এম সি একাডেমির রিইউনিয়ন নিয়ে কিছূ কথা

3
1157

রাহাত চৌধুরী: এম সি একাডেমির রিইউনিয়ন নিয়ে আসলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। বিভেদ সৃষ্টি করছেন সদ্য গজিয়ে ওঠা অর্থাৎ নেতা বনে যাওয়া চরিত্রহীন কিছু মানুষ। এরা গাছেরটাও চায় নীচেরটাও কুড়ায়।

সেজন্য আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের রি-ইউনিয়ন নিয়ে আত্মঘাতি খেলায় মেতে উঠেছেন। আমি বেশ কিছুদিন অনেকের সাথে আলাপ-আলোচনা করে যা পেয়েছি তা আজ তুলে ধরবো। যাতে মুখোশধারীদের মুখোশ সাধারণ এম সি একাডেমির প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা দেখতে পান।

জানা যায় রিইউনিয়নের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ ইং তারিখের ২৪ মে আফছারুল ইসলাম আফসরের বাসায়। আছসর সাহেব সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা বলতে পারবেন তার মাথা থেকে এ ধরণের পরিকল্পনা আসার কথা নয়। পরিকল্পনার নেপথ্য নায়ক ছিলেন আরেকজন।

তিনি আফছার ভাইকে হাবা টাইপের লোক হিসেবে ঢালরূপে ব্যবহার করেন। দাওয়াতও দেয়া হয় পরিকল্পনাকারীর পছন্দের লোকদের। সিনিওরদের মধ্যে দাওয়াত দেয়া হয় লেখক ফারুক আহমদকে। আমরা যারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করি, তারা কমবেশি সবাই জানি যে, ফারুক সাহেব সাধারণত আঞ্চলিক কোনো কমিটিতে থাকতে চান না।

কিন্তু যে কোনো কাজে নিজের নাম ব্যবহার না করেও সাহায্য সহযোগিতা করেন। রিইউনিয়ের নেপথ্য নায়ক এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করেন। জানা যায় ফারুক আহমদও সে সভায় যান এই শর্তে যে, তিনি কোনো পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত সদস্যদের পিড়াপীড়িতে সভায় সভাপতিত্ব করতে বাধ্য হন। কিন্তু ভাগ্য মূল নেপথ্য নায়কের পক্ষে ছিল না।

তিনি দেরি করে সেদিনের সভায় যাবার কারণে আয়োজনকারী হিসেবে মেজমান আফছারুল ইসলামকে প্রধান করে এক মাসের জন্য একটি আহবান কমিটি গঠন করা হয়। এর কয়েকদিন পরেই ছিল রমজান মাস। তাই শর্ত ছিল ঈদের পরে অর্থাৎ একমাস এ নিয়ে প্রচারণার পরে একটি সভা আহবান করে মূল কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু পত্রিকায় খবরটি আসার পরেই জনাব আব্দুল হাই, হাফিজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, আব্দুল মুমিন চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন হুট করে পূর্ব লন্ডনের আমার গাও রেস্টুরেন্টে ২০১৬ সালের ১ লা জুলাই একটি সভা ডেকে বসেন।

ওদিকে এ খবরটি জানাজানি হবার পরে ফারুক আহমদ, আরিফ মঞ্জুর চৌধুরী মিঠু, আমিনুল ইষরাম রাবেল, আফছরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ অর্থাৎ সবাই চেষ্টাও করেন সভাটি বাতিল স্থগিত করাতে পারেননি। পরে এরা সভায় গিয়েও বিষয়টি বুঝাবার চেষ্টা করেন যে, এটি একটি আহবান কমিটি। কিন্তু সভার আয়োজকরা যুক্তি দেখান যে, যেহেতু একটি ঘরে মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে আহবান কমিটি গঠিত হয়েছে তাই এটাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।

