শাহজাহানের কোটিপতি হওয়ার কাহিনী (পর্ব-২)

0
1215

50বিশেষ রিপোর্ট: সিলেট মিড়াপাড়া এলাকার সামান্য এক বেকার যুবক। ছিলেন সুরমা মার্কেটের সিল প্যাডের দোকানের কর্মচারি। বাবা ছিলেন সিলেট ক্যাডেট কলেজের গাড়ির ড্রাইভার। আর মা অন্যের বাসায় কাজ করে নানা কষ্ট আর লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে চলতো তাদের পরিবার।

আর আজ তার রয়েছে গাড়ি, বাড়ি, টাকাকড়িসহ বিশাল অর্থের ভান্ডার। পাঠকববৃন্দ যাকে নিয়ে এ লেখা তিনি আর কেউ নন সিলেট শহরের মিড়াপাড়ার সাঈদ আলীর ছেলে শাহজাহান আহমদ। আমাদের ধারাবাহিক পর্বের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আজ লিখছি। বিশ্বস্হ সুত্রে জানা যায়, শাহজাহান ছিলেন সিলেট সুরমা মার্কেটের একটি সিল প্যাডের দোকানের সামান্য বেতনের কর্মচারি।

সুরমা মাকের্টে থাকাবস্হায় শুরু হয় বিদেশে লোক পাঠানোর স্পন্সরের ব্যবসা। জাল কাগজাত তৈরী করে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানো ছিল তার ব্যবসা। তেমনি এক ভোক্তভোগী মিড়াপাড়ার ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার এক মেয়ের জামাইকে বিদেশ পাঠানোর স্পন্সর দেয়ার কথা বলে শাহজাহান টাকা নিয়ে প্রতারনা করে। শাহজাহান ঐ ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার বোনের জামাইকে পাঠিয়ে দেয় লন্ডন।

সুত্র থেকে আরো জানা যায়, শিবগঞ্জ সাদীপুর এলাকার এক লন্ডন প্রবাসীর কাছ থেকে ৩টি স্পন্সর মিড়াপাড়ার জৈনক এক ব্যাক্তির মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা দরে শাহজাহান কিনে নেয়। পরে ঐ ব্যাক্তিকে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে। বাকি টাকা না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে বলে যদি কিছু বলিস তাহলে তোকে প্রানে মেরে ফেলব। এ ঘটনায় মিড়াপাড়ার ঐ ব্যাক্তিকে লন্ডন প্রবাসী জৈনক ব্যাক্তি মামলা দিয়ে টাকা আদায় করে। এরপর থেকে শাহজাহান নিজে শুরু করে জাল স্পন্সর তৈরী। আর তাকে সাহায্য করে শাপলাবাগের ১ নং সড়কের আরেক আদম ব্যবসায়ী দুলাল।

এরপর আর শাহজাহানকে পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। সুত্রমতে শাহজাহানের রয়েছে মেজরটিলার জাহানপুরে ৫ শতক জায়গা। শিবগঞ্জ বাজারে রয়েছে একটি দোকান। যার মুল্য প্রায় দেড়কোটি টাকা। মিড়াপাড়ায় আরো ৪ শতক জায়গার খবর নিশ্চিত করেছে আমাদের সুত্র। সব মিলিয়ে কর্মচারি থেকে আজ শাহজাহান আহমদ কোটিপতি হয়ে আলিশান বাড়িতে আরাম আয়েশে বসবাস করছেন। দামী গাড়ি হাকিয়ে বেড়াচ্ছেন। শাহজাহানের নামে বেনামে রয়েছে আরো অনেক সম্পত্তি। যা অনেকের দৃষ্টির আড়ালে। বিশেষ সুত্র থেকে জানা যায়, শাহজাহান ইদানিং মাদক ব্যবসা নিয়ে ব্যস্হ সময় কাটাচ্ছেন।

মাঝে মধ্যে তাকে সিলেট তামাবিল এলাকায় দেখা যায়। এমনকি তাকে সিলেটের বিভিন্ন বর্ডার এলাকায়ও ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। তবে কি কারনে এসব এলাকায় তিনি যাচ্ছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শাহজাহানের দু’ভাইর মধ্যে এক ভাই সামসাই মিয়ার পিকআপ চালক। আর আরেক ভাই তামাবিল লাইনের লেগুনা চালক। আর শাহজাহান হলেন তথাকথিত সৈয়দ নামের অধিকারী। সুত্র জানায়, একমাত্র মাদক ব্যবসার লক্ষ নিয়ে নাকি তার এসব বেড়ানো।

উল্লেখ্য যে, শাহজাহানের বাবার মুল বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি পরিবার নিয়ে চলে আসেন সিলেটে। তখন শাহজাহান ছিলেন ছোট। বাবা সাঈদ আলী সিলেট এসে সিলেট ক্যাডেট কলেজে সামন্য বেতনে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি নেন। ক্যাডেট কলেজের গাড়ি চালিয়ে কষ্ট আর অভাবের মধ্যে নিজের স্ত্রীর নামে মিড়াপাড়ায় কুটুন বিবির কাছ থেকে ৫ শতক জায়গা কিনে ঘর বানিয়ে দিনযাপন শুরু করেন।

আর ছেলে মেয়ে লেখা পড়া করে মানুষ হবে সেই আশায় শাহজাহান আহমদকে হাতিম আলী স্কুলে ভর্তি করান। শাহজাহান আহমদ হাতিম আলী স্কুল খেকে আন্ডার ম্যাট্রিক পর্যন্ত লেখা পড়া করে বেকার হয়ে পড়েন। তখন বেকারত্ব গোছাতে যোগ দেন অপরাধ জগতের সাথে। এ ব্যাপারে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে শাহজাহানের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে সবার ধারনা। পরবর্তীতে পড়ুন আমাদের সুত্রে পাওয়া খবরের উপর শাহজাহানের মাদক নিয়ে প্রতিবেদন

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here