ভেজাল ঔষধের হুমকিতে

1
541

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে নকল ও ভেজাল ওষুধ। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অপকর্ম চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে ওষুধ প্রশাসন ও র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিছু অভিযান চালালেও বাকিটা সময় সবাই একেবারে চুপচাপ।

এই অপকর্মে যাদের নাম পাওয়া যাচ্ছে তাদের মধ্যে প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা এবং কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির অনেক নেতাও রয়েছেন। ইতিমধ্যে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় গ্রেফতার হয়েছেন কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির সাবেক এক নেতা। জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নকল বা ভেজাল হলে একজন রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কেমিক্যালের প্রভাবে পঙ্গু বা বিকলাঙ্গ হয়ে যেতে পারেন একজন সুস্থ মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিটফোর্ড এলাকার দুটি গোডাউন থেকে ক্যান্সারের ড্রাগ, টিবির ওষুধ, সেনসোডাইন টুথপেস্টসহ তিন ট্রাক নকল ওষুধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দুই ট্রাক জব্দ করা হয়।

এসব ওষুধের বাজার মূল্য পাঁচ কোটি টাকা। জানা গেছে, ক্যান্সার, কিডনির রোগ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ সবচেয়ে বেশি নকল হয়। এই ওষুধগুলো সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক অভিযানে ডায়াবেটিসের ইনসুলিনে পাওয়া গেছে সাবানের ফেনা। পাশাপাশি স্বল্প মূল্যের ওষুধও নকল হচ্ছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ২৮৭টি প্রতিষ্ঠান ওষুধ তৈরি করছে। এর মধ্যে ৩০-৪০টি প্রতিষ্ঠানের ওষুধ মানসম্পন্ন। যা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু ভেজাল বা নকল ওষুধ নয়, ওষুধের মধ্যে যে যে উপাদান দেওয়ার কথা তাও দেওয়া হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের ওষুধে লেখা থাকছে ৫০০ মিলিগ্রাম। অথচ পরীক্ষার পর দেখা যায় সেটি আসলে ৫০০ মিলিগ্রাম নয়, ২০০ বা সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিগ্রাম। ফলে চিকিৎসকের লেখা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খেয়েও কাজ হয় না। আমাদের আশা, প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

(Visited 11 times, 1 visits today)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here