ওসমানীনগর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও নেতাদের নৌকার পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানালেন ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক

2
1395

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ওসমানীনগর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও আওয়ামীলগীগ নেতাদের নির্বাচন থেকে সরে এসে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহবান জানালেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ- সম্পাদক ইশতিয়াক চৌধুরী।

মঙ্গলবার তিনি সিলেটের সংবাদ ডটকমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান। ইশতিয়াক চৌধুরীর লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো:- (ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রদ্ধেয় জগলু ভাই ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ এর সম্মানীত সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই কেন এই প্রতিহিংসার রাজনীতি?

রাজনীতিতে ত্যাগী মনোভাব থাকা উচিত, প্রিয় জগলু ভাই আপনি সারা জীবন নৌকার একজন একনিষ্ট কর্মী আপনি ইতিহাসের সর্ব বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার একজন সাবেক সফল সভাপতি, ১/১১ এর নির্যাতিত নেতা সেই হিসাবে প্রাণ প্রিয় নেত্রী আপনাকে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ এর উপ দপ্তর সম্পাদক হিসাবে ও ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন এ ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নৌকা প্রতিক উপহার দিয়েছিলেন কিন্তু  আপনি কার কান মন্ত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিক নৌকা ছেড়ে দিয়ে চেয়ারম্যান পদে নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন।

ভাই একটু খেয়াল করুন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড.মিসবা উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, প্রাণ প্রিয় নেত্রী আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ৩ বারের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন কিন্তু কখনও নৌকা মার্কার টিকেট দেন নাই। কিন্তু আমরা জানি এড.মিছবা উদ্দিন সিরাজ একজন রাজপথের ছাত্ররাজনীতি থেকে একজন নির্যাতিত নেতা এবং মুজিব আদর্শের একজন পরিক্ষিত সৈনিক।

ভাই দেখুন, আপনারই আসন এর সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী গত নির্বাচন এ জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত কে সম্মান দেখিয়ে নৌকার টিকেট পেয়েও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান এবং নেত্রীর নির্দেশ এ লাঙ্গল এর প্রার্থী কে নির্বাচিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন তিনি। নিজের নিশ্চিত বিজয় জেনেও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান জানিয়ে ত্যাগ শিকার করেছেন।

সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় এড.নাছির উদ্দিন খান ভাই গতকাল এক জনসভায় বলেছেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন এ তারা জেলা আওয়ামীলীগ চেয়ারম্যান পদে ১১ জনের নাম প্রস্তাব করেন। সেখান থেকে মাননীয় নেত্রী যাচাই বাচাই করে বয়েসের দিক বিবেচনা করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আতাউর রহমান কে নৌকা প্রতিক দেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় ওবায়দুল কাদের স্যার বলেন, নেত্রী কে আপনার কথা বল্লে নেত্রী বলেন জগলু এখন ছোট তাই সে ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে এবার নির্বাচন করুক এবং পরের বার চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি কোন ব্যাক্তি বুঝি না আমি নৌকার মান সম্মান বুঝি ।

ভাই এ নৌকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আমানত এই নৌকা বাংলার ১৬ কোটি মানুষের আমানত এই নৌকা জননেত্রী শেখ হাসিনার মান সম্মান এর প্রতিক। আজ যারা ওসমানীনগর এর শ্রদ্ধেয় নেতারা রয়েছেন যারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে আমরা আগামী প্রজন্ম কি শিক্ষা পাব।

মনে রাখবেন আগামীতে আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ টুকু থাকবে না থাকবেনা ত্যাগ এর মনোভাব। এই শিক্ষা আপনারা আমাদের দিচ্ছেন, যারা ব্যাক্তি স্বার্থ চিন্তা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আমানত নৌকা কে অসম্মান করে, নিজেকে আওয়ামীলীগ বলে দাবী করেন! তাদের প্রতি আমাদের কিভাবে শ্রদ্ধাবোধ থাকবে??

মনে রাখবেন আজ যারা দলের সাথে বেইমানী করছেন আমরা আগামী প্রজন্ম আপনাদের বেইমান হিসাবে চিহ্নিত করবে এবং আপনাদের মৃত্যুর পর বলবে আপনারা বেইমান ছিলেন, আর বঙ্গবন্ধু আমানত যারা খেয়ানত করে তারা বেইমােই থাকে। তাই আমি অনুরোধ জানাচ্ছি ওসমানীনগর এর আওয়ামীলীগ এর বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ এর নেতাদের প্রতি প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করুন।

কারন প্রতিহিংসার রাজনীতি কখন রক্ত ছাড়া মঙ্গল বয়ে আনে না। এখনও সময় আছে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কোন ব্যক্তির পক্ষে নয় নৌকার পক্ষে কাজ করে বুঝিয়ে দিন আপনারা আওয়ামীলীগ এর কর্মী, নৌকার কর্মী। মনে রাখবেন ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ বুলেট এর চেয়েও শক্তিশালী সবার মঙ্গল কামনা করি এবং বেয়াদবি হলে সবার ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করি।।। জয় বাংলা,,, জয় বঙ্গবন্ধু

(Visited 10 times, 1 visits today)

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here