Daily Archives: Apr 1, 2017

0 72

সিলেটের সংভাদ ডটকম ডেস্ক: অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকায় আসছেন না পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ড. শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসি ও মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর সিনিয়র ইমাম শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুযাইফি।

যদিও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৬ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আলেম-ওলামা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম ও মদিনার ইমাম ড. আবদুল মহসিন বিন কাসেম।

এই দু’জনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ৪ এপ্রিল ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে দায়িত্বশীল সূত্রে। সম্মেলন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, আগামী ৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দেবেন মক্কা-মদিনার ছয়জন ইমাম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘মসজিদে হারাম ও নববীর ইমামদের কমিটির প্রেসিডেন্ট হলেন ড. শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসি। অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে না পারলেও ওই কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনিক দিকটি যিনি দেখেন, সেই শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইমের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল আমাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

ইতোমধ্যে সম্মেলনে অংশ নিতে সারাদেশের উলামায়ে কেরামকে দাওয়াত করা হয়েছে। মক্কা-মদিনার ইমামকে বাংলাদেশে আনার প্রস্তুতি কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘ইমাম সাহেবরা আগামী ৪ এপ্রিল আসবেন। ৭ এপ্রিল তারা ঢাকা ত্যাগ করবেন। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সচিবালয়ের সভাশেষে ধর্মসচিব মো. আবদুল জলিল জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ এপ্রিল আলেম-ওলামা মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেবেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর খতিব। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন শায়খ আবদুল্লাহ হাসান আশ’শায়েরী, শায়খ আবদুল্লাহ মাজরু, শায়খ আবদুল্লাহ সোলায়মান তুর্কি ও শায়খ উমর মুহাম্মদ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি সূত্র জানায়, সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ও এর প্রতিরোধ বিষয়ে মক্কা-মদীনার খতিবরা এ আয়োজনে আলোচনা করবেন। তবে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় কাজে তারা অংশ নেবেন কিনা এ নিয়ে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কিছু জানাতে পারেননি।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি বৈঠকে মক্কা ও মদিনার দুই ইমামের ঢাকায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর কয়েকজন সদস্য রয়েছেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে দুই ইমামকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ৭ মার্চ আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সৌদি আরব যান। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন- আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য আলহাজ মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: ভারী বর্ষনে সিলেটের বিশ্বনাথে বিভিন্ন নদ-নদী ও এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ও  শুক্রবার ভোর বেলা থেকে অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন হাওর-নদী-খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে যদি আরও কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বন্যার আশংক করেছেন উপজেলাবাসী। শুক্রবার ভোর থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়ে বৃষ্টি থামে দুপুরে।

এরপর সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। তবে সূর্য্য দেখা একবারও মিলেনি। জরুরী কাজ ছাড়া লোকজন বাসা-বাড়ি থেকে বের হননি। দিনভর ভারী বর্ষণের ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দূভোগে এবং দিনমজুরি অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

পুরো উপজেলার জন জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে। তবে এখনো উপজেলায় কোথাও প্লাবিত হয়নি খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার লামাকাজি ও দেওকলস ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল রাস্তা পানির নিচের যাওয়ার আশংকা করছেন বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান। ভারী বর্ষনের ফলে এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

তবে এভাবে যদি আরও কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হয় তবে পুরো উপজেলার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গত দুইদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে সব থেকে সমস্যায় পড়েছে নিচু এলাকার ঘরবাড়ি-হাট বাজার। উপজেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা বিভিন্ন সরকারি অফিস-বাসার আঙ্গিনা পানি জমাট বেধে রয়েছেন।

ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের পুহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। টানা ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী-খাল-বিলে দিনদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৭হাজার ৬শত হেক্টর বোরোধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৩শ ৬০ হেক্টর, উফসী ৬ হাজার ৩শ ৪০ হেক্টর ও স্থানীয় বোরো চাষ হবে ৩শ হেক্টর জমিতে।

