Daily Archives: Mar 13, 2017

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট মিড়াপাড়ার সৈয়দ শাহজাহান ও জিয়াউর রহমান সুমনের প্রতারনা ব্যবসার ফাদে পড়ে অনেকে সর্বসান্ত হয়েছেন। যা আমরা আমাদের আগরে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। আজ সৈয়দ শাহজাহান ও জিয়াউর রহমান সুমনের আরো কিছু প্রতারনার ঘটনা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

সৈয়দ শাহজাহান ও জিয়াউর রহমান সুমন কে কি তাদের পরিচয় তা পুর্বের সংবাদগুলোতে রয়েছে। তারপরও সংক্ষিপ্তভাবে কিছু তুলে ধরা হলো। বিশ্বস্হ সুত্রে জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলার টুলটিকর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মিড়াপাড়ার সৈয়দ শাহজাহারে বাবা সৈয়দ আলী আহমেদ ছিলেন সিলেট ক্যাডেট কলেজের গাড়ির ড্রাইভার। তাদের মুল বাড়ি কুমিল্লায়। আর মা অন্যের বাসায় কাজ করে নানা কষ্ট আর লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে চলতো তাদের পরিবার।

সুত্র থেকে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা শেষে সৈয়দ শাহজাহান চলে যান ঢাকার একটি কলেজে, যেটা জঁঙ্গী সম্পৃর্কতার অভিযোগে পরে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখান থেকে সিলেটে ফিরে এসে বেকার হয়ে পড়েন শাহজাহান। এরপর শাহজাহান ছিলেন সিলেট সুরমা মার্কেটের একটি সিল প্যাডের দোকানের সামান্য বেতনের কর্মচারি। সুরমা মাকের্টে থাকাবস্হায় হাতেকড়ি শুরু হয় বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসার।

জাল কাগজাত তৈরী করে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা শুরু করেন শাহাজাহান। আর তাকে সাহায্য করেন শাপলাবাগের ১ নং সড়কের আরেক প্রতারক এমকে জামান উরফে দুলাল। দুলালের সাথে এক হয়ে মানব পাচারের ব্যবসা করে আজ তিনি কোটি পতি। সুত্রমতে শাহজাহানের রয়েছে মেজরটিলার জাহানপুরে ৫ শতক জায়গা। মিড়াপাড়ায় ৪ শতক জায়গা।

সেই সাথে তার রয়েছে চুরির গাড়ির ব্যবসা। সব মিলিয়ে কর্মচারি থেকে কোটিপতি শাহজাহান আহমদ। শাহজাহানের নামে বেনামে রয়েছে আরো অনেক সম্পত্তি। যা অনেকের দৃষ্টির আড়ালে। শাহজাহান একসময় দালালি করে লন্ডন চলে যান। শহীদ নামের একজনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি লন্ডন যান। ঐ শহীদ লন্ডন আগে থেকেই ছিলেন।

শাহজাহান জালিয়াতির মাধ্যমে লন্ডন গিয়ে সেখানেও আশ্রয় নেন জালিয়াতির। এক পর্যায়ে লন্ডনে থাকা শহীদ সৈয়দ শাহজাহানকে বলেন, সিলেট শিবগঞ্জ বাজারে তার একটি দোকান রয়েছে। তিনি দেশে আসলে ঐ দোকান যেন দেখাশুনা করেন। শাহজাহান তার কথায় রাজি হন। এক পর্যায়ে শাহজাহান দেশে এসে তার পাসপোর্টে শহীদ নাম দেখিয়ে ঐ দোকান বিক্রি করে দেন। এদিকে শহীদ ঘটনাটি জানতে পেরে ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন।

সুত্র থেকে জানা যায়, ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরে দোকান জালিয়াতির ঘটনা মিমাংসা হয়। এদিকে আরেক প্রতারক সিলেট সদর উপজেলার ৫নং টুলটিকর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মিড়াপাড়ার নয়াবাড়ি-১১৬/এ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান সুমনের সাথে সৈয়দ শাহজাহানের পরিচয় হয়। তখন শাহজাহান ও সুমন ফন্দি করে শাহজাহান যে বাসায় ভাড়াটে হিসেবে আছেন সেই বাসা দখল করার।

এক পর্যায়ে প্রতারক জিয়াউর রহমান সুমন আরেক প্রতারক শাহজাহানের নিকট বিগত ২০১৫ সালে ২ মার্চ দেবপুর মৌজার এসএ ৯৬, বিএস ৮১, স্হিত ছাপা ৭৮৪ নং খতিয়ান ও নামজারী খতিয়ান নং ৬৫৫৫, বর্তমান জরিপী ডিপি ২৭৬ নং খতিয়ানের অন্তর্গত সে জরিপী-১৩৭৪ নং দাগ যাহার বর্তমান জরিপী-৫১২১ নং দাগের ২শতক পচাত্তর পয়েন্ট করে শাহজাহান ও তার ভায়রা ফরহাদুর রহমান ফাহাদ মিলে সাড়ে ৫শতক জায়গা জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে ২৩৩৬ ও ২৩৩৭ নং ভুয়া ও জাল দলিল মুলে কোন টাকা পয়সা ছাড়াই বায়না করে নেয়।

মুলত ঐ জায়গার মালিক লন্ডন প্রবাসী ফারুক উদ্দিন। কথা ছিল উভয়ে মিলে জায়গা দখল করে পরে বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিবেন। কিন্তু এর মধ্যে জিয়াউর রহমান সুমনের সাথে সৈয়দ শাহজাহান বনিবনা না হলে সৈয়দ শাহজাহান ঐ বায়না বলে আদালতে একটি মামলা করেন।

এদিকে জিয়াউর রহমান সুমনের সাথে চতুর শাহজাহান আপোষ করে ফের পায়তারা শুরু করে। এবার শাহজাহান ও সমুন মিলে পুকনকে দিয়ে প্রবাসী ফারুক উদ্দিনের বাসা চুরি করায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ফারুক উদ্দিনের বাসায় জায়গার কাগজপত্র পাওয়া যাবে। চলবে…………………………………………………….    