সেজন্য ফোনে লাউড স্পিকার দিয়ে আফছারুল ইসলামের সাথে কথা বলেন সেদিনের সভার সভাপতি জনাব আব্দুল হাই। আফসার সাহেবও শেষ পর্যন্ত জনাব আব্দুল হাই সাহেবের অনুরোধে একটি আহবায়ক কমিটি করার পক্ষে রায় দেন। সভায় উপস্থিত ছাত্রদের মধ্য থেকে জনাব আব্দুল হাইকে আহবায়ক এবং লেখক ফারুক আহমদকে যুগ্ম-আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় ফারুক আহমদ অনুরোধ করেন যে, যেহেতু আফছার সাহেবের ঘরে এ কাজের সূচনা হয়েছে সেজন্য তাকেও তিনি যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে তার সাথে রাখতে চান। একইভাবে সেদিনের সভার আহবানকারী হিসেবে যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে চান হাফিজুর রহমান ও আনোয়ারুল ইসলাম জবা ও আরেফ মঞ্জুর চৌধুরীকেও। এমনকী তার অনুরোধে আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে প্রথম আহবানকারী সাত জনকেও এই আহবায়ক কমিটিতে রাখা হয়।

এভাবেই উপস্থিত সবাইকে নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত হয় প্রথম আহবায়ক কমিটি। খোলা হয় ওয়াস্টআপ গ্রুপ। সভায় বলা হয়েছিল ওয়াট্সআপে যেন রিইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিষয় পোস্ট না করা হয়। কিন্তু এই গ্রুপে সম্ভবত প্রথম লেখাটি পোস্টর করে আমিনুর রহমান নামের মৌলবাদী ঘরানার একজন ছাত্র। তার লেখাটি রিইউনিয়ন সম্পর্কিত না থাকায় পরের দিন যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক আহমদ এ ধরণের লেখা পোস্ট না করতে অনুরোধ করেন।

সাথে সাথে হাফিজুর রহমান এর বিরোধিতা করে লেখেন যে, ফারুক আহমদের এ ধরণের অনুরোধ করার কোনো অধিকার নেই। ব্যাস শুরু হয়ে যায় খেলা। ফারুক আহমদও অজ্ঞাত কারণে চুপ হয়ে যান। তখন সময় বুঝেই সুযোগটা নেন রিইউনিয়নের আসল নেপথ্য নায়ক। তিনি তখন আফছারুল ইসলামকে নীরব থাকতে বলে তাকে আরেক গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করে শাহীন আহমদের মাধ্যমে কাহের মাহমুদুর রহমানকে মধ্যস্ততাকারী বানিয়ে শুরু করেন সমঝোতা নামক আত্মঘাতি খেলা।

পরে এর সাথে যোগ দেন আরও অনেকে। ওদিকে ঈদের পরে আহবায়ক কমিটির একটি সভায় ফারুক চৌধুরী, ফেরদৌস আলম (ওরফে বাঘার মুরগী চুরা), এরা অভিযোগ তুলেন যে, আহবায়ক কমিটির আফছারুল ইসলাম ও তার অনুসারিদের নিয়ে কমিটির সাথে কাজ করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা দাবি করেন যে, তাদেরকে দায়িত্ব দিলে তারা সাইকে এক মঞ্চে নিয়ে আসবেন।

সভায় তখন তাদেরকে সমঝোতার দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর শুরু হয় আফছার ভাইয়ের টালবাহানা, কখনো শরীর অসুস্থ্য, কখনো মেয়ের বিয়ে, কখনো এটা কখনো ওটা অজুহাত দেখিয়ে প্রায় নয় মাস কাটিয়ে দেন তিনি। তারপর এক সময় আহবায়ক কমিটির সাথে কাজ করতে রাজী হন। তখন মঞ্চে উদয় হন নাসিম চৌধুরী। তারা তখন আব্দুল হাই সাহেবকে জানান যে, আফসার গ্রুপের সাথে তাদের সমঝোতা হয়েছে। সভা আহবান করে খবরটি জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চান।

