মোজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল

0
128

20সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ছিলো শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে হত্যায় সহযোগিতা করা। একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে আলবদর সদস্যরা সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তাঁর লাশও পরে আর পাওয়া যায়নি।

এই অভিযোগের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, “প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ইত্তেফাক পত্রিকার তৎকালীন কার্যনির্বাহী সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরণ করে আলবদর সদস্যরা, যারা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের ‘ডেথ স্কোয়াড’ ও জামায়াতের ‘অ্যাকশন সেকশন’। একাত্তরের সেপ্টেম্বরে তিনি ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে মূলত পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সমর্থকদের সমালোচনা করেন। একাত্তরের ১৬ সেপ্টেম্বর জামায়াতের মুখপত্র সংগ্রাম পত্রিকায় ‘অতএব ঠগ বাছিও না’ শীর্ষক পাল্টা নিবন্ধ ছাপা হয়।

ওই নিবন্ধে সিরাজুদ্দীন হোসেনকে ‘ভারতের দালাল’, ‘ব্রাহ্মণ্যবাদের দালাল’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্পষ্টতই সিরাজুদ্দীনের লেখনীতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিফলিত হওয়ায় তিনি ঘাতক আলবদর বাহিনীর লক্ষ্যে পরিণত হন। একাত্তরের ২৪ নভেম্বর সংগ্রাম পত্রিকায় আসামির একটি যৌথ বিবৃতি ছাপা হয়, যাতে আসামি (মুজাহিদ) ভারতের দালালদের নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে নারকীয় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। আদালত আরো বলেন, “২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হওয়া ‘কান্ট্রি কুড নট কেয়ারলেস’ শীর্ষক প্রতিবেদন (আসামিপক্ষের নথি) খুঁটিয়ে পড়লে দেখা যায়, যে সশস্ত্র দলটি সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরণ করেছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন মুজাহিদ। ‘নেতৃত্বে থাকা’ মানে সবসময় এটা দেখানোর দরকার নেই যে ঘটনাস্থলে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।

যে ব্যক্তি কর্তৃত্ববাদী অবস্থানে থাকেন, তাঁর নির্দেশনা, আদেশ, উসকানি বা প্ররোচনাও নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে পড়ে। তবে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঘোষিত সংক্ষিপ্ত রায়ে এই অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দেওয়া হয়। যদিও একাত্তরে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করার ষষ্ঠ অভিযোগের সঙ্গে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন হত্যার এই অভিযোগটি একীভূত করে মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, “মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজে পাকিস্তানি সেনা, রাজাকার ও আলবদর ক্যাম্পে মুজাহিদ বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করতেন।

ওই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ষষ্ঠ অভিযোগের মূল্যায়নে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, “আলবদর বাহিনীর নীতিনির্ধারণী অংশে আসামি মুজাহিদের অবস্থান ও আলবদরের কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুজাহিদ নিয়মিত মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজে আলবদরের ক্যাম্পে যেতেন। বিশেষত একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ওই আলবদর ক্যাম্পে চরম হতাশা ও কষ্ট নিয়ে দেওয়া তাঁর শেষ ভাষণে তিনি ছাত্র সংঘের সদস্যদের আলবদরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং তথাকথিত ‘দুষ্কৃতকারী’, ‘ভারতের দালাল’ ‘ইসলামের শত্রু’দের নিশ্চিহ্ন করতে বলেন।

এতে আলবদর বাহিনীতে মুজাহিদের নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থান এবং ব্যাপক মাত্রার নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে প্রমাণিত হয়। রায়ে বলা হয়, “নাৎসী যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইকম্যান নিজ হাতে কাউকে হত্যা করেননি। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন নাৎসী নিধনের মূল কারিগর। আইকম্যান নাৎসী সংগঠন স্টর্ম ট্রুপারস (এসএ), সিকিউরিটি সার্ভিস (এসডি) ও গেস্টাপো বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এই তিনটি বাহিনী ১৯৪৬ সালে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে অপরাধী সংগঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। গেস্টাপো বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইকম্যানের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর ও ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে পত্রিকায় প্রকাশিত অসংখ্য প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, শতাধিক বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে হত্যা করেছিল কুখ্যাত আলবদর বাহিনী।