0 105

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাখিমারা বিল থেকে ১৫ কেজি ওজনের পিঠে অ্যান্টেনাযুক্ত একটি কচ্ছপ (কাছিম) জব্দ করা হয়েছে। সোমবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের পাখিমারা বিলে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ওহাব উদ্দিনের হাতে কচ্ছপটি ধরা পড়ে।

পরে তিনি এটি  স্থানীয় শ্রীমন্তকাটি নতুন বাজার মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় জনতা কচ্ছপটি দেখার জন্য মৎস্য আড়তে ভিড় করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিষয়টি খেশরা পুলিশ ফাঁড়িতে জানান তারা।

খেশরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মাজেদ হাওলাদার বলেন, ‘কচ্ছপটি জব্দ করে তালা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ‘কচ্ছপের পিঠে একটি অ্যান্টেনা, একটি জিপিএস ট্রাকার  সেট করা আছে।

কচ্ছপের পিঠে থাকা স্টিকারে D 165337-PO 2791, PROJECT-BATAGUR-BASKA, VIENNA-ZOO, BANGLADESH-2016 STRTRACK লেখা আছে। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, তিনি বনবিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কচ্ছপটি দেখে সিদ্ধান্ত নিবেন কি করা হবে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সন্ত্রাসী হামলায় মিলাদ হোসেন (২৫) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।রোববার (১২ মার্চ) রাতে পৌর শহরের হাসপাতাল পয়েন্ট এলাকায় এ হামলার ঘটনাটি ঘটে।

মিলাদ স্থানীয় পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর এলাকার বাসিন্দা আফু মিয়ার ছেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে স্থানীয় হাসপাতাল এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন হয়েছিল। ওই মাহফিলে জলালপুর গ্রামের মতছির মিয়ার ছেলে ও হবিবপুর আশিঘর গ্রামের আফু মিয়ার ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

সেই সময় স্থানীয় পৌর মেয়র আব্দুল মনাফ ও সমাজ সেবক জিলু মিয়াসহ উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিচারের মাধ্যমে দেখে দিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করলে উভয় পক্ষ মেনে নেন। তবে আপোষ নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় আফু মিয়ার ছেলে মিলাদ হোসেন। তাকে অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসী বাহিনী পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় মিলাদকে স্থানীয় পৌর মেয়র আব্দুল মনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) মইন উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনিমেষ দাস,(সুনামগঞ্জ): কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আবুয়া ও রক্তি নদীতে ফের শুরু হয়েছে দিন-দুপুরে চাঁদাবাজি। নদীর দুটি পয়েন্টে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, টেকেরঘাট, চারাগাঁও শুল্কস্টেশন ও ফাজিলপুর বালুমহাল থেকে ছেড়ে আসা বালি-পাথর, কয়লা মালবাহী বল্কহেড মাঝি, শ্রমিক ও নৌ মালিকেরা এ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুরের ফতেপুর ইউনিয়নের কতিপয় চাঁদাবাজ চক্র এ চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না দিয়ে চাঁদাবাজরা নৌ-শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি ও মারধর করে থাকে।

ইতোপূর্বে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ডিআইজি বরাবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন সুনামগঞ্জ মালবাহী নৌ পরিবহন শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর সভাপতি সফিজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এর প্রেক্ষিতে কিছুদিন চাঁদাবাজি বন্ধ থাকলেও ফের চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের বেপরোয়া আচরণে নৌকার মাঝি, শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনের মাধ্যম তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশার নদীপথ। ওই নদীপথে বাল্কহেডসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলের সময় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একাধিক স্থানে ছোট ছোট ইঞ্জিন নৌকার সাহায্যে চাঁদা আদায় করে চলছে চাঁদাবাজ চক্র।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নৌশ্রমিকরা জানান, চাঁদাবাজদের কথা মতো চাঁদা না দিলে মারপিট করা হয় তাদেরকে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকে এসব চাঁদাবাজরা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা। সুনামগঞ্জ জেলা নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বিন ওয়াহিদ বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করি। পরে কিছু দিন চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবারও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোল্লা মুনির হোসেন বলেন, ‘মামলা দিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন চাঁদাবাজি নেই।

3 503

রাহাত চৌধুরী: এম সি একাডেমির রিইউনিয়ন নিয়ে আসলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। বিভেদ সৃষ্টি করছেন সদ্য গজিয়ে ওঠা অর্থাৎ নেতা বনে যাওয়া চরিত্রহীন কিছু মানুষ। এরা গাছেরটাও চায় নীচেরটাও কুড়ায়।

সেজন্য আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের রি-ইউনিয়ন নিয়ে আত্মঘাতি খেলায় মেতে উঠেছেন। আমি বেশ কিছুদিন অনেকের সাথে আলাপ-আলোচনা করে যা পেয়েছি তা আজ তুলে ধরবো। যাতে মুখোশধারীদের মুখোশ সাধারণ এম সি একাডেমির প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা দেখতে পান।