সে সভায় আফসার ভাই এসে একাত্বতার ঘোষনা দেবেন। জানা যায়, আব্দুল হাই সাহেব তাদেরকে সেজন্য ভেনু ঠিক করার জন্য বলেন এবং তারই উপদেশ মতো ২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারী ব্রিক লেইনের সোনার গাও রেস্টুরেন্টে সভা আহবান করা হয়। ওদিকে, মূল নেপথ্য নায়ক দেখলেন আবারও মুরব্বি সাজার সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য জনাব আব্দুল হাই সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে সোনারগাও রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিতব্য সভাকে বানচাল করার জন্য আফসার ভাই ও ফেরদৌস আলম ওরফে বাঘার মুরগী চুরাকে পরামর্শ দেন।

এ নিয়ে বৈঠক বসে আমিনুল ইসলাম রাবেলের ঘরে। সিদ্ধান্ত হয় আব্দুল হাই সাহেব সোনারগাও রেস্টুরেন্টের সভাটি স্থগিত করে তিনি নিজে একটি সভা আহবান করবেন এবং সেই সভায় আফসার ভাই নিজে এসে আহবায়ক কমিটির সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেবেন। তবে শর্ত হল তাকে যুগ্ম-আহবায়ক করতে হবে।

পাশাপাশি মুরগী চোরার মধ্যস্থতায় জনাব নাসিম চৌধুরী ও ফারুক চৌধুরী গংদের সাথে আফসারুল ইসলামের কথা হয় তিনি ১৬ই জানুয়ারির সভায় গিয়ে তাদের সংগে একাত্বতার ঘোষণা দেবেন। হবা আফসার ভাই বুঝতেই পারেনি তাকে কিভাবে আত্মঘাতি খেলা চলছে। কিন্তু কথায় সত্যের ঢুল আপনি বাজে। তাই হঠাৎ করে আফসার ভাই অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে চলে যাওয়ায় তার দুতিয়ামী খেলা বানচাল হয়ে যায়।

আরিয়ানা গ্রুপ খেলাটি বুঝতে পেরে মুরগী চোরা ও আফছারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এইমর্মে সিদ্ধান্ত নেন যে, এই দুইজনকে তারা তাদের কার্যক্রমে আর রাখবেন না। ওদিকে জনাব আব্দুল হাইয়ের অনুপস্থিতির কারণে ওইদিন তমিজুর রহমানরঞ্জুকে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ৯ই জুলাই নর্থ লন্ডনের আরিয়ানা ব্যাংকুইটিক হলে রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।

তখন সম্ভবত মূল বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের সাথে কাহের মাহমুদুর রহমান, রেজাউল ইসলাম বিল্লাহ সহ অনেকেই আফসারুল ইসলামের সঙ্ঘ ছেড়ে দেন। জানা যায়, এই রিইউনিয়ন নাটকে জনাব আব্দুল হাই তার সহযোগী যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমদ, হাফিজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম জবা এবং আরেফ মঞ্জুর চৌধুরীকে কোনো কিছু না জানিয়ে একাই এসব অভিনয় করে যাচ্ছিলেন।

১৬ই জানুয়ারী সোনারগাও রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভার পরে আব্দুল হাই সাহেব আফছারুল ইসলাম এবং ফেরদৌস আলম ওরফে বাঘার মুরগী চুরার পরামর্শে তিনি আহবায়ক এবং আফছারুল ইসলামকে যুগ্ম-আহবায়ক এবং ফারুক আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, হাফিজুর রহমান, তারেক সৈয়দ, শাজাহান চৌধুরী, আরেফ মঞ্জুর চৌধুরী, এনাম উদ্দিন ও শাহীন আহমদকে সদস্য করে আরেকটি কমিটির মাধ্যমে ৬ ফেব্রুয়ারী পূর্ব লন্ডনের ব্লু মুন সেন্টারে একটি সভা ডাকেন।

সভায় গিয়ে দেখা যায় জনাব আব্দুল হাই সাহেব আফছরুল ইসলাম, ফেরদৌস আলম ওরফে বাঘার মুরগী চুর, আরিফ মঞ্জুর চৌধুরী মিঠু, আমিনুল ইসলাম রাবেল, আব্দুল লতিফ, এদেরকে নিয়ে কানাকানি করছেন। এই কানাকানি সভা অনুষ্ঠানের আগে পর্যন্ত ছিল। সভায় ঘোষনা করা হয় যে, এটি পরিচালনা করবেন ও আব্দুল লতিফ। কিন্তু এর মধ্যে বক্তব্য দেয়ার নামে মাইক নিয়ে যায় মুরগী চুরা ফরদৌস আলম।

