নবীগঞ্জে ট্রাক-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ : একই পরিবারের ৪ জন নিহত

0
178

35সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ এলাকায় ট্রাক ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকার একই পরিবারের ৪ জন ও জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলার তৈল গ্রামের ১জন সহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সদরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং মোহাম্মদপুর গ্রামের সেনা সদস্য আব্দুল কাদির (৩৫), তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল হামিদ (৬২), তার মা কুলছুমা (৫৫), তার বোন শারমিন আক্তার (১৩), ও প্রাইভেট কারের চালক পাশ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলার তৈল গ্রামের বাসিন্দা শাহ-আলম (৩২)। পরিবার সুত্রে জানা গেছে, সেনা সদস্য কাদির তার মা, বাবা, বৌউ বাচ্ছাদের নিয়ে কুমিল্লা জেলায় এক আত্মীয়’র বাড়ীতে বেড়াতে যায় এবং সোমবার ভোর রাতে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

ভোর ৫ টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সদরঘাট এলাকায় পৌছানো মাত্র সিলেট থেকে আসা পাথরবাহী ঢাকামুখী একটি ট্রাকের সাথে তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই উল্লেখিত ৫জন নিহত হন এবং গুরুতর আহতহন সেনা সদস্য কাদিরের স্ত্রী লায়লা। অলৌকিক ভাবে অক্ষত থাকে ২১মাস বয়সী তাদের শিশু কন্য নুসরাত জাহান লামিয়া। সরজমিন গিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সেনা সদস্য কাদির গত ১২জুন জাতিসংঘ মিশন শেষে ছুটিতে আসে বাড়ীতে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার তাদের নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে মা, বাবা, বোন, স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে কুমিল্লা জেলায় বেড়াতে যায়। সে ২০০০ সালে জাফলং আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে এক যুগ পূর্বে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগ দান করে। তার পিতা আব্দুল হামিদ দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে চাকুরী করে সম্মানের সহিত অবসরে যান। তার ছোটবোন শারমিন ছিল জাফলং আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। তার সংসার জীবনে মাত্র ২১মাস বয়সী এক শিশু কন্যা নুসরাত জাহান লামিয়া।

বর্তমানে তাদের পরিবারে রয়েছে তার একমাত্র ছোট ভাই আব্দুল আজিজ। আজিজ বাড়ীর পাশে পাথর ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছে। তাদের মৃত্যূর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যূর খবরে এলাকার আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে। সবাই শোকাহত হয়ে পড়ে। হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চায়ের স্টল সব জায়গায় একই আলোচনা। প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ নুরুল ইসলাম জানান, অকালে ঝড়ে গেল একটি পরিবার। এই পরিবারের আমাদের পাড়ার মধ্যে খুব বেশী খ্যাতি ছিল। অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য হামিদ ছিলেন আমার বাল্য বন্ধু।

ব্যবসায়ী আলীম উদ্দিন জানান, তাদের এমন অকাল মৃত্যূতে আমরা সবাই শোকাহত। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। পুর্ব জাফলং ইউ.পি.চোয়ারম্যান হামিদুল হক ভুইয়া জানান, আমি ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থল শেরপুর চলে যায় লাশ নিয়ে আসার জন্য। আমার ইউনিয়নের মধ্যে এই পরিবারের সুখ্যাতি ছিল অন্যতম, পরিবারের সকল লোকজন ছিল অত্যন্ত ভদ্র নম্র এক কথায় ভাল মানুষ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ বাড়ীতে পৌছায়নি।

এদিকে তাদের মৃত্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার লুৎফুর রহমান লেবু, গোয়াইনঘাট বিশ্ব-বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, পূর্ব জাফলং ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক ভুইয়া বাবুল, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি মনজুর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিন, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ করিম মাহমুদ লিমন এক বার্তায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং শোকহত পরিবার বর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here