স্বপ্নতরী চেয়ারম্যান ফয়েজ-উল কয়েছের বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
247

56সিলেটের সংবাদ ডটকম: প্রতারিত গ্রাহকদের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগে আটক, গ্রেফতার ও কারান্তরীণের পর এবার বহুল আলোচিত সুদী প্রতিষ্ঠান স্বপ্নতরী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান ফয়েজ উল কয়েসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করলেন একই সমিতির পরিচালক সৈয়দ শাহীন আহমদ।

বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেছেন, কীভাবে ফয়জুল প্রতারণা করেছন। তার কথায় সায় না দেওয়ায় তাকে কীভাবে পঙ্গু করে দিয়ে এখন তার পুরো পরিবারকে কোটি টাকার চেকডিজঅনার মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফয়জ উল কয়েসকে আজীবন চেয়ারম্যন করে ২৩ জন পরিচালক নিয়ে স্বপ্নতরী সমবায় সমিতি যাত্রা শুরু করে। ২০১০ সালে নিবন্ধিত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

সমিতির অন্যতম পরিচালক সৈয়দ শাহীন আহমদ। তিনি ২০১২ সালে তার ভাই সৈয়দ মো. আনোয়ারের নামে সমিতি থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এ সময় সমিতির ‘গলাকাটা’ নিয়ম অনুয়ায়ী চেয়ারম্যান ফয়েজ উল কয়েস তার ভাইয়ের পূবালী ব্যাংক লি.-এর ৭৩১২১০১২৮২৭-নং একাউন্ট ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর শাখার ১৯০১০১৪৩৯৩৪ নং একাউন্টের ৪টি ব্যাংক চেক ও জামিনদার হিসেবে পরিচালক শাহীনের ব্র্যাক ব্যাংক সিলেট নগরীর লালদিঘীরপার শাখার শাহীন মিউজিক নামীয় ৬৩০৮২০২২৯৪৪০৬০০০১ নং একাউন্টের দুটি এবং তার ছোটভাই সৈয়দ শাহেদ আহমদের সাউথইস্ট ব্যাংকের ০৯১১০১০০৪২৮৪৩ একাউন্টের দুটি ব্যাংক চেক জমা নেন।

পরবর্তীতে সৈয়দ শাহীন আহমদ তার সমন্ধি রুহেল আহমদেন নামে সমিতি থেকে আরো দুই লাখ টাকা ঋণ নিলে ব্যাংক একাউন্টের আরো ৮টি ব্যাংক চেক জমা নেন চেয়ারম্যান ফয়েজ। এগুলো হচ্ছে, ইস্টার্ণ ব্যাংক শাহজালাল উপশহর শাখার রুহেল আহমদ নামীয় একাউন্ট নং ০৯১১৩৩০০৭৯৪৭৬ এর দুটি, ব্র্যাক ব্যাংক সিলেট নগরীর সুবিদবাজার শাখার একাউন্ট নং- ৬৩০১২০০৯০৬৪১০০০১ এর দুটি, জামিনদার হিসেবে সৈয়দ শাহীন আহমদের স্ত্রী রেজিয়া বেগম নামীয় সাউথইস্ট ব্যাংক একাউন্ট নং-০০১২১০০০০৪৬১ এর দুটি এবং তার অপর সমন্ধি জয়নাল আবেদীনের নামীয় ব্র্যাক ব্যাংক এর দুটি ব্যাংক চেক।

মোট ১৮টি ব্যাংক চেক জমা নিয়ে এর বিপরীতে সৈয়দ শাহীনের ভাই ও তার সমন্ধিকে সমিতি থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে তারা সুদেমূলে সব টাকা পরিশোধ করলেও জমা রসিদসহ চেকগুলো ফেরত দেননি চেয়ারম্যান ফয়েজ। এগুলো জমা রেখে ফয়জুল অন্য ঋণগ্রহীতা সদস্যদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা আদায়ের লক্ষ্যে শাহীনকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে চেকডিজঅনার মামলা দিতে নির্দেশ করেন। তিনি এতে অসম্মতি জানান।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়জুল পরিচালক শাহীনের স্বজনদের জমাকৃত ১৮টি ব্যাংক চেক দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার চেকডিজঅনার মামলা করার হুমকি দেন। সৈযদ শাহীনের অভিযোগ, তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে চেয়ারম্যান ফয়জুল তাকে দিয়ে সমিতির ঋণগ্রহীতা কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ৬টি মিথ্যে চেকডিজঅনার মামলা করান।

এসব মামলার আসামীরা ১ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সুদেমূলে পরিশোধ করার পরও শাহীনকে দিয়ে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৮থেকে ১০লাখ টাকার মামলা করান ফয়জুল। এরপর আর মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ফয়জুল তার উপর ক্ষেপে যান এবং তাকে প্রাণে মারার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে নগরীর শাহজালাল উপশহরস্থ তিব্বিয়া কলেজের সামনের রাস্তায় দলবল নিযে শাহীনের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালান।

সন্ত্রাসীরা তার বাম পা গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর মারপিট করে মৃত ভেবে তাকে সেখানে ফেলে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠালেও এখন তিনি পঙ্গু অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। এ ঘটনায় সৈয়দ শাহীন এসএমপির শাহপরান থানায় মামলা করলে সমিতির চেয়ারম্যান ফয়জুল কয়েস তার কাছে থাকা ১৬ টি ব্যাংক চেক দিয়ে শাহীন ও তার স্বজনদেরকে কোটি কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলার জালে ফেসে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন।

অন্যান্য ঋণ গ্রহীতাদের করা প্রতারনার অভিযোগে সপ্রতি ফয়জুল কয়েস আটক হয়ে জেলে থাকলেও তার অনুগতদের দিয়ে মামলা করানোর প্রস্তুতি নিযেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here