সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিমানের রাডার ক্রয়সংক্রান্ত দর্নীতি মামলায় নতুন করে কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণে দুদকের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

২০ মার্চ সোমবার এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসাইন হায়দার। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

এরশাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। খুরশিদ আলম খান জানান, রাডারক্রয় সংক্রান্ত মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে এ মামলায় নুতন করে সাক্ষী নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি রাডার ক্রয় সংক্রান্ত মামলায় নতুন সাক্ষ্য গ্রহণে দুদকের আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ। পরে এর রায়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করে দুদক। গত ২৪ নভেম্বর এরশাদের রাডার ক্রয় সক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি ও ৩১ মার্চের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চ।

পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এ মামলার আসামি বিমান বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান সুলতান মাহমুদ। আজ আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। মামলায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সুলতান মাহমুদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা।

মামলার শুরু থেকে মুসা পলাতক রয়েছেন। ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়ের করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগে বলা হয়, বিমানবাহিনীর তৎকালীন সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার ক্রয়ের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানি নির্মিত অত্যাধুনিক একটি হাইপাওয়ার রাডার ও দুটি লো-লেভেল রাডার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে থমসন সিএসএফ কোম্পানির রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনেন। এতে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা ক্ষতি হয়।

(Visited 1 times, 1 visits today)

NO COMMENTS

Leave a Reply