জানা যায় রিইউনিয়নের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ ইং তারিখের ২৪ মে আফছারুল ইসলাম আফসরের বাসায়। আছসর সাহেব সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা বলতে পারবেন তার মাথা থেকে এ ধরণের পরিকল্পনা আসার কথা নয়। পরিকল্পনার নেপথ্য নায়ক ছিলেন আরেকজন।

তিনি আফছার ভাইকে হাবা টাইপের লোক হিসেবে ঢালরূপে ব্যবহার করেন। দাওয়াতও দেয়া হয় পরিকল্পনাকারীর পছন্দের লোকদের। সিনিওরদের মধ্যে দাওয়াত দেয়া হয় লেখক ফারুক আহমদকে। আমরা যারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করি, তারা কমবেশি সবাই জানি যে, ফারুক সাহেব সাধারণত আঞ্চলিক কোনো কমিটিতে থাকতে চান না।

কিন্তু যে কোনো কাজে নিজের নাম ব্যবহার না করেও সাহায্য সহযোগিতা করেন। রিইউনিয়ের নেপথ্য নায়ক এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করেন। জানা যায় ফারুক আহমদও সে সভায় যান এই শর্তে যে, তিনি কোনো পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত সদস্যদের পিড়াপীড়িতে সভায় সভাপতিত্ব করতে বাধ্য হন। কিন্তু ভাগ্য মূল নেপথ্য নায়কের পক্ষে ছিল না।

তিনি দেরি করে সেদিনের সভায় যাবার কারণে আয়োজনকারী হিসেবে মেজমান আফছারুল ইসলামকে প্রধান করে এক মাসের জন্য একটি আহবান কমিটি গঠন করা হয়। এর কয়েকদিন পরেই ছিল রমজান মাস। তাই শর্ত ছিল ঈদের পরে অর্থাৎ একমাস এ নিয়ে প্রচারণার পরে একটি সভা আহবান করে মূল কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু পত্রিকায় খবরটি আসার পরেই জনাব আব্দুল হাই, হাফিজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, আব্দুল মুমিন চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন হুট করে পূর্ব লন্ডনের আমার গাও রেস্টুরেন্টে ২০১৬ সালের ১ লা জুলাই একটি সভা ডেকে বসেন।

ওদিকে এ খবরটি জানাজানি হবার পরে ফারুক আহমদ, আরিফ মঞ্জুর চৌধুরী মিঠু, আমিনুল ইষরাম রাবেল, আফছরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ অর্থাৎ সবাই চেষ্টাও করেন সভাটি বাতিল স্থগিত করাতে পারেননি। পরে এরা সভায় গিয়েও বিষয়টি বুঝাবার চেষ্টা করেন যে, এটি একটি আহবান কমিটি। কিন্তু সভার আয়োজকরা যুক্তি দেখান যে, যেহেতু একটি ঘরে মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে আহবান কমিটি গঠিত হয়েছে তাই এটাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।

সেজন্য ফোনে লাউড স্পিকার দিয়ে আফছারুল ইসলামের সাথে কথা বলেন সেদিনের সভার সভাপতি জনাব আব্দুল হাই। আফসার সাহেবও শেষ পর্যন্ত জনাব আব্দুল হাই সাহেবের অনুরোধে একটি আহবায়ক কমিটি করার পক্ষে রায় দেন। সভায় উপস্থিত ছাত্রদের মধ্য থেকে জনাব আব্দুল হাইকে আহবায়ক এবং লেখক ফারুক আহমদকে যুগ্ম-আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় ফারুক আহমদ অনুরোধ করেন যে, যেহেতু আফছার সাহেবের ঘরে এ কাজের সূচনা হয়েছে সেজন্য তাকেও তিনি যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে তার সাথে রাখতে চান। একইভাবে সেদিনের সভার আহবানকারী হিসেবে যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে চান হাফিজুর রহমান ও আনোয়ারুল ইসলাম জবা ও আরেফ মঞ্জুর চৌধুরীকেও। এমনকী তার অনুরোধে আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে প্রথম আহবানকারী সাত জনকেও এই আহবায়ক কমিটিতে রাখা হয়।

এভাবেই উপস্থিত সবাইকে নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত হয় প্রথম আহবায়ক কমিটি। খোলা হয় ওয়াস্টআপ গ্রুপ। সভায় বলা হয়েছিল ওয়াট্সআপে যেন রিইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিষয় পোস্ট না করা হয়। কিন্তু এই গ্রুপে সম্ভবত প্রথম লেখাটি পোস্টর করে আমিনুর রহমান নামের মৌলবাদী ঘরানার একজন ছাত্র। তার লেখাটি রিইউনিয়ন সম্পর্কিত না থাকায় পরের দিন যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক আহমদ এ ধরণের লেখা পোস্ট না করতে অনুরোধ করেন।

সাথে সাথে হাফিজুর রহমান এর বিরোধিতা করে লেখেন যে, ফারুক আহমদের এ ধরণের অনুরোধ করার কোনো অধিকার নেই। ব্যাস শুরু হয়ে যায় খেলা। ফারুক আহমদও অজ্ঞাত কারণে চুপ হয়ে যান। তখন সময় বুঝেই সুযোগটা নেন রিইউনিয়নের আসল নেপথ্য নায়ক। তিনি তখন আফছারুল ইসলামকে নীরব থাকতে বলে তাকে আরেক গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করে শাহীন আহমদের মাধ্যমে কাহের মাহমুদুর রহমানকে মধ্যস্ততাকারী বানিয়ে শুরু করেন সমঝোতা নামক আত্মঘাতি খেলা।

