলে বের হয়ে যান। রাত ১০ টার দিকে মিজান কাদিরকে মুঠোফোনে জানান আজকে তারা রাতে বাসায় ফিরবেন না। পরদিন (৩০ মে) শনিবার সকাল ৮ টার দিকে মিজান কেয়ারটেকার কাদিরকে আবারও ফোনে বলেন- “তোর ভাড়া ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখ কি আছে”।

এ সংবাদ পেয়ে কাদির দ্রুত ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখতে পান ফ্ল্যাটের ভেতরে উত্তর পশ্চিম কোনের রুমে খাটের উপরে একজন অজ্ঞাতনামা যুবতীর লাশ পড়ে রয়েছে। পরে কাদির বাসার লন্ডন প্রবাসী মালিকের স্ত্রীসহ ঘটনাটি অন্যান্য লোকজনকে জানান। পরে ঘটনার খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অজ্ঞাতনামা পরিচয় যুবতীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। এসআই প্রদীপ আরো বলেন, সুরতহাল প্রস্তুতের সময় লাশের গলায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে পুলিশের ধারণা করছে, অজ্ঞাত যুবতী পরিবারের কেউ হবেন।

তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে অন্যরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ভাড়াটে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে বাড়ির কেয়াটেকার আব্দুল কাদিরকে আটক করেছে। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন জানান, রোববার ময়না তদন্ত শেষে নিহত যুবতীর লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মচুয়ারীতে রাখা হয়েছে। যুবতীর কোন স্বজনের সন্ধান পেলে তাদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হবে। তিনি কাদিরের মুঠোফোনটি এ হত্যাকান্ডের আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের ক্লু-উদঘাটনের তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানার এসআই প্রদীপ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে (২২ নং) একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here