২৫ বছরের শরণার্থী জীবন অতঃপর প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার লড়াই

0
154

0সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: কেনিয়া আর ফিনল্যান্ডে শরণার্থী শিবিরে ২৫ বছর কাটানোর পর নিজ দেশ সোমালিয়ায় ফিরছেন ফাদুমো দায়িব। যেন তেন কোন কারণে নয়, ৪২ বছর বয়সী এই নারী নিজ দেশে ফিরছেন প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার জন্য। আর জয় নিয়ে খুবই আশাবাদী তিনি।

৪২ বছর নানা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দেয়া দায়িব আরেকটি জায়গাতেও অনন্য। তিনিই দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। চরম পুরুষতান্ত্রিক সোমালিয়ায় ১৪ বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করেন ফাদুমো দায়িব। কঠিন বাস্তবতাকে হার মানিয়ে তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য এর উপর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এখানেই থেমে যাননি তিনি।

হার্ভাড কেনেডি স্কুল থেকে জনপ্রশাসনের উপর আরেকটি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এই নারী। সোমলিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় কৈশোরেই দেশত্যাগ করে কেনিয়ায় চলে আসে দায়িব ও তার পরিবার। এরপর সেখান থেকে ফিনল্যান্ডে চলে যায় তারা। এরপর ২০০৫ সালে জাতিসংঘের হয়ে সংক্ষিপ্ত এক সফরে সোমালিয়া যান ফাদুমো দায়িব। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে অল্পসময়েই আবারো দেশ ছেড়ে চলে আসেন তিনি। কিন্তু কখনোই মাতৃভূমিকে ভুলতে পারেননি চার সন্তানের জননী দায়িব।

সবসময়ই দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন তার। তিনি বলেন, ‘সোমালিয়া আসলে অনেক সমস্যায় জর্জরিত। সবগুলো সমস্যা সমাধানেই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। কিন্তু সবাই শুধু দারিদ্র নিয়েই কথা বলে। গৃহযুদ্ধের ২০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো এর রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। এখনো অনেক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত নাগরিকরা।

দায়িব মনে করেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এখনো দেশটি প্রস্তুত নয়। তিনি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং বেকার সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে দারিদ্র দূর করতে চান। দেশটিতে বেকারত্বের হার ৬৭%। ক্ষুদ্রঋণ ও ছোট ব্যবসার মাধ্যমে এই হার কমানো সম্ভব বলেই বিশ্বাস তার। এছাড়া শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসের ইতিও ঘটাতে চান দায়িব।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দোষগুলো পরিষ্কার না করা পর্যন্ত সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা ঘোষণায় হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন সাহসী এই নারী। কিন্তু তবুও দমে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি। এখনো স্বপ্ন দেখেন দেশে ফিরে মাতৃভূমিকে নতুন করে গড়ার।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here