না দেখেই তোমাকে ভালবেসে যাবো!

0
1423

8

জাহিদ উদ্দিন: আকাশ চাঁদের আলোয় ভরপুর। চাঁদের আলোয় চারিদিক আলোকিত। গভীর রাত্রি।সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। চারিদিকে কোন সাড়া শব্দ নেই। শুধু ঝিঝি পোঁকার শব্দ শুনা যাচ্ছে।

আমার দু’চোঁখ থেকে অঝরে অশ্রু ঝরছে। বুক ফেটে যাচ্ছে কষ্টের বজ্রধ্বনিতে। রাত্রি যেন শেষ হচ্ছে না। চোঁখের অশ্রুতে বালিশ ভিজে গেছে। আগামি কাল ৯মার্চ। ২০১৫ এই দিনটা হয়তো আমাকে সারাজীবন কষ্ট দেবে। কালকের সূর্য আমাকে আলোর বদলে অন্ধকারই দান করবে। নিজে নিজেকেই বলছি, আগামী কালের সূর্য যদি উদয় না হত।

আমার প্রিয় মানুষটাকে হয়তো হারাতাম না। কিন্তু সূর্যকি শুনবে আমার কথ! না শুনবে না। সে তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। কালকের পর থেকে আমাকে কেউ এমন ভালোবাসা মাখা সুরে বলবেনা এই তুমি কি সকালের নাস্তা করেছো?আমি অসুস্থ হলে বলবে না, চিন্তা কর না তুমি সুস্থ হয়ে যাবে ? সারা রাত চোখের কিনারায় ঘুম আসেনি। সারা রাত কষ্টের সাগরে ডুব দিয়ে সকালে সূর্যের আলোর দেখা পেলাম। এই আলো যেন আমার জন্য অন্ধকারের হাতছানি।

যে প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে আমার এই লেখা তার নাম রিয়া জাহান। রিয়াকে ভালবাসি আমি ৪ বছর ধরে। অনেক মেয়েই আমাকে ভালবাসার বাঁধনে জড়াতে চেয়েছিল, কেউ পারেনি, রিয়া আমাকে সেই বাঁধনে জড়িয়ে নিয়েছিল। আজ সে আমার সেই বাঁধন ছেড়ে অন্যের বাঁধনে জড়িয়ে যাবে। আমি এই বাস্তব সত্যটা যেন মেনেই নিতে পারছি না। পরিবারের কথা ভেবে রিয়া আমার ভালবাসার ইতি ঘটাতে যাচ্ছে। পরিবারের সম্মানকেই প্রাধান্য দিতে গিয়ে রিয়া আর আমার এই ত্যাগ।

আমায় বাঁধনকে ছেড়ে যেতে রিয়াও চায়নি। সবার দিকে চেয়ে সে তার কষ্টকে চাপা রেখেছে। আমি রাতেও কোন খাবার খাইনি। সকালে মায়ের অনুরুধে অল্প হালকা নাস্তা করলাম। আমার প্রিয় মা জানেন আমি শারিরিক ভাবে অসুস্থ। হালকা নাস্তা খাওয়া শেষে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে মাথা বালিশে লাগালাম। লাগাতেই দু চোখে বেসে উঠলো রিয়ার ভালবাসা মাখা মুখ। রাতে দু’নয়নে ঘুম আসেনি, তাই রিয়াকে কল্পনা করে করে ঘুমের রাজ্যে ডুবে গেলাম।

মোবাইলে হঠাৎ রিংটোন বেজে উঠলো। আমি রিংটোনের শব্দে ঘুমের রাজ্য থেকে ফিরে এলাম। মোবাইল ইস্কিনে চোখ বোলাতেই দেখি রিয়ার চাচাতো ভাই সুমন আমাকে কল করেছে। কল রিসিভ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কিসের জন্য আমাকে কল করলি? সে জবাব দিল, “জাহিদ ভাইয়া, রিয়া আপু কবুল বলতেছে না। তুমি ছাড়া রিয়া আপুর মুখে কেউ কবুল বলাতে পারবে না। তুমি কিছু কর জাহিদ ভাইয়া। তা না হলে মান-সম্মান বাচানো দায় হয়ে দড়াবে রিয়া আপুর বাবা মায়ের”।

একটা কথা বলা ভাল কবুল হল ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী পুরুষ মহিলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় বৈধ মাধ্যম। তখন আমি সুমনকে বললাম, তোমার রিয়া আপুর কানে ফোনটা ধরে রাখতে, সে ধরে রাখলো, আমি রিয়াকে বললাম যদি তুমি এরকম কর তাহলে আমি বুঝবো তুমি কখনো আমাকে ভালবাসনি। যদি আমাকে সত্যি ভালবাস, তাহলে বিয়েতে সম্মতি দিয়ে দাও। এই বলে আমি কল কেটে দেই। কয়েক মিনিট পর সুমন আমাকে কল করে বলে রিয়া আপু বিবাহের সম্মতি দিয়ে দিয়েছে।

শুনে আমি বাক শক্তি হারিয়ে ফেললাম। সে সময়  আকাশের দিকে মলিন মুখে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। আকাশের সূর্যটাকে অভিমানের সুরে বলেছিলাম, তুমি যদি আজ উদয় না হতে তাহলে আমার প্রিয় মানুষটাকে হারাতে হতনা। সূর্য আমাকে কোন জবাব দেয়নি… প্রায় তিন চার মাস কারো সাথে ভাল করে কথা বলিনি।

মুখে কোন হাসি ছিল না। যে আমি সব সময় হাসিখুশি থাকতাম,দুষ্টুমিতে উস্তাদ ছিলাম, সেই আমি মনমরা হয়ে থাকতাম, সব সময় রিয়ার সাথে জড়ানো স্মৃতিগুলো আমাকে কষ্ট দিত।আমি লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগি ছিলাম,সেই আমার লেখা পড়ায়  কোন মন নেই।

 এভাবে কেটে যায় প্রায় তিন-চার মাস। এরপর কালের আবর্তে সময়ের খেলায় আবারো আমি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠি। আমি রিয়াকে ভালবেসে ছিলাম তার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশায় না বরং আমি রিয়াকে কিছু দেওয়ার জন্যই ভালবেসে ছিলাম। তাইতো আমি তাকে নিঃস্বার্থ ভালবাসা দিয়েছিলাম।

পৃথিবীতে কি শুধু ভালবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্যই ভালবাসে খাঁটি প্রেমিকেরা? না, ভালবাসার মানুষকে দূর থেকে মন উজাড় করে ভালবাসে যাওয়াই আমি মনে করি প্রকৃত ভালবাসার পরিচয়। ভালবাসার মানুষকে সুখি দেখে খুশি হওয়ার নামই ভালবাসা। আমার চাওয়া পাওয়া ত্যাগ করে চেয়েছি সে সুখি হোক। জানি না সে সুখি হয়েছে কি না।

তার জন্য প্রতিদিন প্রার্থনা করি মহান মালিকের দরবারে সে জেন তার নতুন ঠিকানায় ভাল থাকে। জান রিয়া! আজও তোমাকে কল্পনা করে ঘুমের সাগরে ডুব দেই। তোমাকে কল্পনা না করে আমার দু’চোখে ঘুম আসে না। তুমার দেওয়া উপহারাদি আজও যত্ন করে রেখেছি। কারো হাতের স্পর্শ লাগতে দেই না। জানি না আর কোনদিন তোমার সাথে দেখা হবে কি না। আমি বাকি জীবন না দেখেই তোমাকে ভালবেসে যাবো।

(Visited 32 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here