ভর্তিযুদ্ধে সমন্বয়হীনতা

0
29

শামীমাতুল জান্নাত সানজিদা: প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ফল প্রকাশের পর সারাদেশ বিজয় আনন্দে মেতে ওঠে। বছর বছর বাড়ছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির পরিমাণ। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের প্রায় ৩ মাসের মধ্যে অংশগ্রহণ করতে হয় ভর্তিযুদ্ধে।

প্রায় ৩ মাস আগের বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠা শিক্ষার্থীর মুখ কালো মেঘে ডেকে যায় কাঙ্খিত বুয়েট, মেডিকেল বা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হতে না পেরে। পর্যাপ্ত সিটের অভাবে সকল পরীক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করা সম্ভব হয় না বুয়েট, মেডিকেল বা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোতে।

প্রতি বছর কিছু সংখ্যক সিট বাড়ানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ২০১৫ সালে মোট ১০ লাখ ৬০ হাজার ৬১৪ পরীক্ষার্থীর মাঝে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ জন। ২০১৬ সালে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন। ২০১৬ সালে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ হাজার ২৭৬ জন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী।

শুধুমাত্র জিপিএ-৫ দেরকেই বুয়েট, মেডিকেল বা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোতে স্থান দেওয়া সম্ভব হয়না। তাছাড়া পরিবহন সমস্যা, একই দিনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা যেমন এবার ২০১৬-১৭ সেশনের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে একই দিনে একাধিক ইউনিটের সকাল ও বিকালের ব্যবধানে পরীক্ষা নিয়েছে।

কাছাকাছি দিনে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ হওয়ায় একস্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ছাত্রছাত্রীদের যথেষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়না সকল পরীক্ষার্থীদের। পরবর্তীতে এ সকল পরীক্ষার্থী কাঙ্খিত সিট না পাওয়ায় দেশের প্রায় ৯৫টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজে ভর্তির আবেদন করে।

কিন্তু এ বছর জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে ২০ অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করে যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা শুরুই হয় ২২ অক্টোবর বুয়েট পরীক্ষার মাধ্যমে। ফলে এ বছর বিরাট অংশের শিক্ষার্থী আর্থিক সংকট সহ নানাবিধ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে।

এক সময় শেষ ভরসা হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজ থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে এবং অধিকাংশ পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোর পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা সরকারী কলেজে প্রায় ৫ হাজার টাকা এবং আধা সরকারী কলেজে তার দ্বিগুণ বা কম বেশি টাকা দিয়ে সিট বরাদ্দ করতে বাধ্য হয়। যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে তারা সুযোগ পায় তখন পুনরায় ১ হাজার টাকা বা তার কম বেশ টাকা দিয়ে ভর্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

এতে সময়ের অপচয় এবং বিশেষত শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হল তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বোধগম্য নয়। যেখানে সকল পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় ভর্তির জন্য আবেদন ও নানাবিধ সমস্যার কারণে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা সম্ভব নয় সেখানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় কেন আগে আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করে এবং ভর্তি করে শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করল তা অনেকটা রহস্যজনক।

আর্থিক সমস্যা সহ অতিরিক্ত আত্মবিশবাস এর কারণে কিছু সংখ্যক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেনি এবং ভর্তি হয়নি। কিন্তু তারা যখন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে পুনরায় জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইল তখন দেখা গেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। ফল স্বরূপ উক্ত ছাত্র বা ছাত্রী কোথাও ভর্তি হতে না পেরে হতাশায় ভুগতে থাকে। এর দায়ভার কে নেবে? লেখিকা: অর্থনীতি বিভাগ, সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here