এব্যাপারে লামাকাজি ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, এভাবে বৃষ্টি হয়ে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে কিছুকিছু নিম্নাঞ্চল এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

কৃষি অফিসার আলী নূর রহমান বলেন, এলাকার কিছু কিছু জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে এভাবে অবিরাম বৃষ্টি হলে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, এখনো পর্যন্ত উপজেলার কোথাও প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এভাবে দিনভর বৃষ্টি হলে এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান।

0 1694

সিলেটের সংবাদ ডটকম: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মংলাপুর গ্রামের রাস্তার প্রবেশ মুখের সন্নিকটে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিলাস বহুল শিতাতপ নিয়ন্ত্রীত ভলবো গ্রীন লাইন বাসের (ঢাকা মেট্রো ব ১১-২৮৩৩) প্রায় অর্ধ শত যাত্রী মারাত্বক দূর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

তবে, যাত্রীদের অনেকেই বলেন চালক গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।  জানা যায়, গ্রীন লাইন বাসটি সিলেট থেকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে নবীগঞ্জের মংলাপুর এলাকা অতিক্রমকালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের বাম পাশ থেকে ডান পাশে গিয়ে মাত্র ১ ফুট জায়গার ব্যবধানে খাদে পড়েনি।। এতে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি সহ প্রানে রক্ষা পেলেন গাড়িতে থাকা যাত্রীগণ।

ছবি সংগ্রহ

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়ার ইউনিয়নের হাতুড়া গ্রামের প্রবাসী মাহতাব আলী ও তার পাশের দুই বাড়িতে এ ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার সংবাদে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) বাসুদেব বণিক, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা, শাহপরাণ (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সী, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফছর আহমদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. নিজাম উদ্দিন। এসময় তারা বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন।

পাশাপাশি ঘটনাটি আইনানুগভাবে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। জানা যায়, গত রাতে খুব ঝড়-বৃষ্টি ছিল, প্রচন্ড বজ্রপাতও ছিল। এ সুযোগে ১০/১৫ জনের একদল ডাকাত ইউনিয়নের হাতুড়া গ্রামে প্রবাসী মাহতাব আলী ও তার পাশের দু’টি বাড়িতে ডাকাতি ঘটায়।

সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাতি বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত করার পর বিষয়টি পুরোপুরি জানা যাবে। এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সুত্র:- সি.ভি

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: তিব্বতের নেতা দালাই লামাকে অরুণাচল প্রদেশে আসতে দিয়ে ভারত ভুল করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন।

তিব্বতের এই আধ্যাত্মিক নেতার সফরের কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং। তিনি বলেছেন, অরুণাচল সীমান্তে দালাই লামার প্রবেশের তীব্র বিরোধিতা করছে চীন।

এমনকি তিব্বতের এই নেতার সফরে ভারতের ভূমিকা নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করছে বেইজিং। গত কয়েক মাস ধরে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে বেইজিংয়ের। পাক অধিকৃত কাশ্মিরের ভেতর দিয়ে ওই করিডোর নির্মাণে ভারত বিরোধিতা করা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

এরই মাঝে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সফর ঘিরে আবারও চীন-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ভারতের অরুণাচলে তিব্বতের এই ধর্মীয় নেতার প্রবেশ মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে চীন।

অরুণাচল সফরের লক্ষ্যে শনিবার আসাম প্রদেশে পৌঁছেছেন দালাই লামা। উল্লেখ্য, আগামী ৪ থেকে ১৩ এপ্রিল অরুণাচল সফর করবেন দালাই লামা। অরুণাচলের কিছু অংশ চীনের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে বেইজিং। দালাই লামার অরুণাচল সফরে সেখানকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন মুখপাত্র লু ক্যাং।

