ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা : আটক ৪

0
204

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রদল কর্মী ইমাম হাসান ওরফে ডন হাসানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

নিহত ইমাম হাসান ওরফে ডন হাসান (২৭) এর মা জায়রা বেগম বাদী হয়ে শনিবার সকালে এ মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে মামলার চারজন আসামীকে আটক করা হয়েছে আটক হয়েছে।

সিলেট কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় এজাহারে ১৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই রাব্বি, সাজু ও আবির তিনজনকে আটক পুলিশ। শনিবার আটক করা হয় রায়হান নামের আরেক আসামীকে। তিনি আরোও জানান, শনিবার বেলা ৪টার দিকে নিহত হাসানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে তার লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। পুলিশ জানায়, ডনের বিরদ্ধে থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত ৪টি মামলা রয়েছে। ৫/৭ মাস আগে কারাগার থেকে বের হন হাসান। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ২২ মার্চ মেডিকেল কলোনী এলাকায় আল রাইয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী এহতেশামুল হক শাওনকে (১৭) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং পেট্রোল ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় শাওন। এ ঘটনায় শাওনের বাবা এনামুল হক সোহাগ ৭ জনকে আসামী করে কতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে হাসান পলাতক ছিল। এরপর ডন হাসান আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ৫/৭ মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

ডন হাসান স্কুল ছাত্র শাওন হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত প্রধান আসামী ছিলেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, পুলিশ এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত লম্বা রড সমেত সূচালো ছুরি এবং একটি ওয়ান শুটারও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিহত ডন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে মেডিকেল রোডের শাপলা বোর্ডিং এর সামন থেকে ডন হাসান ও তার এক সঙ্গীকে ধাওয়া করে নবাব রোডের দিয়ে নিয়ে যায় কয়েক যুবক। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে যাওয়া মাত্র ডন হাসান থেমে হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে।

এ সময় তাকে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে হামলাকারীরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ডন হাসানের মৃত্যু হয়। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here