পরে এর সাথে যোগ দেন আরও অনেকে। ওদিকে ঈদের পরে আহবায়ক কমিটির একটি সভায় ফারুক চৌধুরী, ফেরদৌস আলম (ওরফে বাঘার মুরগী চুরা), এরা অভিযোগ তুলেন যে, আহবায়ক কমিটির আফছারুল ইসলাম ও তার অনুসারিদের নিয়ে কমিটির সাথে কাজ করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা দাবি করেন যে, তাদেরকে দায়িত্ব দিলে তারা সাইকে এক মঞ্চে নিয়ে আসবেন।

সভায় তখন তাদেরকে সমঝোতার দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর শুরু হয় আফছার ভাইয়ের টালবাহানা, কখনো শরীর অসুস্থ্য, কখনো মেয়ের বিয়ে, কখনো এটা কখনো ওটা অজুহাত দেখিয়ে প্রায় নয় মাস কাটিয়ে দেন তিনি। তারপর এক সময় আহবায়ক কমিটির সাথে কাজ করতে রাজী হন। তখন মঞ্চে উদয় হন নাসিম চৌধুরী। তারা তখন আব্দুল হাই সাহেবকে জানান যে, আফসার গ্রুপের সাথে তাদের সমঝোতা হয়েছে। সভা আহবান করে খবরটি জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চান।

সে সভায় আফসার ভাই এসে একাত্বতার ঘোষনা দেবেন। জানা যায়, আব্দুল হাই সাহেব তাদেরকে সেজন্য ভেনু ঠিক করার জন্য বলেন এবং তারই উপদেশ মতো ২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারী ব্রিক লেইনের সোনার গাও রেস্টুরেন্টে সভা আহবান করা হয়। ওদিকে, মূল নেপথ্য নায়ক দেখলেন আবারও মুরব্বি সাজার সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য জনাব আব্দুল হাই সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে সোনারগাও রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিতব্য সভাকে বানচাল করার জন্য আফসার ভাই ও ফেরদৌস আলম ওরফে বাঘার মুরগী চুরাকে পরামর্শ দেন।

এ নিয়ে বৈঠক বসে আমিনুল ইসলাম রাবেলের ঘরে। সিদ্ধান্ত হয় আব্দুল হাই সাহেব সোনারগাও রেস্টুরেন্টের সভাটি স্থগিত করে তিনি নিজে একটি সভা আহবান করবেন এবং সেই সভায় আফসার ভাই নিজে এসে আহবায়ক কমিটির সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেবেন। তবে শর্ত হল তাকে যুগ্ম-আহবায়ক করতে হবে।

পাশাপাশি মুরগী চোরার মধ্যস্থতায় জনাব নাসিম চৌধুরী ও ফারুক চৌধুরী গংদের সাথে আফসারুল ইসলামের কথা হয় তিনি ১৬ই জানুয়ারির সভায় গিয়ে তাদের সংগে একাত্বতার ঘোষণা দেবেন। হবা আফসার ভাই বুঝতেই পারেনি তাকে কিভাবে আত্মঘাতি খেলা চলছে। কিন্তু কথায় সত্যের ঢুল আপনি বাজে। তাই হঠাৎ করে আফসার ভাই অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে চলে যাওয়ায় তার দুতিয়ামী খেলা বানচাল হয়ে যায়।

আরিয়ানা গ্রুপ খেলাটি বুঝতে পেরে মুরগী চোরা ও আফছারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এইমর্মে সিদ্ধান্ত নেন যে, এই দুইজনকে তারা তাদের কার্যক্রমে আর রাখবেন না। ওদিকে জনাব আব্দুল হাইয়ের অনুপস্থিতির কারণে ওইদিন তমিজুর রহমানরঞ্জুকে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ৯ই জুলাই নর্থ লন্ডনের আরিয়ানা ব্যাংকুইটিক হলে রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।

তখন সম্ভবত মূল বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের সাথে কাহের মাহমুদুর রহমান, রেজাউল ইসলাম বিল্লাহ সহ অনেকেই আফসারুল ইসলামের সঙ্ঘ ছেড়ে দেন। জানা যায়, এই রিইউনিয়ন নাটকে জনাব আব্দুল হাই তার সহযোগী যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমদ, হাফিজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম জবা এবং আরেফ মঞ্জুর চৌধুরীকে কোনো কিছু না জানিয়ে একাই এসব অভিনয় করে যাচ্ছিলেন।

১৬ই জানুয়ারী সোনারগাও রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভার পরে আব্দুল হাই সাহেব আফছারুল ইসলাম এবং ফেরদৌস আলম ওরফে বাঘার মুরগী চুরার পরামর্শে তিনি আহবায়ক এবং আফছারুল ইসলামকে যুগ্ম-আহবায়ক এবং ফারুক আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, হাফিজুর রহমান, তারেক সৈয়দ, শাজাহান চৌধুরী, আরেফ মঞ্জুর চৌধুরী, এনাম উদ্দিন ও শাহীন আহমদকে সদস্য করে আরেকটি কমিটির মাধ্যমে ৬ ফেব্রুয়ারী পূর্ব লন্ডনের ব্লু মুন সেন্টারে একটি সভা ডাকেন।

সভায় গিয়ে দেখা যায় জনাব আব্দুল হাই সাহেব আফছরুল ইসলাম, ফেরদৌস আলম ওরফে বাঘার মুরগী চুর, আরিফ মঞ্জুর চৌধুরী মিঠু, আমিনুল ইসলাম রাবেল, আব্দুল লতিফ, এদেরকে নিয়ে কানাকানি করছেন। এই কানাকানি সভা অনুষ্ঠানের আগে পর্যন্ত ছিল। সভায় ঘোষনা করা হয় যে, এটি পরিচালনা করবেন ও আব্দুল লতিফ। কিন্তু এর মধ্যে বক্তব্য দেয়ার নামে মাইক নিয়ে যায় মুরগী চুরা ফরদৌস আলম।

