কমলগঞ্জে এক সপ্তাহে ২০টি গবাদি পশুর মৃত্যু

0
11

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে  ২০টি গবাদি পশু মারা গেছে। মারা যাওয়া গবাদী পশুর মাঝে ১২টি মহিষ,  ৫টি গরু ও ৩টি ছাগল রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে শুধু পতনঊষার ইউনিয়নের মনসুরপুর, শ্রীসূর্য্য ও মিনারই গ্রামে ১২টি মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় মাত্র তিনজন মাঠ সহকারী কর্মকর্তা দিয়ে এক পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে নয়টি হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর সংক্রামক রোগ দেখা দিলে আগাম রোগ প্রতিরোধ মূলক প্রতিষেধক  প্রদানে বিঘœ ঘটছে। মারা যাওয়া প্রাণির মৃতদেহ শেয়াল কুকুরেও খাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গরু-মহিষ ও ছাগলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন গরু, মহিষ চাষীরা।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে প্রতিষেধক প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। সোমবার (২০ মার্চ) উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পতনঊষারে ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে গবাদি পশুর প্রতিষেধ টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দশ দিনে গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য গ্রামের আনোয়ার খান ও ময়ুব আলীর ২টি মহিষ, শ্রীমতপুর গ্রামের তৈয়ব উল্লার ২টি মহিষ, মেহের বক্সের ২টি মহিষ, মনসুরপুর গ্রামের মধু মিয়ার ১টি মহিষ, কুতুব আলীর ১টি মহিষ, মিনারাই গ্রামের মুক্তার খাঁ এর ১টি মহিষ, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপসপুর গ্রামের মাসুক মাস্টার ও আব্দুল আলীর ২টি মহিষ গলাফুলা রোগে মারা গেছে।

উল্লেখিত গ্রামের লিয়াকত আলী, জহির আলী, মিনার মিয়া, মাহমুদ আলী, আশিক মিয়ার একটি করে গরু মারা গেছে। মারা যাওয়া গবাদি পশু দূরে মাঠে পড়তে থাকতেও দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মারা যাওয়া গবাদি পশুকে শিয়াল কুকুরও খাচ্ছে না। পতনঊষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামের ছমরু মিয়ার আক্রান্ত ৯টি ছাগলের মধ্যে তিনটি ছাগল মারা গেছে।

ছাগলের পেট ফুলা, পেট ব্যাথা, সর্দি, জ্বরসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশুর মধ্যেও রোগব্যাধী দেখা দিয়েছে বলে কৃষকরা জানান। মড়কে গবাদি পশু মৃত্যুর খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষে সোমবার (২০ মার্চ) পতনঊষার ইউনিয়নে ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে প্রায় তিন শতাধিক গবাদি পশুর মধ্যে প্রতিষেধক টিকা প্রদান করেছে।

মাহমুদ আলী, ফটিকুল ইসলাম সহ এলাকাবাসী জানান, পশু রোগব্যাধী দেখা দিলে প্রাণি সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করলেও লোকবল সংকট দেখিয়ে প্রথমে তারা কেউ গুরুত্ব দেয় না। পতনঊষার এলাকার সাংবাদিক ও সমাজসেবক ডা: আব্দুল হান্নান চিনু বলেন, এক সপ্তাহে পতনঊষারের তিনটি গ্রামে ১৭টি মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু বলেন, এতোসব গবাদি পশুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করার পর এখন তারা সচেতনতামূলক ক্যাম্পিং শুরু করেছে। ততক্ষণে কৃষকরা বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আসলে একজন মাঠ সহকারী কর্মকর্তা একা তিনটি ইউনিয়নে সঠিকভাবে হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে না উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগরে ভ্যাটেনারী সার্জন মো: হাবিবুর রহমান গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে দুটি ইউনিয়নে এসব গবাদি পশু মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নয়।

এখন প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হচ্ছে।  উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল হাই বলেন, হাওরে মহিষ নিয়ে যাওয়ার পর গলাফুলা রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব প্রাণি মারা গেছে। সোমবার পতনঊষারে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সচেতনতা মূলক ক্যাম্পিং শুরু করে প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে গবাধি পশুর প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here