শুরু হচ্ছে মীর কাসেমের আপিল শুনানি

0
185

0 (3)সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।

রোববার বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আপিল বেঞ্চে মামলাটি শুনানির দিন ধার্যের জন্য রাখা হলেও তা হয়নি। আদালত সূত্র জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ না থাকায় মামলাটি শুনানি হয়নি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকালে এটি হচ্ছে ষষ্ঠ মামলা যা আপিল বিভাগে শুনানির জন্য প্রস্তুত। এর আগে আরো ৫টি মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর মীর কাসেমের পক্ষে তাঁর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল দায়ের করেন। ১৮১টি যুক্তিতে মীর কাসেমের আপিল করা হয়েছে।

১৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে এক হাজার ৭৫০ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। আপিলে মীর কাসেমের দণ্ড বাতিল ও তাঁকে খালাস দেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, ‘ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেমকে সর্বোচ্চ সাজার রায় দিয়েছেন। আসামির আপিলের বিপক্ষে সংক্ষিপ্তসার দাখিল করে আমরা যুক্তিতর্কে অংশ নেব।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গতবছরের ২ নভেম্বর মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে মীর কাসেমকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে (১১ নম্বর) মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ডালিম হোটেলে নির্যাতনের পর রঞ্জিত দাস ও টুন্টু সেনকে হত্যার অভিযোগে (১২ নম্বর) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে গঠন করা ১৪টি অভিযোগের মধ্যে আরও আটটি (২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

নির্যাতনের এসব অভিযোগে মীর কাসেমকে নানা মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছয়টি অভিযোগে সাত বছর করে, একটিতে ২০ বছর ও অপর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চারটি অভিযোগ (১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর) প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হওয়ায় সেগুলো থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো ৫টি মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে।

আপিলের প্রথম রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এর রায় রিভিউ’র আবেদনও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ওই বছর ১২ডিসেম্বর কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর আপিলের দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ। আপিলের তৃতীয় রায়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখার রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামানের রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনও খারিজ করে রায় দেয় সুপ্রিম  কোর্টের আপিল বিভাগ।

গত ১১ এপ্রিল শনিবার রাতে এ ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে কামারুজ্জামান হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি যার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হলো। গত ১৬ জুন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের চূড়ান্ত রায়েও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এখন মুজাহিদের মামলায় আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত ২৯ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ মামলায়ও আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীরা জানান পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে তারা রায় রিভিউর আবেদন করবেন। গত ২৮মে এক আদেশে মীর কাসেম আলীর মামলায় আপিলের সার সংক্ষেপ দাখিলে চার সপ্তাহের সময় দেয় আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিল।

 

 

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here