তিনি তার দীর্ঘ বক্তৃতা শেষ করে সভাপতির অনুমতির কোন তোয়াক্কা না করেই রিইউনিয়ন সম্পর্কিত বিষয়টি সভায় উপস্থিত সদস্যদের কাছে আলোচনার জন্য ছেড়ে দেন। তখন দর্শক সারি থেকে জনাব মিসবা মাসুম প্রশ্ন করেন আগের আহবায়ক কমিটি কি হল। ওটা বাতিল হয়ে গেছে নাকি এখনো আছে? জনাব আব্দুল হাই তখন জবাব দেন সেটার কার্যক্রম আর নেই।

জানা যায়, প্রায় ষাটজন ছাত্রের উপস্থিতিতে আহবায়ক কমিটি গঠিত হলেও কারো সাথে কোনো আলাপ না করে আব্দুল হাই সাহেব একাই সেটি বাতিল করে দেন। এর পরে পুরো সভাটি নিয়ন্ত্রন করে মুরগী চুরা ফরদৌস আলম। একপর্যায়ে সভামঞ্চের দৃশ্যমান বিষয় ছিল সভার সভাপতি আব্দুল হাই সাহেব তার আসন ছেড়ে গিয়ে আবারও কানাকানিতে জড়িয়ে পড়েন।

সভার নিয়ন্ত্রক তখন মি. মুরগী চোর। চলতে থাকে সভাপতিবিহীন লাগামহীন সভা। তখন উপস্থিত অনেককেই বলতে শোনা যায়, সভা পরিচালনার মতো যোগ্যতা যার নাই তাকে কেন সভাপতি করা হল। ওদিকে, সভায় সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হলেন প্রথম সভার সভাপতি এবং দ্বিতীয় সভায় নির্বাচিত যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক আহমদ এবং সভামঞ্চে উপস্থিত শাজাহান চৌধুরীকে কথা বলার কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফারুক সাহেব মাইক ছাড়াই কথা বলেন এবং মঞ্চ ছেড়ে দর্শক সারিতে চলে আসেন।

জানা যায়, এই সুযোগে, সভামঞ্চ থেকে একটি চেয়ার সরিয়ে নেয় মুরগী চোর। তার পর ফারুক সাহেবকে অনুরোধ করতে থাকে মঞ্চে যাবার জন্য। কিন্তু ততক্ষণে তার জন্য আর কোনো চেয়ারই খালি নেই তাই তাকে সামনের সারিতে গিয়ে বসতে হয়। জনাব আব্দুল হাই সাহেবের কানাকানির ফলশ্রুতিতে তখন আরেকটি নাটক মঞ্চস্থ করে মুরগী চোরা ফেরদৌস আলম।

সে সভায় মাইক নিয়ে মঞ্চে বসা আব্দুল হাই, রেহান আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, তারেক সৈয়দ, শাহজান চৌধুরী ও ফারুক আহমদের নাম উপদেষ্টা হিসেবে নাম ঘোষনা। এবং আরিয়ানা গ্রুপের সাথে আলোচনা করে একসাথে রিইউনিয়ন করার জন্য প্রস্তাব করে এবং উপস্থিত সবার কাছে জানতে চায়, প্রস্তাবটিতে সবাই রাজী আছেন কিনা?এতে উপস্থিত সবাই অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন এবং প্রস্তাবটি অনেকটা বাধ্য হয়ে তা মেনে নেন। কারণ, মঞ্চের প্রায় সকলেই ছিলেন সম্মানীত এবং প্রিয়মুখ।

তাই কেউ এ প্রস্তাবের বিরোধীতা করেননি। এই উপদেষ্টাদের মধ্যে জনাব আব্দুল হাই, ফারুক আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম জবা ছাড়া বাকী কেউই এর আগে রিইউনিয়ন বিষয়ক কোনো কাজে জড়িত ছিলেন না। ফলে আগে কী ঘটেছে এ সম্পর্কে তাদের কারো কোন ধারণা ছিল না। সভায় সিদ্ধান্ত হয় এই দিনই ব্রিক লেইনে গিয়ে আরিয়ানা গোষ্ঠীর সাথে সমঝোতা বৈঠক করবেন।

বৈঠকও সেদিন হয়েছিল কিন্তু জনাব আব্দুল হাই ও ফারুক আহমদ, রেহান আহমদ চৌধুরী অজ্ঞাত কারণে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরে আরেকটি সমঝোতা বৈঠক হয় ব্রিক লেইনের সোনাও গাও রেস্টুরেন্টে। জানা যায়, সেখানেও জনাব ফারুক আহমদ ও রেহান আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। সাতজনকে নিয়ে ৬ তারিখের উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হলেও দেখা গেল এই উপদেষ্টার সাথে কাউন্সিলার অহিদ আহমদকে সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই উপদেষ্টা হিসেবে যোগ করা হয়েছে।

তবে এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। জানা যায়, সোনার গাও রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় জনাব অহিদ আহমদ ও জনাব আব্দুল হাইকে দেখার সাথে সাথে পরিবেশটা বদলে যায়। আরিয়ানা গ্রুপের মতে, এম সি একাডেমির রিইউনিয়র দ্বিধাবিভক্তির মূল নেপথ্য নায়ক অহিদ আহমদের নেপথ্য ভূমিকা এবং আব্দুল হাই সাহেবের অযোগ্যতা।

