সৈয়দ শাহজাহান ও সুমনের প্রতারনা বানিজ্য (১)

0
720

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: সিলেট মিড়াপাড়ার সৈয়দ শাহজাহান ও জিয়াউর রহমান সুমনের প্রতারনা ব্যবসার ফাদে পড়ে অনেকে সর্বসান্ত হয়েছেন। যা আমরা আমাদের আগরে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। আজ সৈয়দ শাহজাহান ও জিয়াউর রহমান সুমনের আরো কিছু প্রতারনার ঘটনা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

সৈয়দ শাহজাহান ও জিয়াউর রহমান সুমন কে কি তাদের পরিচয় তা পুর্বের সংবাদগুলোতে রয়েছে। তারপরও সংক্ষিপ্তভাবে কিছু তুলে ধরা হলো। বিশ্বস্হ সুত্রে জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলার টুলটিকর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মিড়াপাড়ার সৈয়দ শাহজাহারে বাবা সৈয়দ আলী আহমেদ ছিলেন সিলেট ক্যাডেট কলেজের গাড়ির ড্রাইভার। তাদের মুল বাড়ি কুমিল্লায়। আর মা অন্যের বাসায় কাজ করে নানা কষ্ট আর লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে চলতো তাদের পরিবার।

সুত্র থেকে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা শেষে সৈয়দ শাহজাহান চলে যান ঢাকার একটি কলেজে, যেটা জঁঙ্গী সম্পৃর্কতার অভিযোগে পরে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখান থেকে সিলেটে ফিরে এসে বেকার হয়ে পড়েন শাহজাহান। এরপর শাহজাহান ছিলেন সিলেট সুরমা মার্কেটের একটি সিল প্যাডের দোকানের সামান্য বেতনের কর্মচারি। সুরমা মাকের্টে থাকাবস্হায় হাতেকড়ি শুরু হয় বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসার।

জাল কাগজাত তৈরী করে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা শুরু করেন শাহাজাহান। আর তাকে সাহায্য করেন শাপলাবাগের ১ নং সড়কের আরেক প্রতারক এমকে জামান উরফে দুলাল। দুলালের সাথে এক হয়ে মানব পাচারের ব্যবসা করে আজ তিনি কোটি পতি। সুত্রমতে শাহজাহানের রয়েছে মেজরটিলার জাহানপুরে ৫ শতক জায়গা। মিড়াপাড়ায় ৪ শতক জায়গা।

সেই সাথে তার রয়েছে চুরির গাড়ির ব্যবসা। সব মিলিয়ে কর্মচারি থেকে কোটিপতি শাহজাহান আহমদ। শাহজাহানের নামে বেনামে রয়েছে আরো অনেক সম্পত্তি। যা অনেকের দৃষ্টির আড়ালে। শাহজাহান একসময় দালালি করে লন্ডন চলে যান। শহীদ নামের একজনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি লন্ডন যান। ঐ শহীদ লন্ডন আগে থেকেই ছিলেন।

শাহজাহান জালিয়াতির মাধ্যমে লন্ডন গিয়ে সেখানেও আশ্রয় নেন জালিয়াতির। এক পর্যায়ে লন্ডনে থাকা শহীদ সৈয়দ শাহজাহানকে বলেন, সিলেট শিবগঞ্জ বাজারে তার একটি দোকান রয়েছে। তিনি দেশে আসলে ঐ দোকান যেন দেখাশুনা করেন। শাহজাহান তার কথায় রাজি হন। এক পর্যায়ে শাহজাহান দেশে এসে তার পাসপোর্টে শহীদ নাম দেখিয়ে ঐ দোকান বিক্রি করে দেন। এদিকে শহীদ ঘটনাটি জানতে পেরে ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন।

সুত্র থেকে জানা যায়, ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরে দোকান জালিয়াতির ঘটনা মিমাংসা হয়। এদিকে আরেক প্রতারক সিলেট সদর উপজেলার ৫নং টুলটিকর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মিড়াপাড়ার নয়াবাড়ি-১১৬/এ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান সুমনের সাথে সৈয়দ শাহজাহানের পরিচয় হয়। তখন শাহজাহান ও সুমন ফন্দি করে শাহজাহান যে বাসায় ভাড়াটে হিসেবে আছেন সেই বাসা দখল করার।

এক পর্যায়ে প্রতারক জিয়াউর রহমান সুমন আরেক প্রতারক শাহজাহানের নিকট বিগত ২০১৫ সালে ২ মার্চ দেবপুর মৌজার এসএ ৯৬, বিএস ৮১, স্হিত ছাপা ৭৮৪ নং খতিয়ান ও নামজারী খতিয়ান নং ৬৫৫৫, বর্তমান জরিপী ডিপি ২৭৬ নং খতিয়ানের অন্তর্গত সে জরিপী-১৩৭৪ নং দাগ যাহার বর্তমান জরিপী-৫১২১ নং দাগের ২শতক পচাত্তর পয়েন্ট করে শাহজাহান ও তার ভায়রা ফরহাদুর রহমান ফাহাদ মিলে সাড়ে ৫শতক জায়গা জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে ২৩৩৬ ও ২৩৩৭ নং ভুয়া ও জাল দলিল মুলে কোন টাকা পয়সা ছাড়াই বায়না করে নেয়।

মুলত ঐ জায়গার মালিক লন্ডন প্রবাসী ফারুক উদ্দিন। কথা ছিল উভয়ে মিলে জায়গা দখল করে পরে বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিবেন। কিন্তু এর মধ্যে জিয়াউর রহমান সুমনের সাথে সৈয়দ শাহজাহান বনিবনা না হলে সৈয়দ শাহজাহান ঐ বায়না বলে আদালতে একটি মামলা করেন।

এদিকে জিয়াউর রহমান সুমনের সাথে চতুর শাহজাহান আপোষ করে ফের পায়তারা শুরু করে। এবার শাহজাহান ও সমুন মিলে পুকনকে দিয়ে প্রবাসী ফারুক উদ্দিনের বাসা চুরি করায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ফারুক উদ্দিনের বাসায় জায়গার কাগজপত্র পাওয়া যাবে। চলবে…………………………………………………….    

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here