তিনি তার দীর্ঘ বক্তৃতা শেষ করে সভাপতির অনুমতির কোন তোয়াক্কা না করেই রিইউনিয়ন সম্পর্কিত বিষয়টি সভায় উপস্থিত সদস্যদের কাছে আলোচনার জন্য ছেড়ে দেন। তখন দর্শক সারি থেকে জনাব মিসবা মাসুম প্রশ্ন করেন আগের আহবায়ক কমিটি কি হল। ওটা বাতিল হয়ে গেছে নাকি এখনো আছে? জনাব আব্দুল হাই তখন জবাব দেন সেটার কার্যক্রম আর নেই।

জানা যায়, প্রায় ষাটজন ছাত্রের উপস্থিতিতে আহবায়ক কমিটি গঠিত হলেও কারো সাথে কোনো আলাপ না করে আব্দুল হাই সাহেব একাই সেটি বাতিল করে দেন। এর পরে পুরো সভাটি নিয়ন্ত্রন করে মুরগী চুরা ফরদৌস আলম। একপর্যায়ে সভামঞ্চের দৃশ্যমান বিষয় ছিল সভার সভাপতি আব্দুল হাই সাহেব তার আসন ছেড়ে গিয়ে আবারও কানাকানিতে জড়িয়ে পড়েন।

সভার নিয়ন্ত্রক তখন মি. মুরগী চোর। চলতে থাকে সভাপতিবিহীন লাগামহীন সভা। তখন উপস্থিত অনেককেই বলতে শোনা যায়, সভা পরিচালনার মতো যোগ্যতা যার নাই তাকে কেন সভাপতি করা হল। ওদিকে, সভায় সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হলেন প্রথম সভার সভাপতি এবং দ্বিতীয় সভায় নির্বাচিত যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক আহমদ এবং সভামঞ্চে উপস্থিত শাজাহান চৌধুরীকে কথা বলার কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফারুক সাহেব মাইক ছাড়াই কথা বলেন এবং মঞ্চ ছেড়ে দর্শক সারিতে চলে আসেন।

জানা যায়, এই সুযোগে, সভামঞ্চ থেকে একটি চেয়ার সরিয়ে নেয় মুরগী চোর। তার পর ফারুক সাহেবকে অনুরোধ করতে থাকে মঞ্চে যাবার জন্য। কিন্তু ততক্ষণে তার জন্য আর কোনো চেয়ারই খালি নেই তাই তাকে সামনের সারিতে গিয়ে বসতে হয়। জনাব আব্দুল হাই সাহেবের কানাকানির ফলশ্রুতিতে তখন আরেকটি নাটক মঞ্চস্থ করে মুরগী চোরা ফেরদৌস আলম।

সে সভায় মাইক নিয়ে মঞ্চে বসা আব্দুল হাই, রেহান আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, তারেক সৈয়দ, শাহজান চৌধুরী ও ফারুক আহমদের নাম উপদেষ্টা হিসেবে নাম ঘোষনা। এবং আরিয়ানা গ্রুপের সাথে আলোচনা করে একসাথে রিইউনিয়ন করার জন্য প্রস্তাব করে এবং উপস্থিত সবার কাছে জানতে চায়, প্রস্তাবটিতে সবাই রাজী আছেন কিনা?এতে উপস্থিত সবাই অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন এবং প্রস্তাবটি অনেকটা বাধ্য হয়ে তা মেনে নেন। কারণ, মঞ্চের প্রায় সকলেই ছিলেন সম্মানীত এবং প্রিয়মুখ।