এছাড়া, যারা সমঝোতা করতে চান তারা নিজেরাই বিবাদী গ্রুপের উপদেষ্টা। সে হিসেবে নিরপেক্ষ নন। তারা কী করে সমঝোতা করবেন। শেষ পর্যন্ত জনাব আব্দুল হাই ও জনাব অহিদ আহমদের কারণেই সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়। কিন্তু হাল ছাড়েননি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও জনাব তারেক সৈয়দ। আবারও বৈঠক বসে ব্রিক লেইনে। জানা যায় এই বৈঠকে সৈয়দ নজরুল ও তারেক সৈয়দের বিশেষ অনুরোধে দীর্ঘদিন পরে যোগ দেন জনাব ফারুক আহমদ। কিন্তু সভা চলাকালীন তিনি কোনো কথাই বলেননি, একেবারে নীরব ছিলেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের সভায় তিনি ছিলেন অনেকটা নীরব। তার পর সমঝোতা ভেঙ্গে গেলে আরেফ মঞ্জুর চৌধুরীকে সেক্রেটারী, আফছরুল ইসলামকে ট্রেজারার এবং মুরগীচোরা ফেরদৌসকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করে সভাপতিবিহীন একটি কমিটি করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে মূল নেপথ্য নায়ক সভাপতির পদ অলংকৃত করবেন।

কিন্তু যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম সি একাডেমীর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন হচ্ছে এই সেদিন যে মুরগীচোরা ফেরদৌস গোলাপগঞ্জ হেলপিং হেন্ডসের তহবিল মারার অভিযোগে অভিযুক্ত হল। যে মুরগীচোরা ম্যাগাজিনের নামে কয়েক হাজার পাউন্ড আত্মসাত করে হেলপিং হ্যান্ডের পুরো ইতিহাস বিকৃতি করল তাকে কার স্বার্থে এম সি একাডেমির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের রিইউনিয়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আবারও প্রচার ও প্রকাশনার মতো শুটকীর ভান্ডারের পাহারাদার নিযুক্ত করা হল? ধন্য হোক মুরগীচোরার নেতৃত্বাধীন রিইউনিয়ন।

এবার শুধু দেখার পালা এম সি একাডেমির ইতিহাস বিকৃতি। সবচেয়ে মজার বিষয় হল আফছার ভাই যে একজন হাবা তার প্রমাণও আমরা পেয়ে গেলাম। তিনি যুগ্ম-আহবায়ক হয়েও খুশী হতে পারেননি। অথচ এবার তিনি সভাপতি কিংকা সেক্রেটারী নয়, আরো ছোট পদ ট্রেজারার হিসাবে তিনি খুশী। এতেই প্রমাণীত হল প্রথম সভাটি তার ঘরে অনুষ্ঠিত হলেও রিইউনিয়নের আইডিয়া তার মাথা থেকে আসেনি।

তার পরে আরিয়ানা গ্রুপের একটি সভা হয় বার্মিংহামে। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাফিজুর রহমান এবং লন্ডন থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আহবায়ক কমিটির সদস্য মিনহাজ চৌধুরী। এতে মনে হয় জনাব আব্দুল হাইয়ের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে জনাব ফারুক আহমদ ও মিনহাজ চৌধুরী যেমন নিজেকে ঘুটিয়ে নেন, তেমনি জনাব হাফিজুর রহমানও প্রথম আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি আর সেজন্য বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত আরিয়ানা গ্রুপের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বর্তমানে আরিয়ানা গ্রুপ এবং গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে রিইউনিয়ন করার কাজ করছে। একই সাথে চলছে কলমবাজী। এর মধ্যে জনাব তারেক সৈয়দ ফেইসবুকে রিইউনিয়স সফল না হবার কারণ ব্যাখ্যা করেই চলেছেন। লেখাটি যে তার নয়, অন্য কেউ লিখে দিয়েছে তা পড়লেই বুঝা যায়। তার নামে প্রচারিত এই লেখা থেকে মনে হয় এই রিইউনিয়নের পুরো কৃতিত্ব আফছরুল ইসলামের।

আর যদি এটি তারই লেখা হয়ে থাকে তাহলে বলতেই হবে তিনিও ওই পক্ষেরই লোক। অথচ এই মানুষটির দুমুখী ভূমিকার জন্যই আট থেকে নয় মাস রিইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এমনকী প্রথম আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবেও তিনি আফসারুল ইসলামকে টেনে এনেছেন। অথচ মূল যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন ফারুক আহমদ।

তারই অনুরোধে আফছরুল ইসলামের নাম যোগ করা হয়। এমনকী সৈয়দ সাহেবের লেখায় হাফিজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, আরেফ মঞ্জুর চৌধুরী এদের কারো নাম নেই। জনাব তারেক সৈয়দের লেখায় আরেকটি বিষয় ধরা পড়ে তাহলো, রিইউনিয়ন নিয়ে মারামারির আশংকা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কিন্তু এই আশঙ্কা কেন? অনেকেই বুঝতে পারছেন না।

আপনি একজন সম্মানীত মানুষ হিসেবেই অনুরোধ করব ৯ জুলাই আরিয়ানা ব্যাংকুয়েটিং হলে অনুষ্ঠিতব্য রিইউনিয়নে দয়া করে আসুন। দেখবেন যথাযত সম্মান পবেন। মুগীচোরা বিহীন পরিবেশ তৈরী করতে পারলে আরিয়ানা গ্রুপও আফসার বাহিনীর রিইউনিয়নে যাবে।লেখক:- এমসি একাডেমীর প্রাক্তণ ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত বেশ কয়েকটি গ্রামের একমাত্র কান্দিগাঁও টু লোগাঁও সড়ক বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই মরণ দশা হয় সড়কটির হাল-হকিকত।

