সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত করতে হবে

0
252

দেশ আজ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে, দেশের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যের শপথ নিতে হবে।

জঙ্গি হামলার ভয়ঙ্কর ও নিষ্ঠুরতম এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। দেশে একের পর এক লেখক, অধ্যাপক, প্রকাশক, ব্লগার, বিদেশি, পুরোহিতসহ সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক হত্যাকাণ্ডের পর এবার পাইকারি হারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে অন্ধকারের অপশক্তি। গুলশানের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টে ঢুকে জঙ্গিরা অনেককে জিম্মি করে।

এরপর রাতে ২০ জন বিদেশিকে জবাই করে হত্যার মাধ্যমে তাদের হিংস্র জিঘাংসা চরিতার্থ করে। তার আগে জঙ্গিদের গুলি ও বোমাবর্ষণে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে সেনাবাহিনী পরিচালিত  ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মধ্য দিয়ে জিম্মিদশার অবসান হয়। ঈদ-উল-ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ফের জঙ্গীদের হামলায় নিহত হন ৪জন।

জঙ্গিরা এতদিন বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড চালালেও এবার তারা যে হত্যাযজ্ঞ চালালো সেটি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে বাংলাদেশকে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শক্ত ও জোরালো অবস্থানের পরও কিভাবে এ ধরনের হামলা চালাতে পারলো জঙ্গিরা সেটি গভীর চিন্তার বিষয়। অপারেশনে জঙ্গিরা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেগুলো অত্যাধুনিক।

এছাড়া জঙ্গিদের যথেষ্ট সমর প্রশিক্ষণও রয়েছে। জঙ্গীদের প্রত্যেকটি হামলা যে নিখুঁত পরিকল্পনার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। বিদেশিদের হত্যা করে তারা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাড়তে চেয়েছে। সন্ত্রাসবাদের হিংস্র ছোবল থেকে বাংলাদেশও যে মুক্ত নয় সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর থেকে কঠোরতর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সক্রিয় উদ্যোগের মধ্য দিয়েই জঙ্গিবাদকে রুখে দিতে হবে। সকল শক্তিকে এটা উপলব্ধি করতে হবে যে জঙ্গিবাদের হিংস্র আঘাত থেকে কেউ রক্ষা পাবে না যদি সময়ের কাজ সময়ে না করা হয়।

আমরা জঙ্গি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। স্বজনদের জন্য গভীর সমবেদনা। শোককে শক্তিতে পরিণত করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত করার দৃঢ় শপথ নেওয়াই হবে এই সময়ের করণীয়।

(Visited 11 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here