রাজনের উপর হামলার তথ্য ফাস : টার্গেট ছিলেন মুশফিক (পর্ব-১)

0
2230

সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: ফাঁস হলো সিলেট নগরীর টিলাগড়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজনের উপর হামলার তথ্য। টিলাগড় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্হানীয় বিশ্বস্হ কয়েকটি সুত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন হামলার টার্গেট ছিলেন সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মুশফিক জায়গীরদার।

কিন্তু হামলার শিকার হন গোলাম রহমান চৌধুরী রাজন। তিনি ঐ সময় এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা তাকে ও অন্য দুজনকে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়। কেন এই হামলা আর কেনইবা টিলাগড়ের মতো ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের মতো শক্তিশালী জায়গায় হামলাকারিরা হামলা করে সহজেই পালিয়ে গেল।

এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে রাজনীতি নামক নোংরা খেলার কয়েকজন খেলোয়াড়দের নাম। আমাদের সুত্রের অনুসন্ধানে সেসব তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তা পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করব। সুত্রমতে মুশফিক জায়গীরদারকে সরিয়ে দিতে পারলে টিলাগড় যুবলীগের আধিপত্য ধরে রাখার মুল উদ্দেশ্য নিয়েই মুলত হামলা চালানো হয়।

এখন প্রশ্ন কে সেই নাটের গুরু? আমাদের দীর্ঘ কয়েকদিনের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, এক সময়কার অস্ত্র ব্যবসায়ী, ছাত্রীশবির ও ছাত্রদলের গুপ্তচর বর্তমান যুবলীগের সিনিয়র সদস্য সুবেদুর রহমান মুন্নাই হলেন মুশফিক হঠাও চক্রান্তের মুল কারিগর। তার টার্গেট ছিল মুশফিককে সরাতে পারলে তিনিই হবেন যুবলীগের কান্ডারী। আর সে কারনে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তিনি এ কাজ করিয়েছেন বলে কয়েকটি সুত্র থেকে জানা যায়।

এদিকে এই হামলার পর তেমন জোরালো কোন আন্দোলন না হওয়ারও তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে যারা হামলা করিয়েছিল, তাদেরকে কর্তা ব্যাক্তিরা ছিনেন। আর সেজন্য ‘কুল রাখি না শ্যাম রাখি ছেড়ে দে মা কেদে বাচিঁ’ এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে অনেক ভেবে চিন্তে লোক দেখানোর জন্য প্রথমে শাপলা সংঘকে দিয়ে এবং তার কয়েকদিন পরে দায়সারা মনোভাব নিয়ে মানববন্ধন করা হয়।

শুধু তাইনা, রাজনের বাসা থেকে মাত্র কয়েকশ হাত দুরে থাকা নিরীহ একজনকে রাজনের উপর হামলার আসামী করা হয়। অপরদিকে আজলা নামক মুল আসামীকে মামলা থেকে বাচানোর লক্ষে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাহলে এখানে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে ঐ আজলাটা কে?

এক সময়কার ছাত্রলীগের কান্ডারী রাজনকে সোহাগ নামক ঐ যুবক হামলা চালিয়ে আহত করেছে এটা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধ্রুমজাল। মুলত যে বা যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরকে টিলাগড়ের কর্তা ব্যাক্তিরাই অবশ্যই ছিনেন এমন মন্তব্যও করছেন অনেকে। অথচ এই ঘৃন্য কাজের শিকার হলেন গোলাম রহমান চৌধুরী রাজন। যে আজ প্রায় পঙ্গুঁত্ব জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে রাজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা পাঠানো হয়েছে।

কে এই মুন্না: পুরো নাম সুবেদুর রহমান মুন্না। গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলায়। ১৯৯২ সালের শেষের দিকে তার এক আত্বীয়র মাধ্যমে সিলেট আসেন তিনি। এসে প্রথমে উঠেন পিরেরর বাজারে এক বাসায়। ওখান থেকেই শুরু তার পথ চলা। একসময় তিনি কাশ্মীর গ্রুপের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেন। তখন থেকে তিনি জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ব্যবসার সাথে।

আর সে কারনে ১৯৯৫ সালে মুন্নার সহযোগী টুলটিকরের আলাউদ্দিনের ছেলে সুমন, জকিগঞ্জের বর্তমান (চেয়ারম্যান) পিচ্চি সুমন ও কল্যানপুরের আফতাব মিয়ার ছেলে বাবুলসহ মুন্নাকে ১টি পাইপগান, ৪টি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, ৪টি কার্তুজ ও ৪টি রামদাসহ আটক করে পুলিশ। পরে প্রায় ৫ মাস জেল খেটে সে বের হয়ে এসে ফের অস্ত্রের ব্যবসা শুরু করে।

একসময় মুন্নাকে গুপ্তচরের অভিযোগে মেজরটিলা এলাকায় আটকিয়ে মারধর করেন তৎকালীন কয়েকজন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা। এরপর তিনি চলে আসেন টিলাগড়ে। এখানে এসেও নিজের স্বভাব পাল্টাতে পারেননি তিনি। টিলাগড় গ্রুপের সকল খবরা খবর তিনি পাচার করতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে। চলবে………………………………….   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here