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: এক বছর আগে সু চি নেতৃত্বাধীন সরকার মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে এই প্রথম বড় ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের ক্রমবর্ধমান লড়াইয়ের মাঝে শনিবার দেশটির পার্লামেন্টের ১৯টি আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ নির্বাচনকে সু চির জন্য অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সু চির নেতৃত্বের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও ইঙ্গিত মিলবে। দেশটির জাতীয় এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ১৯টি আসনে এমন এক সময় এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে; যখন আকাশচুম্বী প্রত্যাশার সঙ্গে খাপ খাওয়ার লড়াই করছেন সু চি; যা তার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) ক্ষমতায় নিয়ে যায়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে সংস্কার এবং উন্নয়নের শ্লথগতি নিয়ে জনগণের হতাশার কথা স্বীকার করেন সু চি। এ সময় তিনি মিয়ানমারের জাতিগত দ্বন্দ্ব; যা দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে গেছে, তা অবসানে তার শীর্ষ অগ্রাধিকারের পুনরাবৃত্তি করেন। এ নির্বাচনের ফল পার্লামেন্টে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ সু চির এনএলডির ক্ষমতার ভারসাম্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তবে প্রশাসনের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি সুযোগ। মিয়ানমারে মতামত ভোটের কোনো সুযোগ নেই। এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতা উইন হতেইন বলেন, শান রাজ্যের জেলাগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার দল। সম্প্রতি এ রাজ্যের কিছু এলাকায় লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এনএলডির এই নেতা বলেন, ‘আমরা শান রাজ্যের পরিস্থিতি উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করছি। স্থানীয় জনগণ বার্মিজ ভাষা বুঝতে পারেন না। এজন্য আমাদের নীতিমালা শান ভাষায় অনুবাদ করতে হয়েছে। সু চির শান্তি প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যানকারী শান রাজ্যসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে।

সু চি দায়িত্ব নেয়ার পর বেশ কিছু দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান বলছে, এতে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দেশটির সোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০ লাখ মানুষ শনিবারের উপ-নির্বাচনে দিতে পারবেন। গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে সহিংস হামলার পর অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী এই অভিযানে ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় শান্তি নোবেল বিজয়ী সু চি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রাখাইনে ত্রাণ কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগও উঠেছে। মন্ত্রী পদে যোগদানের পর শূন্য অাসনে এ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া সহিংসতার কারণে গত নির্বাচনে সংখ্যালঘু কিছু এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি; এবার এসব এলাকার কয়েকটি আসনে এ উপ-নির্বাচন হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে নির্বাচনী ফল আসতে পারে বলে দেশটির নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করেছে।

শোয়েব উদ্দিন, (জৈন্তাপুর): টানা ৩দিন ধরে অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন। কৃষকের উঠতি ফসলী জমি। কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা। উপজেলা চেয়ারম্যান তলিয়ে যাওয়া উঠতি ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেন।

সিলেটের জৈন্তাপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় উপজেলার প্রায় ৩হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির উঠতি ফসলি জমির ধান, তরমুজ, কুমড়া সহ নানা প্রজাতির ফসলের ব্যাপক চাষাবাধ হয়।

কৃষি অফিসের তত্তাবধান ছাড়া কৃষকরা নিয়মিত ভাবে ফসলাদী ফিলিয়ে আসছে। সম্প্রতি গত ২৯ মার্চ হতে আগাম বৃষ্টি এবং পাহাড়ী ঢলে এসকল ফসলী জমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। মার্চ মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ বৃষ্টির ফলে কিছুটা ক্ষতি হলেও চলমান অতি বৃষ্টি এবং পাহাড়ী ঢলের কারনে উঠতি ফসলী জমি তলিয়ে যাচ্ছে।

ফলে সাধারণ কৃষকরা সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে উপজেলা জুড়ে। সরজমিনে কেন্দ্রি হাওরের কৃষক আব্দুল আহাদের সাথে আলাপচারিতায় তিনি জানান- কেন্দ্রি মৌজায় প্রায় ১শত একর জমিতে সেচ পদ্ধতীর মাধ্যমে রোরো আমন বিআর-২৮ সহ বিভিন্ন প্রজাতীর শাকসব্জি চাষাবাঁধ করা হয়েছে। ইতো মধ্যে শাক সব্জি বৃষ্টির পানিতে পচন ধরে গেছে।

