অবশেষে ভোটার হচ্ছেন ছিটমহলের মানুষ

0
107

2 (11)সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: অবশেষে ভোটার হতে যাচ্ছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। পাবেন নির্বাচন কমিশনের দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড)। যা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের অন্যতম দলিল। এসব এলাকার বাসিন্দাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (নিক)। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই এ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে নিক।

ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার তালিকায় আওতাভুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পৃথক একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে বলে আজ সোমবার নিক সূত্রে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোটার তালিকা নিয়মিত হালনাগাদের কাজ শুরুর বিষয়ে কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, ‘ছিটমহলবাসীকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি।

ছিলমহলবাসীকে ভোটার করার জন্য সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে এবং সরকার বলে দিলেই সেখানে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করা হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থলসীমান্ত চুক্তির দলিল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ছিলমহলবাসীর ভোটার হওয়ার দ্বার খুলেছে। এখন চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল বিনিময় হয়ে গেলেই ছিটমহলবাসীকে ভোটার তালিকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ছিটমহলবাসীকে নাগরিকত্বের অন্যতম দলিল জাতীয় পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আবদুল ওদুদ বলেন, ‘নানা জটিলতায় এত দিন ছিটমহলবাসীকে ভোটার করা সম্ভব হয়নি। এখন ছিটমহল বিনিময় হলেই সেখানে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করা হবে। এ জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। যাতে ছিটমহল বিনিময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিটমহলবাসীকে ভোটার করা যায়। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাই থেকে সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা কয়েক দিন পিছিয়ে আগস্ট মাসে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদে মোট ভোটার সংখ্যা নয় কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫২ জন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ হালনাগাদের কাজ করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এর আগে ছিটমহলবাসীকে ছবিসহ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কয়েক দফা প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসি। ২০০৮ থেকে শুরু করে ২০১২ এবং ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছিল।

তখন মন্ত্রণালয় দুটি জানিয়েছিল, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় এবং চলমান বিষয়ের মধ্যে সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালানাগাদে ছিটমহলবাসীকে অন্তর্ভুক্তিতে সম্মতি দেয়নি দুই মন্ত্রণালয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিনিময়যোগ্য ছিটমহলের সংখ্যা ১৬২টি। ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহলের সংখ্যা ৫১টি, যার মোট আয়তন সাত হাজার ১১০ একর।

এসব ছিটমহলে ১৪ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব ছিটমহলের অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর মধ্যে ৪৭টি কোচবিহার এবং চারটি জলপাইগুড়ি জেলায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ছিটমহলের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬, কুড়িগ্রামে ১২ এবং নীলফামারীতে চারটি। যার মোট আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।

এসব ছিটমহলে ৩৭ হাজার ৩৮৬ জন মানুষ বসবাস করছে। গত ৬ জুন ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে দুই দেশ স্থলসীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে ছিটহলবাসীর দীর্ঘ ৪১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here