নিহত হওয়ার আগে বাবাকে ফোন করে যা বলেছিল ‘মর্জিনা’

0
2089

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: নিহত মর্জিনার বাড়ি বান্দরবানের বাইশারি এলাকায়। বড় ভাই জহিরুল হক ও তার স্ত্রী আরজিনার কথায় দীর্ঘ ৮ মাস আগে বাড়ি ছেড়েছিল সে। এরপর যোগ দেয় নব্য জেএমবিতে। প্রশিক্ষণ নেয় অস্ত্র চালানো এবং বিস্ফোরক তৈরির।

লেখাপড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিও পেরোয়নি সে। বাইশারির কৃষক পরিবারের মেয়ে মনজিয়ারা। তার বাবা পানচাষী নুরুল আলম নাগু। পরিবারের সবার ছোট ছিল সে। ছিল সহজ-সরল প্রকৃতির। এ কারণে পরিবারের সবার আদরেরও ছিল।

কিন্তু এই মেয়ে যে ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য, ভয়ংকর জঙ্গি তা কেউ বিশ্বাসই করতে পারছে না। এদিকে আতিয়া মহলে নিহত মর্জিনার লাশ শনাক্ত করতে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মনজিয়ারার পরিবারের সদস্যরা। মনজিয়ারার বাবা নুরুল আলম নাগু ও বড় ভাই জিয়াউল হক সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন।

গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পশ্চিম আমিরাবাদ ‘সাধন কুঠির’ নামের একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে গ্রেফতার হয় এক জঙ্গি দম্পতি। এরা হল : জহিরুল হক ওরফে জসিম এবং তার স্ত্রী আর্জিনা বেগম ওরফে আকলিমা। একই দিন সাধন কুঠিরের মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে সীতাকুণ্ডের চৌধুরী বাড়ির প্রেমতলার জঙ্গি আস্তানা ‘ছায়ানীড়’ ভবনে অভিযান চালায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অভিযান শেষে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীসহ চার জঙ্গির লাশ। নিহত চার জঙ্গির মধ্যে মানজিয়ারার বড় বোন জুবাইদা ইয়াসমিন ও তার স্বামী কামাল এবং তাদের শিশুসন্তানের লাশ ছিল। সীতাকুণ্ডে অভিযান চালানোর সপ্তাহখানেক আগেই মর্জিনা (সাংগঠনিক নাম) সিলেটে অন্য জঙ্গি আস্তানায় চলে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম ওরফে নাগুর মেয়ে মনজিয়ারা পারভীন ওরফে মর্জিনা (১৬)। ৮ ভাই ও চার বোনের মধ্যে মনজিয়ারা ছোট। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত সে পড়ালেখা করেছে। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। বাবা দরিদ্র কৃষক। পানের বরজ করেই সংসার চালাতেন। মনজিয়ারার ভাই জিয়াউল হক মঙ্গলবার বলেন, গত রমজানের আগে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বড় ভাই জহিরুল হক তার স্ত্রী আর্জিনাকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন।

এর এক মাস পর গর্ভবতী ভাবী আর্জিনাকে দেখাশোনার কথা বলে মনজিয়ারাকেও বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রথম এক মাস পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ছিল। জিয়াউল হক আরও জানান, ঘর ছাড়ার পর প্রথম এক মাস যখন ফোনে যোগাযোগ করা হতো তখন মনজিয়ারা বলত তারা ভালো আছে। চট্টগ্রাম শহরে আছে। তাদের জন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না।

একইভাবে বড় ভাই জহিরুল হকও বলত তারা ভালো আছে। ভালো পাত্র পেলে মনজিয়ারাকে বিয়ে দেয়া হবে। জিয়াউল হক জানান, তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, ভাইবোনসহ পরিবারের এতগুলো সদস্য জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। মর্জিনার বাবা নুরুল আলম জানান, সর্বশেষ সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান শুরুর দ্বিতীয় দিনে তার মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে।

ওই নম্বরে তিনি (নুরুল আলম) ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে মর্জিনার কণ্ঠ ‘আমরা বিপদে আছি। এর পর ফোনের লাইন কেটে যায়। আর কথা বলতে পারেননি নুরুল আলম। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেফতার জঙ্গি দম্পতির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আতিয়া মহলে নিহত দুই জঙ্গির লাশ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেফতার জহিরুলের বোন মনজিয়ারা ওরফে মর্জিনা এবং তার স্বামী কায়সারের লাশ আছে বলে শনাক্ত হয়েছে।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here