পায়ে যন্ত্রনা নিয়ে দু:সহ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন অসীম কান্তি কর

0
2882

U555

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: অসীম কান্তি কর। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক। সিলেট সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র।

বিয়ানীবাজার উপজেলার রমশিদ গ্রামের বাসিন্দা অতুল চন্দ্র’র ইচ্ছে ছিল ছেলেকে লেখাপড়া শিখিযে মানুষের মতো মানুষ করবেন। সেই আশা নিয়ে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন সিলেট সরকারি কলেজে। অসীম কান্তি কর সিলেট সরকারি কলেজ থেকে বিএ (পাস) কোর্স করেছেন।

ছোট বেলা থেকেই অসীম বঙ্গঁবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে আসছিলেন। তার আশা বড় হয়ে একদিন জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধুর গড়া এই স্বাধীন দেশে স্বাধীনতাকামী মানষের জন্য কিছু করবেন। সেই আশা থেকে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের একজন সদস্য হয়ে কাজ করতে থাকেন।

তার ছাত্র রাজনীতিতে একনিষ্ঠ ভুমিকার জন্য তাকে দেয়া হয় সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের সভাপতির পদ। কিন্তু কে জানতো এই পদই তার জন্য কাল হয়ে দাড়াবে। দিনটি ছিল ২০১২ সালের ১৯ নভেম্বর। প্রতিদিনের মতো অসীম সেদিনও নিজের রুমে অবস্হান করছিলেন।

সন্ধ্যায় সিলেট সরকারি কলেজ সংলগ্ন বালুচর ফোকাস আবাসিক এলাকার অসীমের মেসে ৮-১০ জন শিবিরকর্মী ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঢোকে অসীম কান্তি করকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। শিবির ক্যাডারদের হামলায় গুরুতর আহত হন অসীম। তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয় শিবির ক্যাডাররা। ক্ষতিগ্রস্থ হয় অসীমের পায়ের হাড়।

ঐ সময় অসীমকে বাচাতে আসা আরেক ছাত্রলীগ কর্মী রাজুকেও শিবির ক্যাডাররা কুপিয়ে আহত করে ফেলে যায়। রাজু ঐ সময় সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। পরে হাত ও পায়ের রগ কাটা অবস্থায় ছাত্রলীগের দুজন নেতা-কর্মীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসীমের পায়ে অস্ত্রোপচার করার পরও তার অবস্হার অবনতি হলে তাকে পাঠানো হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় অসীমের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা ছেলেকে বাচিয়ে তোলার জন্য সব কিছু শেষ করে দিয়েছেন। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অসীমের চিকিৎসার্থে এক লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়।

অসীম কোন রখম চিকিৎসা সেরে সিলেট ফিরে আসেন। অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে অসীম ফিরে আসলেও তার পায়ে এখনও অসয্য ব্যাথা অনুভব করেন। অসীমের পায়ের হাড় ক্ষতিগ্রস্হ হওয়ায় ধীরে ধীরে তিনি পঙ্গুঁত্বের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে আছে অসীমের অসম্ভব যন্ত্রনা নিয়ে আজও দিন কাটে তার।

৪ টি বছর ধরে সেই বিভীষিকাময় ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন অসীম। শিবির নামধারী সেই রগকাটা বাহিনীর প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিভৎস ক্ষত নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছেন তিনি। তবে আশার আলো হলো এই যদি তিনি উন্নত চিকিৎসা করেন তাহলে তার পা ভাল হয়ে যাবে। তাই ডাক্তারদের পরামর্শ অসীমের পা ভাল করতে হলে তাকে যেতে হবে দেশের বাইরের যে কোন হাসপাতালে।

সেজন্য প্রয়োজন মোটা অংকের টাকা। কিন্তু অসীমের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। তাই অসীম ফের জনদরদী, আওয়ামীলীগের কান্ডারি, জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। অসীমের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তার স্নেহের ঢালি নিয়ে হাত বাড়িয়ে দেবেন।

তাতে উন্নত চিকিৎসা করিয়ে পুরো সুস্থ হয়ে ওঠবেন, এমনটাই চাওয়া অসিমের। সিলেটের সংবাদ ডটকমের সাথে আলাপকালে অসীম কান্তি কর বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি। এ আদর্শ লালনের জন্যই আমাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আমার সুস্থ হয়ে ওঠতে বাইরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

কিন্তু আমার পরিবারের সেই সাধ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি স্নেহ দেখিয়েছেন, আমি আবারও তার স্নেহের পরশ পেতে চাই। অসীম বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে থাকতে চাই আমি। ছাত্রলীগের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি।

(Visited 219 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here