সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত স্বপ্নতরীর কর্তাব্যক্তিরা

0
128

4 (4)সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট প্রেসক্লাবে ‘স্বপ্নতরী বহুমুখী সমবায় সমিতি’র উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হলেন সমিতির কর্তাব্যক্তিরা। সমিতির পরিচালকদের পক্ষে প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলিম উদ্দিন মান্নান।

লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নেরই সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১১ জন পরিচালক মিলে সমিতি গঠন করেছিলেন। প্রত্যেক পরিচালক দিয়েছিলেন ৮-১০ হাজার টাকা করে। বর্তমানে সমিতির মূলধনের পরিমাণ ৩-৪ কোটি টাকা। গ্রাহকদের বিরুদ্ধে ১০৯টি মামলা দায়ের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে কোন মামলা দেয়া হয়নি।

যেসব পরিচালক ঋণ আদায় করতে পারেননি-তারাই ব্যক্তিগতভাবে এসব মামলা দিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ বা দাদন ব্যবসা বলতে যা  বুঝায়- সে ধরণের কোন কার্যক্রমের সাথে এ সমিতি জড়িত নয়। শুধুমাত্র সমিতির সদস্যবৃন্দের মধ্যে ঋণ প্রদান, আর্থিক প্রণোদনা, পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে সমিতির সদস্যদেরকে নিজ নিজ পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত করে আত্মউন্নয়নে সহায়তা করাই এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

আবার লিখিত বক্তব্যের অপর এক অংশে তিনি বলেন, জমরুত মিয়া নামের একজন গ্রাহক খেলাপী ঋণ গ্রহিতা। তার এ পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঋণ কেবল সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তিনি জানান, কোন গ্রাহককে এক লাখ টাকা ঋণ দিলে তাকে এক বছরে আরো ৩২ হাজার টাকা মুনাফা দিতে হয়।

অথচ ২ আগস্ট সিলেট প্রেসক্লাবে সমিতির গ্রাহকদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ সমিতির ঋণ পেতে হলে একজন গ্রাহককে প্রথমে ১৮ হাজার টাকার বীমা করতে। আর প্রতি মাসে মূলধনের বাইরে ৫ হাজার মুনাফা দিতে হয়।

মুনাফার ওপর শতকরা ২০% হিসাবে সমিতির চেয়ারম্যান ফয়েজ উল কয়েসকে দিতে হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ৩ হাজার ২শ’। এর মধ্যে ৭০-৮০ জন খেলাপী। সবমিলিয়ে খেলাপী ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমাদের সংগঠনের উদ্যোক্তা পরিচালকদের একজন ছিলেন নগরীর সাদাটিকরের বাসিন্দা সৈয়দ আশরাফ উদ্দিনের পুত্র সৈয়দ শাহীন আহমদ। তিনি বিভিন্ন সময়ে গত প্রায় ২ বছরে তার নিজ নামে ও সমিতির সদস্য তার আত্মীয় স্বজনের নামে বিপুল অংকের ঋণ গ্রহণ করেন।

এই পরিমাণ মেয়াদান্তে লাভসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। সমিতির শৃংখলা রক্ষায় সমিতির সম্মানিত চেয়ারম্যান ফয়জুল কয়েসসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু আর্থিক সঙ্গতি না থাকার অজুহাতে তিনি বার বার কালক্ষেপন করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে প্রাপ্য টাকার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে তা পরিশোধের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিচালনা পর্ষদ তাকে ৪০ লাখ টাকার স্থলে মাত্র ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের সুযোগ প্রদান করেন এবং বাকী ২৫ লাখ টাকা রেয়াত দিতে সম্মত হন।

এই আলোকে তিনি বিগত ১৭ জুন ২০১৫ ইং তারিখে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, সোহেল আহমদ রিপন, আব্দুর রকিব তুহিন, সালেহা কবির শেপি, সাবেক কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সৈয়দ শাহীন আহমদ সমিতি বরাবরে একটি অঙ্গীকার নামা সম্পাদন করে দেন, যাতে তিনি প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা করে পরিশোধের অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া, তার মাধ্যমে বিতরণকৃত আরো প্রায় ৪১ লাখ টাকা তিনি নিজ দায়িত্বে পরিশোধেরও অঙ্গীকার করেন। কিন্তু, তিনি ঐ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন। প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও তিনি কোন টাকা পরিশোধ করেননি। সমিতির আত্মসাৎকৃত এই বিপুল অংকের অংকের অর্থ ফেরত না দেয়ার হীন মানসে অন্যায়পন্থার আশ্রয় নেন সৈয়দ শাহীন আহমদ।

তিনি জমরুত মিয়া নামের সমিতির খেলাপী এক ঋণ গ্রহীতা, যাকে ২০১০ সালে ঋণ গ্রহণের পর তা পরিশোধ না করায় বহিষ্কার করা হয়, তাকে দিয়ে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে গত ২ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে সমিতির চেয়ারম্যান ও পরিচালকবৃন্দের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছে বলে উল্লেখ করেন কাইয়ুম উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির ৫ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here