সম্প্রতি পাহাড়ী ঢলে এবং অতি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় ধানের চারা পানির মধ্যে তলিয়ে যায়। এতে সমুহ ফসলের ক্ষতির আশংঙ্কা কৃষকের মধ্যে বিরাজ করছে। অপরদিকে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর হোসেন, এখলাছুর রহমান, রহিম উদ্দিন, জজু মিয়া, হোসেন মিয়া, সিরাজুল ইসলাম তাদের ক্ষতির সম্ভাবনার কথা জানান।

এছাড়া নিজপাট ইউনিয়নের হর্ণি, বাইরাখেল, ফুলবাড়ী এলাকার কৃষক মনসুর আলম, পঙ্খী মিয়া, হোসেন আহমদ, ঘিলাতৈল গ্রামের পলাশ দাস, মনোরঞ্জন দাশ, নিখিল দাশ, খন্দকার আব্দুল মালেক, সুলেমান আহমদ, তলিয়ে যাওয়া জমির ফসলের কাছে বসে মাথায় হাত দিয়ে আর্তনাদ করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে চারিকাটা ইউনিয়নের থুবাং, বালিদাঁড়া, সরুখেল দরবস্ত ইউনিয়েনের খলাগ্রাম, মহাইল, লামা মহাইল কাঞ্জর, সেনগ্রাম, মুটগুঞ্জা, গর্দনা, শুকইনপুর, ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু তিনপাড়া, দাউদপাড়া, বালিপাড়া, মাজরটুল, নয়াগ্রাম, হরিপুর, এবং চিকনাগুল ইউনিয়নের রামেশ্বর, কহাইগড়, ঘাটেরছটি এলকার নিম্নাঞ্চলের ফসলী জমি পাহাড়ী ঢলের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল ৩১মার্চ শুক্রবার উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বৃষ্টিতে ভেজে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সান্তনা দেন। কৃষদের যে কোন পরিস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাসদেন।

কৃষকরা জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসাইন কৃষকদের সাথে কোন প্রকার সহযোগিতা ও সাক্ষাত দিচ্ছেন না বলে ক্ষুব্ধতায় তারা ফেটে পড়েন। এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন- প্রকৃতির উপর কাহারো হাত নেই। আমরা কৃষকের কছে ছুটে গিয়ে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি। আগামী দিনের যে কোন ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কৃষকের মাঝে আমরা সহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ জেলায় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সব নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার ২ দশমিক ১১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে ও ভেঙে ধর্শপাশা উপজেলার ৮টি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে।  দুই হাজার হেক্টরের বেশি বোরো জমি তলিয়ে গেছে বলে জানা যায়।  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক জানিয়েছেন, বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার হেক্টর এবং জলাবদ্ধতার শিকার প্রায় ১ হাজার হেক্টর বোরো জমি।

ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম, দিরাইয়ের বরাম, তাহিরপুরের শনি ও মাটিয়ার হাওরে বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারও দেখা পাচ্ছেন না কৃষকরা। বৃহস্পতিবার ভোর রাত ও শুক্রবার সকালে ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল, ডুবাইল, মধ্যনগর থানার মধ্যনগর মেঘনা, মরিচাউরি, শালদিঘা, চারমদানী ইউনিয়নের গুরমা, কাইলানী, আরিবন, বুড়া ছুপরি হাওরের বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে।

হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণে জেলার বিভিন্ন হাওর পাড়ে মাইকিং করে কৃষকদের বাঁধে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পানিতে ডুুবে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর, ঘোল্লা, মাহমুদপুর, মুক্তারপুর, দয়ালপুর ও আমানীপুরসহ আশপাশের সকল গ্রাম, মধ্যনগরের সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া, বৈঠাখালী, জমসেরপুর, নোয়াগাঁও, পিঁপড়াকান্দা, বৌলাইখালী, তেলিপাড়া গ্রাম, চামরদানী ইউনিয়নের আবিদনগর, কাদিপুর, সাদিপুর, দুগনই, কাহালা, বিশাড়া, সাজদাপুর, কামারগাঁও, নন্দীপাড়া, দরাপপুর নোয়াগাঁও ও জগন্নাথপুর, বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের পলমাটি গ্রাম, জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর এবং তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের কৃষকদের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে।

জামালগঞ্জ উপজেলার,বেহেলী ইউনিয়নের হরিনগর,কুমড়িয়া,পুটিয়া, রাজাপুর অত্র (চার) গ্রামের ২টি ওয়ার্ডের বাথান নামক ১টি হাওর অতিবৃষ্টির কারণে ডুবু ডুবু অবস্থা এই হাওরে প্রায় ৬০০ একর জমি রয়েছে।তাই অত্র হাওরের কৃষক ভাইদের মনকে সান্তনা দেওয়ার জন্য সামর্থ অনুযায়ী ১টি মাত্র সেচ পাম্প বসানো হয়েছে।আর তাই অত্র হাওরের কৃষকেরা চিন্তায় হাহাকার করছে।

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের ধল ও কাদিরপুর গ্রামের কাছের তুফানখালী বাঁধ ভেঙে কালনী নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করছে। স্থানীয় লোকজন বাঁশ ও বস্তা নিয়ে এই বাঁঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ সকালে ওই বাঁধ পরিদর্শনে গেলে তাকে ধাওয়া করে কৃষকরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে রক্ষা করে।

এ ছাড়া শুক্রবার সকালে ওই বাঁধ পরিদর্শন করেছেন দিরাই-শাল্লার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা ও জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা অভিযোগ করছেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ সময়মতো না করায় চৈত্র মাসেই বোরো ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের ছয় মাসের সকল কষ্ট মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পানিতে তলিয়ে গেছে।

নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও দুর্বল বাঁধের কারণে হুমকিতে রয়েছে জেলার দিরাই উপজেলার বরাম হাওর, জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনা ও হালির হাওর, তাহিরপুর উপজেলার শনি ও মাটিয়ান হাওর, সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচা, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওরসহ ছোট-বড় সকল হাওরের বোরো ধান। টানা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কোনো হাওর তলিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও দুর্বল বাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে হাওর তলিয়ে যাচ্ছে।

কৃষকদের এই চরম দুর্যোগে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তাকে কাছে পাচ্ছেন না কৃষকরা। ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, পাউবোর ঠিকাদার বাঁধ নির্মাণ না করায় ডুবাইল হাওর বৃহস্পতিবার রাতে তলিয়ে গেছে। সকল ফসল কাঁচা অবস্থায় তলিয়েছে। মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন, বাঁধ নির্মাণে পাউবো ও পিআইসির অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই অল্প বৃষ্টিতেই দুর্বল বাঁধ সহজে ভেঙে যাচ্ছে।

চৈত্র মাসে কোনো বাঁধ ভাঙা ও হাওর তলিয়ে যাওয়ার নজির না থাকলে শুধু অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই তা হচ্ছে। জগন্নাথপুর অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওররক্ষা বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায়, বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কতটুকু রক্ষা করা সম্ভব হবে এ নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে।

ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন হাওরের কমপক্ষে ২০০ একর জমির আধাপাকা ফসল তলিয়ে গেছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সহ পাউবোর মাঠ কর্মকর্তারা মাঠে থাকলেও হাওরের বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহেদুল হক জানান, দুর্বল বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বাঁধ ভেঙে ধর্মপাশার চন্দ্র সোনারথাল, ডুবাইল হাওর ও পিআইসির বাঁধ ভেঙে মধ্যনগরের গুরমা, কাইলানী, মেঘনা, মরিচাউরি হাওরের বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে।

বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে। বৃষ্টি বন্ধ না হওয়ায় জলাবদ্ধতার পরিমাণ বাড়ছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছর উদ্দিন জানান, ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার থাল, ঘুরমা ও দোয়ারাবাজারের দোহালিয়া, দিরাইয়ের বরাম হাওরের গাগড়াখালী ও তুফানখালী বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব বাঁধ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করা হচ্ছে। মধ্যনগরে যে কয়েকটি বাঁধ ভেঙে হাওর ডুবেছে, সেই বাঁধগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নয় বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিপাতে সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে বলে জানা গেছে। দিরাইয়ের তুফানখালী বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না করা ও বাঁধ নির্মাণে পিআইসিদের চাহিদামতো বরাদ্দ দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সকল হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সকল ইউএনওকে বাঁধে কঠোর নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাঁধে থাকতে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি। চলতি বছর সুনামগঞ্জে বোরো ফসলের আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৫৮ কোটি টাকা ৭০ লাখ টাকার বাঁধের কাজ হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ১০ কোটি ৭৭ লাখ ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চেরমধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসির কাজ শেষ হয়নি ও ঠিকাদারের কাজ সময়মতো শেষ হয়নি।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রদল কর্মী ইমাম হাসান ওরফে ডন হাসানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

নিহত ইমাম হাসান ওরফে ডন হাসান (২৭) এর মা জায়রা বেগম বাদী হয়ে শনিবার সকালে এ মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে মামলার চারজন আসামীকে আটক করা হয়েছে আটক হয়েছে।

সিলেট কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় এজাহারে ১৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই রাব্বি, সাজু ও আবির তিনজনকে আটক পুলিশ। শনিবার আটক করা হয় রায়হান নামের আরেক আসামীকে। তিনি আরোও জানান, শনিবার বেলা ৪টার দিকে নিহত হাসানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে তার লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। পুলিশ জানায়, ডনের বিরদ্ধে থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত ৪টি মামলা রয়েছে। ৫/৭ মাস আগে কারাগার থেকে বের হন হাসান। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ২২ মার্চ মেডিকেল কলোনী এলাকায় আল রাইয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী এহতেশামুল হক শাওনকে (১৭) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং পেট্রোল ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় শাওন। এ ঘটনায় শাওনের বাবা এনামুল হক সোহাগ ৭ জনকে আসামী করে কতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে হাসান পলাতক ছিল। এরপর ডন হাসান আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ৫/৭ মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

ডন হাসান স্কুল ছাত্র শাওন হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত প্রধান আসামী ছিলেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, পুলিশ এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত লম্বা রড সমেত সূচালো ছুরি এবং একটি ওয়ান শুটারও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিহত ডন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে মেডিকেল রোডের শাপলা বোর্ডিং এর সামন থেকে ডন হাসান ও তার এক সঙ্গীকে ধাওয়া করে নবাব রোডের দিয়ে নিয়ে যায় কয়েক যুবক। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে যাওয়া মাত্র ডন হাসান থেমে হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে।

এ সময় তাকে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে হামলাকারীরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ডন হাসানের মৃত্যু হয়। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিলেটের সংবাদ ডটকম:  সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা  বজ্রপাতে পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয়েছে। তারা হচ্ছে-উপজেলার তেলিখাল ইউনিয়নের দলইরগাঁও গ্রামের ফজল উদ্দিন(৪২) এবং তার পুত্র নুর উদ্দিন(১১)।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে প্রচন্ড ঝড়ের সাথে বজ্রপাতও হয়।

এ সময় নিজ ঘরে বজ্রপাতে ফজল উদ্দিন ও তার ছেলে মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শনিবারই নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান ওসি।

0 449
গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে সিলেটের সংবাদ ডটকমে ‘সিলেট নগরীতে সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত : গ্রেফতার চার ছাত্রলীগ নেতাকে রিমান্ডের আবেদন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত...

0 1469
সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তির। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না...