তাই কেউ এ প্রস্তাবের বিরোধীতা করেননি। এই উপদেষ্টাদের মধ্যে জনাব আব্দুল হাই, ফারুক আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম জবা ছাড়া বাকী কেউই এর আগে রিইউনিয়ন বিষয়ক কোনো কাজে জড়িত ছিলেন না। ফলে আগে কী ঘটেছে এ সম্পর্কে তাদের কারো কোন ধারণা ছিল না। সভায় সিদ্ধান্ত হয় এই দিনই ব্রিক লেইনে গিয়ে আরিয়ানা গোষ্ঠীর সাথে সমঝোতা বৈঠক করবেন।

বৈঠকও সেদিন হয়েছিল কিন্তু জনাব আব্দুল হাই ও ফারুক আহমদ, রেহান আহমদ চৌধুরী অজ্ঞাত কারণে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরে আরেকটি সমঝোতা বৈঠক হয় ব্রিক লেইনের সোনাও গাও রেস্টুরেন্টে। জানা যায়, সেখানেও জনাব ফারুক আহমদ ও রেহান আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। সাতজনকে নিয়ে ৬ তারিখের উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হলেও দেখা গেল এই উপদেষ্টার সাথে কাউন্সিলার অহিদ আহমদকে সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই উপদেষ্টা হিসেবে যোগ করা হয়েছে।

তবে এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। জানা যায়, সোনার গাও রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় জনাব অহিদ আহমদ ও জনাব আব্দুল হাইকে দেখার সাথে সাথে পরিবেশটা বদলে যায়। আরিয়ানা গ্রুপের মতে, এম সি একাডেমির রিইউনিয়র দ্বিধাবিভক্তির মূল নেপথ্য নায়ক অহিদ আহমদের নেপথ্য ভূমিকা এবং আব্দুল হাই সাহেবের অযোগ্যতা।

এছাড়া, যারা সমঝোতা করতে চান তারা নিজেরাই বিবাদী গ্রুপের উপদেষ্টা। সে হিসেবে নিরপেক্ষ নন। তারা কী করে সমঝোতা করবেন। শেষ পর্যন্ত জনাব আব্দুল হাই ও জনাব অহিদ আহমদের কারণেই সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়। কিন্তু হাল ছাড়েননি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও জনাব তারেক সৈয়দ। আবারও বৈঠক বসে ব্রিক লেইনে। জানা যায় এই বৈঠকে সৈয়দ নজরুল ও তারেক সৈয়দের বিশেষ অনুরোধে দীর্ঘদিন পরে যোগ দেন জনাব ফারুক আহমদ। কিন্তু সভা চলাকালীন তিনি কোনো কথাই বলেননি, একেবারে নীরব ছিলেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের সভায় তিনি ছিলেন অনেকটা নীরব। তার পর সমঝোতা ভেঙ্গে গেলে আরেফ মঞ্জুর চৌধুরীকে সেক্রেটারী, আফছরুল ইসলামকে ট্রেজারার এবং মুরগীচোরা ফেরদৌসকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করে সভাপতিবিহীন একটি কমিটি করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে মূল নেপথ্য নায়ক সভাপতির পদ অলংকৃত করবেন।

কিন্তু যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম সি একাডেমীর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন হচ্ছে এই সেদিন যে মুরগীচোরা ফেরদৌস গোলাপগঞ্জ হেলপিং হেন্ডসের তহবিল মারার অভিযোগে অভিযুক্ত হল। যে মুরগীচোরা ম্যাগাজিনের নামে কয়েক হাজার পাউন্ড আত্মসাত করে হেলপিং হ্যান্ডের পুরো ইতিহাস বিকৃতি করল তাকে কার স্বার্থে এম সি একাডেমির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের রিইউনিয়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আবারও প্রচার ও প্রকাশনার মতো শুটকীর ভান্ডারের পাহারাদার নিযুক্ত করা হল? ধন্য হোক মুরগীচোরার নেতৃত্বাধীন রিইউনিয়ন।