একাত্তরের ১৯ ডিসেম্বর ইত্তেফাক-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টিভি ও রেডিওর প্রতিনিধিরা মুক্তিযুদ্ধ শেষে মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজের কয়েকটি কক্ষে রক্তের স্রোত ভেসে যেতে দেখেন, সেই সঙ্গে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত অস্ত্রগুলোও পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, ওই কলেজটি ছিল প্রকৃতপক্ষে একটি হত্যাপুরী। এতে প্রমাণিত হয়, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আসামি মুজাহিদ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূণ্য রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আলবদর সদস্যদের উদ্দেশে তাঁর শেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে একক ও যৌথ অপরাধের দায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃত্বের দায় উভয়ই প্রমাণ করতে পেরেছে।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে এ দুটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও ট্রাইব্যুনাল আলাদাভাবে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ট্রাইব্যুনাল বলেন, “সিরাজুদ্দীন হোসেন হত্যাকাণ্ড, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের একটি অংশ। বরং পৃথকভাবে সিরাজুদ্দীন হোসেন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণ হওয়া বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করায় আসামির সম্পৃক্ততার যুক্তিকে আরো জোরদার করে। তবে আদালতে এই অভিযোগের বিরোধিতা করে  মুজাহিদের আইনজীবীরা বেশ কয়েকটি যুক্তি দেন। আসামিপক্ষ বলেছে- “প্রথমত; অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট নয়। মুজাহিদ কবে, কাকে, কিভাবে হত্যা বা অপহরণ করেছেন এর সুনির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ উল্লেখ নাই।

কোন  সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কোথায় এই পরামর্শ হয়েছে সে ব্যাপারেও কোন উল্লেখ নেই। এই পরামর্শের সময় আর কেউ উপস্থিত ছিলো কিনা এই মর্মে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যও দেয়া হয়নি। এই ভাবে অভিযোগ গঠন ১৯৭৩ সালের আইনের পরিপন্থী। ১৯৭৩ সালের আইনের ১৬(গ) ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে আনতে হবে। “দ্বিতীয়ত; ঘটনার শিকার বুদ্ধিজীবী পরিবারের কোন সদস্য, তাদের কারও স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততি ট্রাইব্যুনালে এসে মুজাহিদের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য  দেননি। এই মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রুস্তম আলী মোল্লা। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ১৪ বছর। তার বাবা রহম আলী মোল্লা মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। সে এখনো জীবিত আছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করেনি।

ওই সময়কার অধ্যক্ষ এখনো জীবিত আছেন। তাকেও এই মামলার সাক্ষী করা হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, তৎকালীন কোয়ার্টারে থাকা কোন স্টাফ, অধ্যাপক বা অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিনি এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। প্রাপ্ত বয়স্ক কাউকে এই ঘটনায় সাক্ষী না করে ১৪ বছরের একজন বালককে সাক্ষী করা আইনের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। সে ছিল নাবালক। অধিকন্তু তার বাবা রহম আলী বিভিন্ন টিভি সাক্ষাৎকারে ঘটনার বর্ণনা করলেও মুজাহিদকে তার সাথে সম্পৃক্ত করেননি। “তৃতীয়ত; সাক্ষী জেরায় স্বীকার করে যে, পূর্বে কোন সাক্ষাৎকারে সে বা তার পিতা ১৯৭১ সালে মুজাহিদকে চিনতো, তাকে দেখেছেন এবং মুজাহিদ মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজে যাতায়াত করতেন মর্মে বিটিভি বা পত্রিকায় কোন বক্তব্য দেননি।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে সপ্তম অভিযোগ ছিলো একাত্তরের ১৩ মে সহযোগীদের নিয়ে ফরিদপুর সদর থানাধীন হিন্দু অধ্যুষিত বাকচর গ্রামে হামলা চালানো। সেখানে কয়েকজন হিন্দুকে হত্যা করা হয়, এক হিন্দুর বাড়ি লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ওই হিন্দু পরিবার দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যায়। এ অভিযোগের মূল্যায়নে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী শক্তি সাহার সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে আসামি মুজাহিদ অস্ত্র হাতে অপরাধস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর ইঙ্গিতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এটা কখনোই দাবি করা হয়নি যে মুজাহিদ সেখানে একা ছিলেন, তাঁর সঙ্গে ফরিদপুরের কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির আহ্বায়ক আফজাল, আলাউদ্দিন খাঁ, কালু বিহারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী চিত্তরঞ্জন সাহার সাক্ষ্যে এ বিষয়টি প্রমাণিত। রাষ্ট্রপক্ষের এই দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্মূল করতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। আর বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ওই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মূলত বাসভূমি ত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বা বাধ্য করা হয়েছে। হিন্দুদের দেশান্তর সংঘটিত অপরাধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয় বরং সেটিই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

