রূপসী বাংলা হোটেল সংস্কারে আমদানি শুল্ক মওকুফের আবেদন

0
190

20সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএসএল) নিয়ন্ত্রণাধীন প্রস্তাবিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সংস্কার কাজে ব্যবহারের জন্য মূলধনী মালামালের ওপর আমদানি শুল্ক মওকুফের আবেদন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন একটি আধা-সরকারি চিঠি পাঠিয়েছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হোটেলটির সংস্কারের কাজ চলছে। অগ্রণী ব্যাংক হোটেলের সংস্কারের জন্য ৪৩২ কোটি টাকা ঋণমঞ্জুর করেছে। হোটেলটি বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিএসএল একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ৯৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

আর সেই কারণেই ওই মন্ত্রণালয় অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠায়। সূত্র জানায়, এটি দেশের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সুনামের সঙ্গে হোটেল পরিচালনা করে আতিথেয়তা এবং পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। হোটেলটি ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা নামে এবং পরে ঢাকা শেরাটন নামে পরিচালিত হয়। ঢাকা শেরাটন হোটেলের পরিচালনাকারী অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষে কোম্পানির নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে হোটেলটি কিছুদিন রূপসী বাংলা হোটেল নামে পরিচালিত হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হোটেলটির ব্যবস্থাপনার জন্য ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বখ্যাত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) পিটিই, লিমিটেডের (আইএইচজি) সঙ্গে বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ৩০ বছর মেয়াদি একটি ব্যবস্থাপনা চুক্তি হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আইএইচজির ব্র্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্জনের জন্য ব্যাপক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগসহ সব ড্রইং, ডিজাইন সম্পন্ন হওয়ার পর ঠিকাদার নিয়োগ শেষে গত মার্চ থেকে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

শিডিউল অনুযায়ী ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হোটেলটি ফের ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা নামে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। অর্থমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও  পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন লিখেছেন, সরকার দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে মানসম্পন্ন হোটেল নির্মাণে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কতিপয় মূলধনী প্রকৃতির যন্ত্রপাতি ও উপকরণ শর্তসাপেক্ষে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক রেয়াত দিচ্ছে।

কিন্ত সংস্কার কাজের আওতায় আমদানিযোগ্য সব মূলধনী মালামালের ওপর শুল্ক ও কর রেয়াত দেওয়া হয়নি। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রথম পাঁচতারা এ হোটেলটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বহু আন্তর্জাতিক অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয় অতিথি, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন সেবা ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। বিএসএল প্রতিবছর গড়ে ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, বিএসএলের মালিকানাধীন রূপসী বাংলা হোটেলের বর্তমান সংস্কার কাজ নতুন নির্মাণের আওতাভুক্ত না হলেও আইএইচজি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন অনুযায়ী ভবনের সামান্য বহিঃকাঠামো ছাড়া সব যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী নতুনভাবে প্রতিস্থাপিত ও সংযোজিত হবে। ফলে রূপসী বাংলা হোটেলের সংস্কার কাজ প্রকৃতপক্ষে একটি নতুন হোটেল নির্মাণ কাজের পর্যায়ভুক্ত।

কিন্তু সংস্কার কাজের আওতায় আমদানিযোগ্য মালামালের ওপর শুল্ক ও কর রেয়াত না দেওয়ায় বিএসএলের নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেলটি সংস্কার কাজের জন্য আমদানিতব্য মালামালের উপর শুল্ক রেয়াত পাওয়ার যোগ্য নয়। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংস্কার কাজের জন্য আমদানিতব্য মালামালের শুল্ক রেয়াত না পাওয়ায় বিএসএল এর সংস্কার ব্যয় অনেক বেশি হবে। অথচ বেসরকারি নতুন হোটেলসমূহ একই মালামাল রেয়াতি শুল্কে আমদানি করে কম নির্মাণ ব্যয়ে নতুন হোটেল  চালু করছে।

ফলে নির্মাণ ব্যয়ের তারতম্যের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিটির লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে। এ অবস্থায় বেসরকারি হোটেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার জন্য সংস্কার কাজে আমদানিতব্য মালামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক মওকুফের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here