এবার শুধু দেখার পালা এম সি একাডেমির ইতিহাস বিকৃতি। সবচেয়ে মজার বিষয় হল আফছার ভাই যে একজন হাবা তার প্রমাণও আমরা পেয়ে গেলাম। তিনি যুগ্ম-আহবায়ক হয়েও খুশী হতে পারেননি। অথচ এবার তিনি সভাপতি কিংকা সেক্রেটারী নয়, আরো ছোট পদ ট্রেজারার হিসাবে তিনি খুশী। এতেই প্রমাণীত হল প্রথম সভাটি তার ঘরে অনুষ্ঠিত হলেও রিইউনিয়নের আইডিয়া তার মাথা থেকে আসেনি।

তার পরে আরিয়ানা গ্রুপের একটি সভা হয় বার্মিংহামে। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাফিজুর রহমান এবং লন্ডন থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আহবায়ক কমিটির সদস্য মিনহাজ চৌধুরী। এতে মনে হয় জনাব আব্দুল হাইয়ের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে জনাব ফারুক আহমদ ও মিনহাজ চৌধুরী যেমন নিজেকে ঘুটিয়ে নেন, তেমনি জনাব হাফিজুর রহমানও প্রথম আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি আর সেজন্য বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত আরিয়ানা গ্রুপের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বর্তমানে আরিয়ানা গ্রুপ এবং গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে রিইউনিয়ন করার কাজ করছে। একই সাথে চলছে কলমবাজী। এর মধ্যে জনাব তারেক সৈয়দ ফেইসবুকে রিইউনিয়স সফল না হবার কারণ ব্যাখ্যা করেই চলেছেন। লেখাটি যে তার নয়, অন্য কেউ লিখে দিয়েছে তা পড়লেই বুঝা যায়। তার নামে প্রচারিত এই লেখা থেকে মনে হয় এই রিইউনিয়নের পুরো কৃতিত্ব আফছরুল ইসলামের।

আর যদি এটি তারই লেখা হয়ে থাকে তাহলে বলতেই হবে তিনিও ওই পক্ষেরই লোক। অথচ এই মানুষটির দুমুখী ভূমিকার জন্যই আট থেকে নয় মাস রিইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এমনকী প্রথম আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবেও তিনি আফসারুল ইসলামকে টেনে এনেছেন। অথচ মূল যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন ফারুক আহমদ।

তারই অনুরোধে আফছরুল ইসলামের নাম যোগ করা হয়। এমনকী সৈয়দ সাহেবের লেখায় হাফিজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম জবা, আরেফ মঞ্জুর চৌধুরী এদের কারো নাম নেই। জনাব তারেক সৈয়দের লেখায় আরেকটি বিষয় ধরা পড়ে তাহলো, রিইউনিয়ন নিয়ে মারামারির আশংকা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কিন্তু এই আশঙ্কা কেন? অনেকেই বুঝতে পারছেন না।

আপনি একজন সম্মানীত মানুষ হিসেবেই অনুরোধ করব ৯ জুলাই আরিয়ানা ব্যাংকুয়েটিং হলে অনুষ্ঠিতব্য রিইউনিয়নে দয়া করে আসুন। দেখবেন যথাযত সম্মান পবেন। মুগীচোরা বিহীন পরিবেশ তৈরী করতে পারলে আরিয়ানা গ্রুপও আফসার বাহিনীর রিইউনিয়নে যাবে।লেখক:- এমসি একাডেমীর প্রাক্তণ ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে।

(Visited 62 times, 1 visits today)

3 COMMENTS

  1. লেখাটি পড়ে মনে হলো, রিইউনিয়নের লক্ষ উদ্দেশ্য থেকে সরে ব্যক্তিগত রেষারেষীতে ত্রীমূখি গন্তব্যে অগ্রসর হচ্ছে। প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধভাবে একটি করা আর একান্ত সম্ভব না হলে একাধিক সভা হতে পারে তবে হতে হবে দন্ধ বা বিবাদবিহীন।
    সুতরাং ঐতিহ্যবাহী এম সি একাডেমির সুনামের স্থলে রিইউনিয়নের দন্ধে দুর্নাম না করার আহবান করছি সবার প্রতি।
    আল্লাহ সবাইকে যেন বুঝার শক্তি দান করেন
    আখতার হোসেন কাওছার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here