স্পষ্টতই, ওই ঘটনায় দুটি পৃথক অপরাধ ঘটানো হয়েছে। একটি হিন্দুদের হত্যা, অপরটি হিন্দুদের নিপীড়ন। পদাধিকার বলে আসামির অবস্থান একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃত্বের দায় এবং একক ও যৌথ অপরাধের দায় প্রমাণ করে। এই অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো ট্রাইব্যুনালে। তবে মঙ্গলবার আপিল বিভাগ সেই দণ্ড কমিয়ে মুজাহিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন সংক্ষিপ্ত রায়ে। মুজাহিদের বিরুদ্ধে পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ৩০ আগস্ট নাখালপাড়ার পুরাতন এমপি হোস্টেলে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে যান মুজাহিদ। সেখানে বন্দী সুরকার আলতাফ মাহমুদ, জহির উদ্দিন জালাল, বদি, রুমী, জুয়েল, আজাদকে দেখে তাঁরা গালিগালাজ করেন।

পরে মুজাহিদের পরামর্শ অনুসারে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আগে তাঁদের অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এ অভিযোগের মূল্যায়নে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল ওই ক্যাম্পে আটক ছিলেন। তিনি শুনেছেন, মুজাহিদ ক্যাপ্টেন কাইয়ুমকে বলছেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষণার আগেই বন্দী রুমী, বদি, জুয়েল ও অন্যদের মেরে ফেলতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মনে করেন, একটি নির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি এ ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। সাক্ষ্য বিশ্লেষণে এটাও প্রমাণিত যে বদি, রুমীদের আটক করে আলবদর সদস্যরা থানায় সোপর্দ করে। তাঁদের আটক, নির্যাতন ও হত্যায় আলবদর সদস্যদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

এ জন্য আলবদরের ঊর্ধ্বতন পদাধিকারী মুজাহিদ কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। রুমীদের আটক করার ঘটনা তর্কাতীত, কারণ রুমী স্মারক গ্রন্থ থেকেও তাঁদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সমর্থিত। এই অভিযোগটিতে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মুজাহিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মুজাহিদের বিরুদ্ধে তৃতীয় অভিযোগ হলো, একাত্তরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ফরিদপুরের রথখোলা গ্রামের রণজিৎ নাথকে খাবাসপুর মসজিদের কাছ থেকে ধরে পুরাতন সার্কিট হাউসে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত মুজাহিদের ইঙ্গিতে রণজিৎকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে। তবে রাতে রণজিৎ পালিয়ে যান।

এ অভিযোগের মূল্যায়নে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “সেনাক্যাম্পে মুজাহিদের নিছক উপস্থিতি প্রমাণ করে না যে তিনি অপরাধে সহযোগিতা বা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে ক্যাম্পে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা এটা প্রমাণ করে যে ওই কর্মকর্তাদের ওপর আসামির কর্তৃত্ব রয়েছে। ক্যাম্পে রণজিৎকে দেখে মুজাহিদ বলেন, ‘ইসকো হটাও’। এটা কোনো নির্দোষ উচ্চারণ নয়, বরং এ উচ্চারণ আদেশ বা নির্দেশনা বোঝায়। যদি এটা নির্দোষ উচ্চারণ হত, তবে রণজিৎকে সেনাক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেওয়া হত। বরং এ কথা উচ্চারণের পর তাঁকে নিয়ে অন্য একটি স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী ও ঘটনার শিকার রণজিৎ নাথ নিজে ওই ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষী মীর লুৎফর রহমান ওই সাক্ষ্য সমর্থন করেছেন। রণজিৎকে আটকে রাখার ওই ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আটকে রেখে নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। আর এ অপরাধেই মুজাহিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। বহাল রয়েছে আপিলেও। প্রমাণিত হয়নি দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ: মুজাহিদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ ফরিদপুরের হিন্দু অধ্যুষিত বৈদ্যডাঙ্গি, ভাঙ্গিডাঙ্গি, বালাডাঙ্গি ও মাঝিডাঙ্গি গ্রামে গণহত্যা বা নিপীড়ন এবং চতুর্থ অভিযোগ আবু ইউসুফকে আটকে রেখে নির্যাতন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here