দ্য ওরস্ট জার্নি : রাসেল টু রবিউল

0
271

4 (4)দিলরুবা সরমিন: আগস্ট মাসের শুরুতেই লিখেছিলাম শিশু রাসেল বা শিশু সুকান্ত বাবু হত্যার বিচার আমি পাইনি। সপরিবারে জাতির জনক হত্যা মামলার বিচার আর শিশু রাসেল বা সুকান্ত হত্যার বিচার আমার কাছে এক নয়।

কোনোদিনই আমি এক করে দেখি না। একটির উদ্দেশ্য রাজনৈতিক আরেকটি নিষ্ঠুর, অমানবিক, বর্বর, পৈশাচিক। উদ্দেশ্য যেখানে ভিন্ন ফলাফল এক হতে পারে না। তার প্রমাণ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমাদের আজও লবিং করে বেড়াতে হচ্ছে।

কিন্তু শিশু রাসেল বা সুকান্ত বাবুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কি এত দৌড়ঝাঁপ দিতে হতো? ঠিক এই আগস্ট মাসেই পরপর কয়েকটি পৈশাচিক হত্যাকান্ড আবারও আমার কথাকেই সমর্থন করলো। ১৯৭৫ এ শিশু রাসেল বা সুকান্ত বাবু বা মাতৃজঠরে থাকা শিশুটি রক্ষা পায়নি নরপিশাচদের হাত থেকে। অথচ সেই হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং প্রচলিত আইনে। যা হওয়া উচিত ছিল শিশু হত্যা, মাতৃজঠরে ভ্রুণ হত্যার জন্য বিশেষ আইনে এবং বিশেষ আদালতে।

আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আইন অনুযায়ী বয়ঃপ্রাপ্ত অভিযুক্ত এবং আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুকে যেমন একই প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার, রিমান্ড, থানাহাজত, জেলখানা, প্রিজনভ্যান বা আদালতে রাখা যায় না বা আনা যায় না বা বিচার করা যায় না ঠিক তেমনি ভাবেই করার দরকার ছিল। আজ বিশ্ব নেতাদের দরবারে আমাদেরকে শুধুই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফেরত চেয়ে আকুতি জানাতে হবে? কেন আমরা শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী, গর্ভবতী নারী হত্যাকারীদেরকে ফেরত চাই না?

তাহলেই তো বোঝা যেত বিশ্ববিবেকের অবস্থা! আমরা এই ঘটনাগুলোকে আলাদা করতে পারিনি বলেই আজ আমাদের অবস্থা এতটাই করুণ যে, আমার সুস্থ বাচ্চাটি ঘরের বাইরে গিয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবে কিনা এই নিশ্চয়তা আমার-আপনার কারো নেই। এমনকি ঘরের মাঝেও নেই। ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটেই চলেছে। কারও কোনো সাড়া শব্দ নেই। আমরা সাধারণ মানুষ কেবল দেখেই যাচ্ছি আর কষ্টে-যন্ত্রণায় “আহা–-উহু-–ইশ” শব্দগুলো নীরবে-নিভৃতে বা নিজস্ব গন্ডিতে প্রকাশ করেই যাচ্ছি! কিন্তু আসলে কাজের কাজ কী হচ্ছে?

আমাদের নির্বাচিত রাষ্ট ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীনরা যদি নীরবই থাকে তাহলে আমরা যাবো কোথায়? প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে খুন হলো রাজন। ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দেয়া হলো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কী হলো তারপর? কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন? প্রতিবাদ? প্রতিরোধ? কেবল পুলিশ অফিসারদের ক্লোজড করেই সব শেষ? এমনকি দেশের একটা রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক দল- ব্যক্তি, গোষ্ঠীকে দেখলাম না সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে গনগনে কোনো বক্তৃতা দিতে। কাজ তো দূরে থাক।

এরই ফলে নির্মম পরিণতি খুলনার রাকিবের! আমরা মানুষ? মানুষ মানুষকে এভাবে হত্যা করে? বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে বা শেষ সীমাটাও অতিক্রম করে ফেলেছি আমরা গুটিকয় মনুষ্যদেহী। কী তার অপরাধ ছিল? দাসপ্রথার বিলুপ্তি কি আসলেই ঘটেছে? বা দাস যুগেও কি এভাবে কাউকে হত্যা করা হতো? বিজ্ঞানের এই যুগে আমরা সবকিছুই মেনে নিচ্ছি, মানিয়ে নিচ্ছি। তাই রাজন-রাকিবকে বর্বরভাবে হত্যার পর খুনিরা মহোৎসবে হত্যা উৎসব শুরু করলো বরগুনার রবিউলকে দিয়ে আরেক দফা।

হত্যাকারীরা নিজেদের রক্তে এক শিহরণ অনুভব করলো, এক ধরনের উৎসাহ বোধ করতে শুরু করলো, বিশ্বাস করতে শিখলো যে, আসলে তাদের কিছুই হবে না। মাতৃজঠর শিশুর জন্যে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বলেই বিশ্বস্বীকৃত। সেখানেই শিশু ভূমিষ্ট হবার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই প্রচলন শুরু ১৯৭১ সালে।

তাদের সেই অপর্কীতির বিচার শুরু হয়েছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু ১৯৭৫ এ যে শিশুটি ভূমিষ্ট হবার আগেই মৃত্যুবরণ করলো তার বিচার হলো? অথবা সম্প্রতি মাগুরায়? যে শিশুটি মাতৃজঠরে নিশ্চিন্তে ছিল ভূমিষ্ট হবে বলে সে কি বিচার পাবে? ক্ষমতার গ্লামারাস ওয়ার্ল্ড আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? “ভায়োলেন্স বিগেটস ভায়োলেন্স” আমরাকি একেবারেই ভুলে গিয়েছি। লেখক: আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here