রোজার আগে প্রস্তুতি

0
158

52সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ‘রোজা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান একমাত্র আমিই দিব’ রোজার তাৎপর্য বোঝাতে মহান আল্লাহ এ বাণী দিয়েছেন। তাই তো মুসলিমরা সুস্থ-অসুস্থ সব অবস্থাতেই রমজানে রোজা পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সুস্থ হলে তো রোজা রাখতে বাধা নেই।

বরং গবেষণায় দেখা গেছে, তা শরীরের জন্য বেশ উপকারী। কিন্তু অসুস্থ থাকলেও যে রোজা পালন করতে পারবেন না, তা নয়। তবে রোজা পালন করার আগে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা রোজা রাখতে পারবেন। তবে যদি ইনসুলিনই হয় একমাত্র চিকিৎসা, তবে না রাখাই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওষুধের মাত্রা কম লাগে। তাই বলে নিজে থেকে ওষুধ কমাবেন না। রোজা শুরুর আগেই আপনারা চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিন।

পেপটিক আলসারে আক্রান্তরা রোজা রাখতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে রোগের অবস্থার ওপর। যদি সমস্যা বেশি হয়, তাহলে রোজা পালন না করাই শ্রেয়। তবে রোজা পালন করতেই পারবেন না, তাও কিন্তু নয়। রোজা রেখে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত খেলে বরং ওষুধ ছাড়াই ভালো থাকা সম্ভব।

এখানে একটি কথা না বললেই নয়, আমাদের দেশের অনেকে আলসারে আক্রান্ত। গ্যাস্ট্রিক নেই এমন লোক পাওয়া যাবে না। এটা কিন্তু ভুল। এটা আলসার নয়। খাদ্যাভাসের ত্রুটির জন্য পেটে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা আসলে আলসার নয়। এমন গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রোজা পালন করলে সুস্থ থাকবেন। যাদের আলসার মানে পেটে ঘা আছে, তারা রমজানের আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে সিদ্ধান্ত নিন।

হৃদরোগী এবং উচ্চরক্তচাপে আক্রান্তরা রোজার মাধ্যমে বেশ উপকার পেতে পারেন। রোজার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ হওয়ার ফলে যারা হৃদরোগে অথবা উচ্চরক্তচাপে ভোগেন, তাদের জন্য রোজা অত্যন্ত উপকারী। এতে শরীরে, বিশেষ করে রক্তনালীর চর্বি হ্রাস পায়, রক্তনালীর এথেরোসেক্লরোসিস কমাতে সাহায্য করে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তারপরও রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন।

কারণ পানি শূন্যতা বাড়ায় এমন ওষুধ থাকলে তা পরিবর্তন করতে পারে আপনার চিকিৎসক। শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগীদের রোজা রাখতে সমস্যা নেই। বরং এ রোগের প্রকোপ কমই থাকে। তবে শ্নাসকষ্ট যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে এ জন্য ওষুধ তো ব্যবহার করতে হবে। রাত্রে এক বার বা দুই বার ঔষধ খেয়ে নেবেন, যা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

এ ধরনের ঔষধ বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। চিকিৎসকের  সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিন। দিনের বেলায় প্রয়োজন পড়লে ইনহেলার জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা যায়, যা রোজার কোনো ক্ষতি করবে না। কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত তারাও রোজা রাখতে সমস্যা নেই। তবে কোনো সিদ্ধান্ত চিকিৎসক ছাড়া নয়। অনেককেই নিয়মিত তিন বেলা ওষুধ সেবন করতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে ডোজ পরিবর্তন করা আবশ্যক। এ কাজটি করতে সহায়তা করবে আপনার চিকিৎসক।

 

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here