গত দুদিনের বৃষ্টিতে সড়কের গর্তে পানি জলাবদ্ধতায় বন্যা সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ। ফলে চরম বিপাকে দিনারপুর পরগনার ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল,কলেজে পড়ুয়া অসংখ্য শিক্ষার্থী সহ কয়েকটি গ্রামের হাজার সাধারণ মানুষ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ার কারণে সিএনজি,রিকশা, কান্দিগাঁও টু লোগাঁও সড়ক দিয়ে যেতে চায় না। অভিযোগ রয়েছে উক্ত সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় কয়েকদিন পর পর সড়কের অনেক স্থানে বড় বড় গর্তে সৃষ্টি হয়ে যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কান্দিগাঁও টু লোগাঁও সড়কের বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই।

এর মধ্যে অল্প বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে কাদা, নর্দমা একাকার হয়ে সড়কটি পানিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি অঞ্চল দিনারপুর পরগণার গজনাইপুর ইউনিয়নের মামদপুর, লোগাঁও, কায়স্থগ্রাম, শিলালেরপুঞ্জি, শেখেরপাড়া, শকংর সেনা, বনগাঁও, কান্দিগাঁও সহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে এবং নবীগঞ্জ উপজেলা যেতে একমাত্র সড়ক।

কান্দিগাঁও টু লোগাঁও সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে বিপাকে পড়েছেন স্কুল কলেজে পড়ুয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীরা। সড়কটিতে বড় বড় গর্তের কারণে দূর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে প্রাণহানীসহ নানা সমস্যায় পরতে হচ্ছে সাধারন মানুষকে। এছাড়া সড়কে যানবাহনগুলো ভাঙ্গার মধ্যে চলাচল কওে আরো গর্তেও সৃষ্টি করছে।

এটা হচ্ছে সড়কের ভাঙ্গার একমাত্র কারন। বড় বড় গর্তের জন্য ওই সড়কে যানচলাচল আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি,চরম সংকটময় পড়েছে দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়,দিনারপুর কলেজ,এবং রাগীব রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজে পড়ুয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীরা। দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র শিমুল আহমেদ জানান, আমাদের চলাচলের একমাত্র এই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে।

যেখানে স্কুলে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে লাগতো সেখানে এখন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় লাগে। দিনারপুর কলেজ ছাত্র মাহিন চৌধুরী জানান, রাস্তার অবস্তা খারাপ হওয়ার কারণে কলেজে পায়ে হেটেই চলে যাই গিয়ে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে যাই যার কারনে ক্লাসে তেমন মনযোগ থাকে না।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে পড়তে হয় পরীক্ষার সময় কারণ পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া যায় না। তাই সড়কটি মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ এলজিইডির প্রকৌশলী সৈয়দুর রহমান বলেন আমাদের কাছে কোন ফান্ড নেই তাই সড়কটির সংস্কার কাজ করতে পারছি না।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: হবিগঞ্জ শহরের যশোর আব্দা এলাকার একটি মেস থেকে বৃন্দাবন সরকারী কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র সামছুল ইসলাম (২৪) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে লাশটির ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় যশোরআব্দা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

সামছুল ইসলাম বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহ চৌধুরী পুত্র ও বৃন্দাবন কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামছুল ইসলামসহ তার বন্ধুরা দীর্ঘদিন যাবত যশোরআব্দা এলাকার উসমান মিয়ার একটি মেসে ভাড়া নিয়ে পড়া লেখা করে আসছে।

রোববার সন্ধ্যায় সামছুলের বন্ধু শাকিব মিয়া তাকে বেশ কয়েকটি ফোন দেয়। পরে ফোন রিসিভ না করায় মেসে যায় সে। মেসে গিয়ে দেখে সামছুলের দেহ ঘরের তীরের সাথে ঝুলছে। পরে সে স্থানীয় লোকদের কে বিষয়টি অবগত করে।

এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে লাশটি নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, কি কারণে কলেজ ছাত্র সামছুল গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে সম্পর্কে কোন কিছু জানা যায়নি।

0 118

সিলেটের সংবাদ ডটকম: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে মিনি পতিতালয় থেকে মক্ষীরানিসহ ৪ জনকে আটক করছে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ। এর পূর্বে উপজেলার গুহারুয়া আব্দুস সালামের ফিশারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক যুবতিসহ ২ খদ্দেরকে আটক করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে রবিবার দুপুরে বাহুবল মডেল থানার এসআই মুফিদুল ও এসআই জহিরুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মিরপুরস্থ ইজ্বত নগর এলাকায় জনৈক সাবেক মেম্বারের বাসায় অভিযান চালায়।

এ সময়  মক্ষীরানি রাবিয়া ও তার স্বামীসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১ টার দিকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোহারুয়া আব্দুল সালামের ফিশারীতে পুকুর পারে পাহারাদার এর ঘরে অভিযান চালিয়ে জেসমিন আক্তার সুইটি (২২) ও গুহারুয়া গ্রামের আলপি মিয়ার পুত্র সামছু মিয়া (২৫) জাঙ্গালিয়া গ্রামের নবাছ উল্লার পুত্র জাহিদুল (৩৫) কে আটক করে।

আটক জেসমিন আক্তার সুইটি বি-বাড়ীয়া জেলার বিজয় নগর থানার বড়পুকুর গ্রামের সহিদ মিয়ার কন্যা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুইটি জানায় বাহুবলের বৈরবীকুনা চারগাও গ্রামের সুরুজ আলীর পুত্র (৪০) ও তার স্ত্রী রাবিয়া খাতুন ওরফে ট্যারী তাকে দিয়ে দেহব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

