সিলেট টিলাগড়ে হোটেল বৈশাখীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও পচা-বাসী খাবার

1
1206

9888সিলেটের সংবাদ ডটকম: যেখানে টাকার বিনিময়ে খাবার পাওয়া যায় তাকেই হোটেল বা খাবারের দোকান বলে। ঘরের বাইরে থাকলে, ভ্রমণকালে অথবা অফিস থেকে বাসা দূরে হলে এবং সময় বাঁচাতে হলে নিয়মিত হাতের কাছে খাবার পাওয়া যায় হোটেল বা খাবারের দোকানে। কিন্তু যারা এসব হোটেলে খাচ্ছেন তারা কি জানেন টাকার বিনিময়ে কি খাচ্ছেন বা হোটেল ব্যবসায়ীরা তাদের কি খাওয়াচ্ছে।

অধিকাংশ হোটেলে খাওয়ানো হচ্ছে অপরিস্কার ভেজাল ও পচা-বাসী খাবার। বা হোটেলে বসে খাবারেরও নেই কোন পরিবেশ। তেমনি এক হোটেল হচ্ছে সিলেট টিলাগড় পয়েন্টে অবস্হিত বৈশাখী হোটেল। প্রতিদিন অত্র এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীসহ অসংখ্য লোকসমাগম হয়। আর এ সুযোগে বৈশাখী হোটেলে ভেজাল ও পচা-বাসী খাবার বিক্রি হচ্ছে অবাধে।

আর সে ‍সুযোগে বৈশাখী হোটেলের মালিক হাবিবুর রহমান হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বর্তমানে ভেজাল বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব খাবার খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। টিলাগড় পয়েন্ট সিলেটের সবচেয়ে গুরুত্বর্পু একটি জায়গার নাম। এখানে রয়েছে কলেজ-ভার্সিটিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস ও প্রতিষ্টান। আর এসব কলেজ-ভার্সিটি অফিস প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসেন খাবার খেতে। এরা আবার সবাই সিলেটের বাহির থেকে আগত।

তাই কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। সরেজমিনে দেখা যায়, বৈশাখী হোটেলটির পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশ, পচা-বাসী, ভেজাল খাবার ক্রেতাদের মাঝে পরিবেশন ও বিক্রি করা হচ্ছে। রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় থাকায় মশা-মাছি, ধুলা-বালি পড়ছে অবাধে। দুর্গন্ধ, ময়লা পরিবেশ, রান্না ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।

অথচ হোটেল ব্যবসার জন্য বেশ কিছু নিয়ম-কানুন পালন করতে হয় যেমন- (১) হোটেল ব্যবসায়ীকে প্রথমেই খাবারের মূল্যসহ একটা তালিকা তৈরি করতে হবে যাতে ক্রেতারা এসে খাবারের দাম দেখে তাদের সাধ্য অনুযায়ী খাবার অর্ডার করতে পারে। (২) হোটেলে সব সময় ভালো জিনিস রাখতে হবে।

ক্রেতাদের কাছে কখনও খারাপ জিনিস বিক্রি করা উচিত হবে না। টাটকা মাছ, মাংস, শাকসবজি রান্না করতে হবে। ভালো মানের মসলা ব্যবহার করতে হবে। (৩) দোকান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে যেন হোটেলের আশপাশে স্যাঁত স্যাঁতে না হয়। চেয়ার টেবিল, গ্লাস, প্লেট, চামচ পরিস্কার রাখতে হবে।

দোকানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। একজনের খাবার পর প্লেট গ্লাস ভালো করে পরিস্কার গরম পানি ও গুঁড়া সাবান দিয়ে ধুতে হবে। টেবিল পরিস্কার করে রাখতে হবে। (৪) হোটেলের সর্বত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিস্কার প্লেট, গ্লাস, চামচ, পরিবেশন করতে হবে।

বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু এর কোনটাই মানা হচ্ছেনা এই বৈশাখী হোটেলের ব্যবসা ক্ষেত্রে। আর মাঝে মধ্যে যদি কেউ খাবার বা হোটেলের পরিবেশ নিয়ে কথা বলে তাহলে তার উপর নেমে আসে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন। সুত্র থেকে জানা যায়, এই হোটেলের মালিক হাবিবুর রহমানের রয়েছে সরকারদলীয় কিছু সন্ত্রাসী ক্যাডারদের সাথে আতাত। তারা এই হোটেল থেকে প্রতিমাসে মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন। এই প্রতিবেদন লেখাকালে প্রতিবেদক বৈশাখী হোটেলে গেলে হাবিবকে প্রশ্ন করেন তখন তিনি বলেন, আপনার মন চাইলে খাবার খান আর না হয় খেটে পড়েন।

বেশী বাড়াবাড়ি করলে টিলাগড় থেকে বাসায় যেতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে? তার কথাশুনে মনে হলো সত্যিই তিনি কোন অদৃশ্য শক্তি নিয়ে অবাধে অপরিস্কার ভেজাল ও পচা-বাসী খাবার বিক্রি করছেন। আর সেজন্য তিনি রাতারাতি বনে গেছেন কয়েক লক্ষ টাকার মালিক।

তবে স্হানীয় সুত্র ও বিভিন্ন তথ্য নিয়ে দেখা গেছে হাবিবুর রহমান খুবই পরিচিত তথাকথিত সরকারদলীয় কর্মীর সান্নিধ্যে সবসময় চলাফেরা করে থাকেন। আর সেজন্য হাবিব নিজেকে খুব বড় একজন ব্যবসায়ী তথা নেতা ভাবছেন। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক সালাউদ্দিন চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

(Visited 28 times, 1 visits today)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here