বাহুবলে এমপি বাবুই শেষ কথা

0
173

2 (6)সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: হবিগঞ্জের বাহুবলে এমপি এমএ মুনিম চৌধুরী বাবুই শেষ কথা। তিনি যা বলেন, সেটাই আইন। সবাইকে তা মেনে চলতে হয়। তিনি এবং তার লালিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কথার বাইরে এখানে কিছুই হয় না। এ চক্রের কাছে সাধারণ মানুষ ছাড়াও এলাকার প্রতিটি সরকারি অফিসও জিম্মি। তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা দিতে না পারলে কেউ জমি কিনেও তা রেজিস্ট্রি করতে পারে না। দাবি না মেটালে তারা সরকারি অফিসের যে কোনো কাজ থামিয়ে দেয়। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এ চক্রের কথার বাইরে কোনো কাজ করার ক্ষমতা নেই অফিসের কর্মকর্তাদের। থানা, সাবরেজিস্ট্রি ও এসি ল্যান্ড অফিস থেকে শুরু করে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়ায় এসব সন্ত্রাসীরা। আর এমপির নামেই চলে সব কারবার।

এদিকে এমপির ক্যাডার হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহসও দেখান না। রীতিমতো অসহায় সবাই। কেউ সাহস করে প্রতিবাদ জানালে সেখানে চাঁদাবাজ ক্যাডারদের পক্ষ নিয়ে এমপি বাবু নিজেই কর্মকর্তাদের শাসিয়ে দেন। একজন আইনপ্রণেতা হয়ে নিজেই যখন প্রতিনিয়ত আইনবিরোধী কাজ করছেন তখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই। ভুক্তভোগী মহল ও বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নাম ভাঙিয়ে দিনের পর দিন এসব কর্মকাণ্ড করে চলেছেন জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য। এ কারণে এখানে দলটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অভিযোগে জানা গেছে, বাহুবল সাবরেজিস্ট্রি অফিসটি একচ্ছত্রভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি শফিক চৌধুরী, যুব সংহতি সভাপতি মাসুকসহ তাদের লোকজন।

এখানে কেউ জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলেই তাদের টাকা দিতে হয়। আর উপজেলার বাইরের কেউ জমি কিনতে গেলে তো কথাই নেই। মোটা অংকের চাঁদা আদায় ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি করতে দেয়া হয় না। তাদের কথার বাইরে গিয়ে রেজিস্ট্রি করার ক্ষমতা নেই স্বয়ং সাবরেজিস্ট্রারেরও। তিনিও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন। তাদের এসব অপকর্মে সায় দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় এমপি ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু। তিনিও চাঁদাবাজদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রেজিস্ট্রি না করতে সাবরেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। সর্বশেষ গত সোমবারও তিনি এরকম একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। শত চেষ্টা করেও ভুক্তভোগী মহল সেদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে পারেনি। ঘটনার শিকার একজন ভুক্তভোগী বলেন, ১ জুন তিনি তার কোম্পানির ক্রয়কৃত কিছু জমি রেজিস্ট্রি করতে বাহুবল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান। এ খবর পেয়ে এমপি বাবু এবং উল্লিখিত লোকজনের নামে কিছু যুবক এসে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।

তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা রেজিস্ট্রি বন্ধ করে দেয়। অথচ বিষয়টি জানার পর এমপি এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান না নিয়ে উল্টো ফোন করে সাবরেজিস্ট্রারকে জমি রেজিস্ট্রি না করার জন্য সাফ জানিয়ে দেন। প্রতিকার চাইলে এমপি ভুক্তভোগী কর্তৃপক্ষকে জানান, তার ছেলেদের মিষ্টি খাওয়ার পয়সা দিয়ে দিলেই জমি রেজিস্ট্রি করতে পারবে। এ বিষয়ে সাবরেজিস্ট্রার শাহ জামাল মোল্লার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি ফোনে কিছু বলব না। দলিলটি দলিল লেখকের কাছে আছে। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে পারব না। অভিযুক্ত মাসুকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জমির ক্রেতার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। এখানে অন্য ঝামেলা আছে। একই কথা বলেন শফিক চৌধুরীও। এ ব্যাপারে এমপি এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, কিছু মানুষ আমার কাছে অভিযোগ করেছে তাদের জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া হচ্ছে।

সে ক্ষেত্রে এলাকার এমপি হিসেবে বিষয়টি আমাকে দেখতে হয়। এ বিষয়ে জমি ক্রয়কারী কোম্পানির পক্ষে বাহুবলে আসা জনৈক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘এ জমি কেনাবেচা নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো ঝামেলা বা সমস্যা নেই। শতভাগ নিষ্কণ্টক মালিকের কাছ থেকে সব ধরনের নিয়মকানুন অনুসরণ করে জমি কেনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ এড়ানোর জন্য এখন বানোয়াট গল্প বানানো হচ্ছে। মূলত তার লোকজনকে মিষ্টি খাওয়ার টাকা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি হবে না-এমন কথা তো এমপি নিজেই বলেছেন। এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই বলেন, ‘আমি এর কিছুই জানি না। কেউ আমাকে অভিযোগও করেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন হল এখানে এসেছি। তাই বিষয়টি আমি জানি না। কালই (৪ জুন) খবর নেব।

চাঁদাবাজির বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির দীর্ঘকালের সাধারণ সম্পাদক ও দলের প্রবীণ নেতা শংকর পাল বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। যদি কেউ এমন করে তবে অবশ্যই এর প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ছিলাম সেসময় কেউ কোনো অপকর্ম করতে পারেনি। আমরা তা দেখেছি। এখন যারা দায়িত্বে আছেন তাদেরই বিষয়টি দেখা উচিত। প্রসঙ্গত, লন্ডন প্রবাসী এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জেলায় দল থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান। তার নির্বাচনী এলাকা হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন। ওই আসনে অন্য কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরে তিনি দলের জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পান। সুত্র:- যুগান্তর

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here