জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনে সাক্ষাৎকার শুরু হচ্ছে

0
884

8

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে আগ্রহী সাতজন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মগেন্স লিকটফট স্বাক্ষরিত এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সংস্থার ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত হবেন।

এবারই প্রথম মহাসচিব পদের প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতদিন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা প্রার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি প্রশ্নোত্তরের সুযোগ পেতেন। মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা আনার জন্যই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব বান কি মুনের দ্বিতীয় মেয়াদ। তার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কে হবেন তাঁর উত্তরসূরি। কোনো লিখিত নিয়ম না থাকলেও ঐতিহ্য অনুসারে আঞ্চলিক আবর্তন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সেই অনুযায়ী, পরবর্তী মহাসচিব পূর্ব ইউরোপ থেকে আসার কথা।

প্রার্থীদের মধ্যে পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার সাবেক হাইকমিশনার আন্তোনিন গুতেরেস ছাড়া বাকি সবাই পূর্ব ইউরোপের। প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে মনোযোগ কেড়েছেন ইউনেসকোর বর্তমান মহাপরিচালক বুলগেরিয়ার ইরিনা বোকভা।

অন্য প্রার্থীরা হলেন মন্টেনেগ্রোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইগর লুকসিচ, সোলভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক, ক্রোয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেসনা পুসিচ, মলদোভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাতালিয়া ঘেরম্যান ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬২তম অধিবেশনের সাবেক সভাপতি মেসেডোনিয়ার স্রাগান কেরিম।

পরবর্তী মহাসচিব যাতে একজন নারী হন, এজন্য একটি সংঘবদ্ধ প্রচারণা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। বান কি মুন নিজেও মনে করেন, এখন একজন নারী মহাসচিব হওয়ার সময় এসেছে। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারী (বোকভা, পুসিচ ও ঘেরম্যান)। অধিকাংশ পর্যবেক্ষক এতদিন পর্যন্ত ধারণা করে এসেছেন, বোকভাই নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

কিন্তু রাশিয়ার মিত্র মলদোভার ঘেরম্যানের প্রার্থিতা ঘোষণার পর অনেকে তাঁকে বিবেচনায় আনতে বাধ্য হচ্ছেন। বোকভা দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রশংসা পেয়েছেন। ফরাসি ভাষা দখলের কারণে ফ্রান্স তাঁকে জোর সমর্থন দেবে। অন্যদিকে ঘেরম্যান নানা ভাষায় দক্ষ হলেও তিনি ফরাসি জানেন না। সেটি তাঁর জন্য একটি খুঁত বলে বিবেচিত হতে পারে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতির ঘোষিত নিয়ম অনুসারে, প্রত্যেক প্রার্থী তাঁদের বক্তব্য পেশ ও সদস্য রাষ্ট্রের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মোট দুই ঘণ্টা সময় পাবেন। যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র একা অথবা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যেকোনো প্রশ্ন করার অধিকার রাখে। পুরো সাক্ষাৎকার পর্বটি সাধারণ পরিষদের অনানুষ্ঠানিক সংলাপ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। ইন্টারনেটে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার করা হবে বলে জানা গেছে।

(Visited 17 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here