বানিয়াচঙ্গে বিয়ে নিয়ে তোলপাড়

0
185

7 (2)সিলেটের সংবাদ ডটকম: বানিয়াচঙ্গে এক প্রেমিক জুটির বিয়ে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মামলার ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রেমিক-প্রেমিকাসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সুযোগে প্রেমিকের মানবশূন্য বাড়ির তালা ভেঙ্গে মালপত্র লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই পরিবারে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাহফুজ ও রোমেনার সহপাঠিরা জানান, জনাব আলী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের পরীক্ষার্থী রোমেনা খানম পপি ও ছাত্রদল নেতা সর্দার আবদুল মুনিম ওরফে মাহফুজের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে।

পপি বিদ্যাভূষণ পাড়ার সৌদি প্রবাসী আবদুর রউফ খা’র একমাত্র কন্যা ও মাহফুজ সংগ্রামরায়ের পাড়ার মৃত সর্দার আবদুল কাইয়ূমের ছেলে। ইন্টারনেটে সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত কাবিননামা ও এফিডেভিট কপি ঘেঁটে দেখা গেছে, গত বছর ৭ আগস্ট হবিগঞ্জ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। ২০ মে হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর কাজী অফিসে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেন। এদিকে গত ২৩ মে পপির ফুফাত ভাই গরীব হুসেন মহল্লার শেখ মহিবুর রহমান বাদী হয়ে বানিয়াচঙ্গ থানায় অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় মাহফুজ ও তার মা রীনা বেগম, ভাই মারুফসহ তার চার বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে পপির বয়স ১৭ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, মাহফুজ দীর্ঘদিন ধরে পপিকে উত্ত্যক্তসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। পপি বরাবরই প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ব্যাপারে মাহফুজের অভিভাবককের কাছে নালিশও করা হয়েছে। কিন্তু অভিভাবকরা তাদের ছেলেকে শাসন না করে উল্টো উস্কানি দিয়েছেন। এমনকি পপিকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করেছে মাহফুজ। গত ২০ মে চিকিৎসা করাতে হবিগঞ্জ শহরে ডাক্তারের কাছে যায় পপি। ডাক্তার দেখিয়ে বিকেলে নিজ বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজিযোগে রওনা দেয়।

শরীফউদ্দিন রোডে সিএনজি গাড়িটি পৌঁছামাত্র মাহফুজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা গাড়ি আটকায়। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সিএনজি গাড়িতে পপিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমার মামা বিদেশে থাকেন। এ ঘটনায় আমার মামি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে রোমেনা খানম পপি অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে দৈনিক খোয়াইকে জানান, তাকে মাহফুজ অপহরণ করেনি। স্কুলজীবন থেকে মাহফুজকে ভালোবেসে আসছেন। তার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেননি। সম্প্রতি তাকে অন্যত্র বিয়ে দিতে জোর চেষ্টা চালান তার অভিভাবকরা। ওইদিন হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজ কেন্দ্রে অর্থনীতি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হন।

পরীক্ষার হলে কিছু সময় কাটিয়ে হল থেকে বের হয়ে কাজী অফিসে গিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি করে মাহফুজের ঘরে চলে যান। মাহফুজকে বিয়ে করার কথা তিনি অভিভাবকদেরকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। মিথ্যা মামলার কারণে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। পপি এ ব্যাপারে সাংবাদিকসহ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। এদিকে মাহফুজের পরিবারের লোকজন মামলার ভয়ে ঘরবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পলাতক রয়েছেন। এই সুযোগে শনিবার রাতে মানবশূন্য বাড়িতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজার তালা ও সিটকিরি ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে রঙিন টিভিসহ মালপত্র লুটে নিয়েছে।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here