বাংলাদেশে ১২ হাজার অবৈধ বিদেশির বসবাস

0
232

00সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বাংলাদেশে বর্তমানে অবৈধভাবে বসবাস করছে প্রায় ১২ হাজার বিদেশি নাগরিক। বিভিন্নভাবে এদেশে প্রবেশ করে তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। অবৈধভাবে বসবাস করা এসব নাগরিকদের বেশিরভাগই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে।

এদের অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অবৈধ ব্যবসা, অবৈধ ভিওআইপি বাণিজ্য, স্বর্ণ এবং ডলার চোরাচালান। এমনকি তারা হত্যাকান্ডে পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছে। গত বছর ঢাকার উত্তরায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যার প্রধান আসামি আলজেরিয়ার নাগরিক আবু উবাইদা কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়। সে ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এদেশে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিল।

পুলিশের হাতে ধরা পরলেও জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসছে তারা। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন কর্মকর্তা জানান, ‘তারা কেউ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পরলেও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে জেলে যাওয়াকে বাছাই করে। এবং খুব শিঘ্রই তারা আবার জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসে ও আগের চেয়ে আরও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে।

পুলিশ এবং আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চালানোর কারণে ৩৭ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে ২৭ জনই জামিন নিয়ে এদেশে বাস করছে এবং বাকিরা জেলে আছে। গত বছর নভেম্বরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে জানান, ১২টি দেশের প্রায় ৫৪৯ জন নাগরিক দেশের বিভিন্ন জেলখানায় রয়েছে। এদের মধ্যে ৭৬ জন বিভিন্ন  মেয়াদে কারাদ- ভোগ করছে। ৩৯৩ জন বিচারাধীন আছে এবং বাকি ৮০ জনকে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অবৈধভাবে বাস করা এসব বিদেশি নাগরিকদের প্রায় অর্ধেকই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের। এসবি কর্মকর্তা আরও জানান, অন্যান্য দেশের মতো এ ব্যাপারে বাংলাদেশে যথাযথ কোন আইন নেই। যারা ধরা পড়ে তাদের নিজের দেশে পাঠানোর জন্য কোন তহবিলও নেই। তাছাড়া বাংলাদেশি আইনে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ব্যতিত কোন বিদেশি নাগরিককে আটক রাখা যায় না। আইন অনুসারে কেউ বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করলে তার সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের জেল অনির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা।

নাম না প্রকাশ শর্তে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (এসসিও) একজন কর্মকর্তা বলেন, এসব বিদেশি নাগরিকদের অনেকেই নিজের জাতীয়তা লুকানোর জন্য পাসপোর্ট এবং বৈধ কাগজপত্র নষ্ট করে ফেলে। এভাবে তারা দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এড়াতে পারে। খুব কম পরিমাণই দেশে ফিরে যেতে চায়।

মিশর এবং মরক্কো ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন দূতাবাস না থাকায় তাদের পরিচয় খুঁজে বের করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে আইন সংশোধন ও অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা জরুরি বলেও তিনি জানান। এসব বিদেশি নাগরিকদের অনেকেই ফুটবল খেলোয়াড়, ছাত্র এবং ভ্রমণকারী হিসেবে এদেশে প্রবেশ করে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এদেশে থেকে যায়।

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here