ঘুম ভাঙল সিলেট জেলা ছাত্রলীগের!

0
428

মিজানুর রহমান: হঠাৎ নড়েচড়ে বসল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ! তৎপর হল তারা! সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সক্রিয় হয়ে উঠল কেন? রাজনকে দেখানোর জন্য নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণও রয়েছে?

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য, সিলেট মহানগর যুবলীগ নেতা গোলাম রহমান চৌধুরী রাজনের উপর সন্ত্রাসী হামলার ১০ দিন পর আজ শুক্রবার ১০ ফ্রেব্রুয়ারি সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

]আর সে কারনে ১০ দিন পর তাদের ঘুম থেকে জেগে উঠা নিয়েও শুরু হলো আরেক রহস্য! এর আগে রাজনের উপর হামলার প্রতিবাদে প্রথম মানববন্ধন করে শাপলা সংঘ। সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘এ কেমন মুল্যায়ন’ নামে একটি মন্তব্য প্রকাশ হলে সিলেট এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ একটি মানববন্ধন করে।

এরপর সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘অবশেষে সিলেট ছাত্রলীগের আংশিক বোধদয়’ নামে আরেকটি মন্তব্য প্রকাশ পায়। কিন্তু সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কোন কর্মসুচি গ্রহন করেনি। আজ শুক্রবার সিলেট জেলা ছাত্রলীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। তাই বলতেই হয় অবশেষে ঘুম ভাঙ্গল সিলেট জেলা ছাত্রলীগের।

কিন্তু শুধু মিছিল মিটিং আর মানববন্ধনে মনকে শান্ত করতে পারছেন না রাজন ভক্তরা। এখনও পর্যন্ত আসামীদের বিরোদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় সিলেট ছাত্রলীগের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ-ক্ষোভ বিরাজ করছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অতীত গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে।

জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে। সেই স্বপ্নকে বাধাগ্রস্থ করতে একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল লিপ্ত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজন ভাইয়ের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। প্রথমে অভিনন্দন এই নেতাকে তার বক্ত্রব্যের জন্য।

প্রথমত:- তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অতীত গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এখানে বলতে হয়, সিলেট ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য!

দিত্বীয়ত:- তিনি বলেছেন, জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে। তাহলে বলতে হয় সিলেট ছাত্রলীগ সম্মিলিতভাবে কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে যেসব কর্মকাণ্ড ঘটায়, তার প্রতিটিই অভিনন্দনযোগ্য!

তৃতীয়ত:- তিনি বলেছেন, সেই স্বপ্নকে বাধাগ্রস্থ করতে একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল লিপ্ত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজন ভাইয়ের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এখানে বলতে হচ্ছে এই সন্ত্রাসীরা কারা? আপনার দলের নাকি অন্য কোন দলের?

কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, এই হামলাকারিরাই হচ্ছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারিরা। যে অনুপ্রবেশকারিরা রাজনকে কুপিয়েছে সে দায় নেবে কে? ধন্যবাদ আপনাদের নানবিধ কপট কৌশল বা চাতুর্যের সংমিশ্রণ পলিটিক্সকে।

ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের জন্য মাঝে মাঝে লোক দেখানোর জন্য বলা হয়, অমুক জায়গায় অমুক ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু বহিষ্কার কিছুতেই অপরাধের শাস্তি হতে পারে না। আবার দেখা যায়, ওই বহিষ্কার হচ্ছে নামেমাত্র। সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী বহাল তবিয়তে আছে এবং যথারীতি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগ কি এর দায়ভার নেবেনা? নাকি এসব ব্যাপার নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই? যদি ছাত্রলীগ অথীতের সব ঘটনার সঠিক বিচার করত তাহলে আজ এসব দেখতে হতনা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের।

“কালবেলা” সিনেমার একটা কথা দিয়ে শেষ করব…… “রাজনীতি হলো উচ্চবিত্তদের বিলাসিতা, মধ্যবিত্তদের ওইসব সাজে না। আর যদি করতেই হয় প্রচন্ড পরিশ্রমী, মেধাবী এবং বুদ্ধিমান হওয়া লাগবে। কারন  রাজনীতি হলো “রাজার নীতি”  অথবা “নীতির রাজা”! লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার জন্য সিলেটের সংবাদ ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here