তারই তথ্যমতে ইজ্বত নগর গ্রামের সমুজ আলীর ভাড়াবাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও তার সহযোগী  শিমুলিয়াম গ্রামের  আমীর হুসেনের কন্যা রুবি আক্তার (২৭) কে আটক করে।

বিকেলে ৫ টার দিকে আটককৃত সামছু মিয়া (২৫) জাহিদুল (৩৫) রুবি আক্তার (২৭) ও জেসমিন আক্তার সুইটিকে পুলিশ ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করে বাহুবল উপজেলা কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সফি উল্লাহ ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৪ যুবক যুবতিকে ৫ হাজার করে ২০ হাজার আর্থিক জরিমানা করেন।

অপরদিকে মক্ষীরানি রাবিয়া তার স্বামী  সমুজ আলী কে যুবক যুবতীদের দেহব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে এসআই জহিরুল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক সংস্কারের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। র্দীঘদিন থেকে জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কের বেহাল দশা। একাধিকবার শ্রমিক-মালিক সমিতি ধর্মঘটের ডাক দিলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ও দ্রুত সড়ক সংস্কারের আশ্বাস পেয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে মালিক-শ্রমিক সংগঠন।

জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের কোন বাস্তবায়ন না হওয়ায় রবিবার সকাল থেকে আবারও শ্রমিকরা সড়ক সংস্কারের দাবীতে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রবিবার সকাল থেকে জকিগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার কোন যানবাহন ছেড়ে যায়নি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কে কাটাতে হয়েছে। গন্তব্যে যেতে পারেননি কেউই। ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্নস্থানে শ্রমিকরা অবস্থান করতে দেখা গেছে। চলাচলে চরম কষ্ট পোহালেও সড়ক সংস্কারের কথা চিন্তা করে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছেন জকিগঞ্জ যাত্রী কল্যাণ পরিষদসহ সর্বস্থরের জনগন।

প্রায় ২ বছর হতে জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা শহর পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে লোকজন চলাচল করছেন। পুরো সড়কটি ছোট বড় খানাখন্দে এক মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের পিচ উঠে খন্ড খন্ড পুকুরে রূপ নিয়েছে। জকিগঞ্জ-সিলেট, আটগ্রাম-সিলেট ও শেওলা-সিলেট সড়কে ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর থেকেই দ্রুত সংস্কার করার কথা শুনা গেলেও এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোন খবর নাই।

প্রতিদিন এ তিন সড়ক দিয়ে জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, মৌলভীবাজারের বড়লেখাসহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি শুল্ক ষ্টেশনের মালবোঝাই ট্রাকও দেশের বিভিন্ন স্থানে মালামাল নিয়ে যাওয়া আসা করে। ভাঙ্গাচুড়া সড়কের কারণে সড়ক র্দূঘটনা ঘটে অনেক নিহত ও আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই কন্যা শিশু নিহত ও প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃষ্টিতে কাঁদাজল আর রোদে ধুলার রাজ্যে পরিণত হয় ভাঙ্গচুড়া এ সড়ক। বিশেষ করে সড়ক ও জনপথের অধিনে চারখাই থেকে আটগ্রাম-কালীগঞ্জ-জকিগঞ্জ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে জকিগঞ্জ বাজার থেকে আটগ্রাম পর্যন্ত সড়ক পথ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন সড়কটির কোথাও না কোথাও গাড়ী গর্তে আটকা পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত করে। ভাঙ্গা সড়কে জন দূর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌছেছে। দুর্ভোগের কারণে মানুষ খুব বেশী প্রয়োজন ছাড়া এ সড়ক দিয়ে কোথাও যেতে বের হন না। রোগীদের নিয়ে জেলা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানাগেছে।

কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন কানাইঘাট থেকে শাহবাগ ১৮ কিলোমিটার সড়কে ১৮ কোটি টাকা ও শাহবাগ থেকে চারখাই পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কে ৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার বরাদ্ধ দিয়েছেন। কিন্তু কাজ এখনো শুরু হয়নি। জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন বলেন, এ সড়ক নিয়ে তাঁরা প্রতিদিন সাধারণ মানুষের গালমন্দ শুনছেন।

বিশেষ করে পৌরসভার ভেতরে জকিগঞ্জ বাজারের রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। পৌর এলাকার ভিতরের সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে কিন্তু সওজ কর্মকর্তারা ওর্য়াক অর্ডার দিচ্ছেন না। ওর্য়াকঅর্ডারের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সফটওয়্যার নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু সফটওয়্যার নষ্ট হওয়ার অজুহাতকে তিনি রহস্যজনক বলে মনে করছেন।

জকিগঞ্জের মানুষের সাথে সওজ কর্তৃপক্ষ তামাশা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পরিবহন শ্রমিক আব্দুল আব্দুশ শহীদ বলেন, পুরো সড়কটি ভাঙ্গচুড়া কিন্তু এমপি সাহেব শাহবাগ থেকে চারখাই পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কে বরাদ্ধ দিয়েছেন। তিনি দাবী জানিয়ে বলেন, দ্রুত জকিগঞ্জ-সিলেট পুরো সড়কটি সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

0 448
গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘সিলেট নগরীতে সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত : গ্রেফতার চার ছাত্রলীগ নেতাকে রিমান্ডের আবেদন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত...

0 1469
সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তির। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না...