দুই মহিলা মন্ত্রী নিয়ে সংকটে মোদী

0
141

4 (3)সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বর্ষপূর্তির এক মাস না ঘুরতেই দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মহিলা মন্ত্রীকে নিয়ে চরম অস্বস্তিতে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ সুষমা স্বরাজের পর বসুন্ধরা রাজে৷ প্রথম ধাক্কাটা সামলে ওঠার আগেই ললিত মোদি বিতর্ক নয়া মোড় নিল গত মঙ্গলবার৷ সরকার ও দলে ইমেজ সংকটে পড়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ললিত মোদীর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা কিছু নথিতে দাবি করা হলো, ২০১১ সালেই ললিতকে ব্রিটেনের অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে সাহায্য করতে রাজি ছিলেন সে সময় রাজস্থান বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদে থাকা বসুন্ধরা৷

শর্ত ছিল একটাই৷ তার সমর্থনের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো চলবে না৷ ললিত মোদীর তরফে প্রকাশ করা নথিগুলির মধ্যে রয়েছে তার সেই উইটনেস স্টেটমেন্টও৷ যদিও বসুন্ধরার দাবি, এমন কোনো বিবৃতির অস্তিত্ব তিনি জানেন না৷ কিন্তু মঙ্গলবার রাতে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ললিত মোদী দাবি করেন, বসুন্ধরা তার হয়ে সাক্ষ্যপত্রে সই করেন৷ কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে লন্ডনের কোর্টে হাজির না হওয়ায় তা রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি৷

সোমবার ললিত মোদী টুইটারে দাবি করেছিলেন, বিস্ফোরক কিছু তথ্য প্রকাশ করতে চলেছেন তিনি৷ কিন্তু তার আইনজীবী মেহমুদ আবদির সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক কোনো তথ্য সামনে আসেনি৷ তবে তার পর তার আইনজীবী ও জনসংযোগ সংস্থা সংবাদমাধ্যমকে ২৫০ পাতার যে নথি পাঠায়, সেটাই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে৷

ওই নথির মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা রাজের একটি বিবৃতি৷ ২০১১ সালের ১৮ অগস্ট ওই বিবৃতিতে বসুন্ধরা প্রথমেই বলেছেন, ‘ললিত মোদীর করা অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো আবেদনের সমর্থনে আমি এই বিবৃতি দিচ্ছি৷ কিন্তু এই কঠোর শর্তসাপেক্ষে যে, আমার সাহায্যের কথা কোনোভাবেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা হবে না৷ যে সময় এই বিবৃতি, সেটা আইপিএল কেলেঙ্কারি সামনে আসার বছর খানেক পর৷

২০১০ সালে ইন্ডিয়ার জেরায় একবার মাত্র হাজিরা দিয়েই দেশ ছেড়েছেন বিদেশি অর্থ লেনদেন আইন লঙ্ঘন করায় অভিযুক্ত ললিত মোদি৷ ২০১১ সালের মার্চে তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছে ক্ষমতায় থাকা ইউপিএ সরকার৷ সেই অবস্থায় ললিত মোদিকে সমর্থন করা এবং তা নিয়ে এই লুকোচুরির শর্ত স্বাভাবিকভাবেই বিরাট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে৷

আইনের চোখে অভিযুক্ত এক নাগরিককে কী যুক্তিতে সাহায্য করতে রাজি হলেন বসুন্ধরা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ বসুন্ধরা নিজে অবশ্য বলেন, ‘আমি ওদের পরিবারকে অনেক দিন ধরে চিনি৷ কিন্ত্ত আপনারা কোন নথির কথা বলছেন, আমি জানি না৷’ আর বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই বিবৃতি ভুয়ো৷ বসুন্ধরাকে বাঁচাতে তার দল দু’টি যুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে৷ এক, ওই বিবৃতিতে বসুন্ধরার স্বাক্ষর নেই৷

আর দুই, সেটি অসম্পূর্ণ৷ বস্ত্তত, তিন পাতার ওই বিবৃতি আচমকাই শেষ হয়ে গেছে৷ প্রথমে ললিত মোদিকে সমর্থনের শর্তের কথা জানানোর পর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বসুন্ধরা৷ কিন্ত্ত তার মাঝখানেই বিবৃতিটি শেষ হয়ে যায়৷ পরবর্তী পাতায় রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য বিষয়৷ যার সঙ্গে বসুন্ধরার বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই৷ তবে অন্য একটি সূত্রের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে, নথির যে প্রতিলিপি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি ফাইল কপি৷ অর্থাৎ আইনজীবীরা নিজের কাছে যে কপিটি রেখে দেন৷

সেখানে সই না থাকলেও মূল যে কপিটি ব্রিটেনের কর্তৃপক্ষকে জমা দেয়া হয়েছে, সেটি স্বাক্ষরিত হওয়া সম্ভব৷ তা ছাড়া হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই সম্পূর্ণ বিবৃতিটি এখানে প্রকাশ করা হয়নি বলে মনে করছেন কেউ কেউ৷ বসুন্ধরার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এমনও দাবি করেছে, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী নাকি অভিযোগ করেছন, অনুমতি না নিয়েই তাকে ব্যবহার করা হয়েছে৷

বিতর্কের অবশ্য এখানেই শেষ নয়৷ উইটনেস স্টেটমেন্ট নিয়ে চাপান-উতোরের মধ্যেই সামনে চলে আসে বসুন্ধরার একটি ই-মেলও৷ সেটি ওই বিবৃতির প্রায় দুই বছর পরের৷ ব্রিটেনে ললিত মোদির হয়ে কাজ করা আইন সংস্থাকে ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই ই-মেলে বসুন্ধরা জানান, তিনি সাক্ষী দিতে ব্রিটেনে যেতে পারবেন না৷

গোপনীয়তার স্বার্থে ভিডিয়ো স্টেটমেন্টও দেবেন না৷ তার কথায়, ‘আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গত ২ ফেব্র“য়ারি রাজস্থানের রাজ্য সভাপতি হিসেবে আমাকে মনোনীত করেছেন৷ ভোটের প্রচারের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের আমাকে প্রয়োজন হবে৷ এই জরুরি সময়ে আমি রাজস্থানের বাইরে যেতে পারব না…বিষয়টির গোপনীয়তা এবং স্পর্শকাতরতার কথা মাথায় রেখে আমাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, ভিডিও লিঙ্কে আত্মপ্রকাশ করার ঝুঁকিও আমার এড়িয়ে চলা উচিত৷

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রবল রাজনৈতিক আক্রমণের মুখোমুখি বসুন্ধরা রাজে ও তার দল৷ কংগ্রেস তার বিরুদ্ধে প্রায় দেশদ্রোহের অভিযোগ এনেছে৷ দলের নেতা দ্বিগ্বিজয় সিং মন্তব্য করেন, ‘বসুন্ধরা রাজে এমন নির্বুদ্ধিতার কাজ করবেন, এটা আমরা আশা করিনি৷ একজন মুখ্যমন্ত্রী দেশের সরকারের কাছ থেকে তথ্য গোপন করতে চান৷

এই কি তার জাতীয়তাবাদ?’ সংযুক্ত জনতা দল নেতা কে সি ত্যাগী অভিযোগ করেছেন, বসুন্ধরার সঙ্গে ললিত মোদির সম্পর্ক সুবিদিত৷ এর আগে তিনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন রামবাগ প্যালেসে ললিত মোদি নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন ও জমির ডিল করতেন৷

(Visited 10 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here