Daily Archives: Apr 3, 2017

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহজিরগাঁও গ্রামের আওলাদ আলীর পুত্র সেলিম আলীর বাড়ি থেকে ১১টি ও পুরাণ বাজার থেকে ২টি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

চোরাই কাজে সেলিমের ব্যবহৃত একটি ছোট পিকআপ (মৌলভীবাজার নং ১১-০১১৮) জব্দ করে পুলিশ। উপজেলার কান্দিগাঁও-নোয়াগাঁও গ্রামের আলকাছ আলীর পুত্র আহাদ আলী বাদি হয়ে গরু চুরির অভিযোগে গতকাল সোমবার বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা নং ০১ (তাং ৩/০৪/১৭ইং)। মামলায় উপজেলার শাহজিরগাঁও গ্রামের আওলাদ আলীর পুত্র সেলিম আলী ও জানাইয়া-নোয়াগাঁও গ্রামের সমছু মিয়ার পুত্র তুরুন মিয়া’র নাম উল্লেখ ও আরোও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লিখিত এজাহারে বাদী (আহাদ) উল্লেখ করেছেন, গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে বাদীর চোরাই হওয়া ২টি গরু বিক্রি করার জন্য পুরাণ বাজারের গরু হাটে তোলা হয়েছে।

বাদী সংবাদ পেয়ে বাজারে এসে নিজের গরু ২টি দেখতে পেয়ে গরুগুলোর ব্যাপারে অভিযুক্তদের (সেলিম ও তুরুন)’কে জিজ্ঞাসা করলে অভিযুক্তরা বাদীকে সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে দৌড়াইয়া পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে বাদী ইজারাদারের কাজে গরু ২টির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। তখন ইজারাদার বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এসময় থানার এসআই রফিকুল ইসলাম গরু ২টি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন।

এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেলিমের বাড়ি থেকে আরোও ১১টি চোরাই গরু জব্দ করে থানা নিয়ে আসেন। গরু চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বিশ্বনাথ পুরাণ বাজার থেকে ২টি ও সেলিমের নিজ বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার এবং চোরাই কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রান্সফরমার চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে ৩টি ট্রান্সফরমার সহ গত এক মাসে উপজেলার কয়েকটি স্থান থেকে ১১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ফলে অন্ধকারে রয়েছে দু’টি গ্রাম। নতুনভাবে টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনতে গিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অভিযোগ করেছেন।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিস ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নারায়নক্ষেত্র গ্রাম থেকে ১টি, রামচন্দ্রপুর থেকে ২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।

এছাড়া এক মাসের ভিতরে বিভিন্ন সময়ে উপজেলার ফাজিলপুর গ্রাম থেকে ৩টি, নইনারপার এলাকা থেকে ৫টি সহ সর্বমোট ১১টি ট্রান্সফরমার চুরি ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রান্সফরমার চুরির নতুন করে না লাগানো পর্যন্ত গ্রামবাসীদের অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। তাছাড়া টাকা দিয়ে নতুনভাবে ট্রান্সফরমার কিনতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন।

নারায়নক্ষেত্র গ্রামের মো. শাহজাহান আহমদ, জসিম মিয়া সহ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বলেন, একটি সিন্ডিকেট ট্রান্সফরমার চুর চক্র একই রাতে দুটি গ্রাম থেকে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়। ফলে পোল্ট্রি খামারসহ প্রায় দেড়শ পরিবার অন্ধকারে রয়েছে। তারা আরও বলেন, টাকা দিয়ে নতুনভাবে ট্রান্সফরমার কিনে লাগাতে গরিব গ্রাহকদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, ট্রান্সফরমার সিন্ডিকেট চক্রের সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় অসাধু চক্রও যুক্ত রয়েছে। যে কারনে তারা দক্ষতার সহিত দ্রুত সময়ে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়। এসব বিষয়ে প্রশাসনিকভাবেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের প্রকৌশলী বিদ্যুৎ রায় এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১টি ট্রান্সফরমার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোবারক হোসেন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ফলে অধীনস্থ গ্রাহকরা প্রথম দফায় অর্ধেক টাকা এবং দ্বিতীয় বার চুরি হলে পুরো টাকা পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার কিনে নিতে হয়। প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয় বলে তিনি জানান।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: দুষ্টু বানরের উপদ্রব ও হামলা থেকে রক্ষা পেতে স্মারকলিপি দিয়েছেন সিলেট নগরীর ৫নং ওয়ার্ডবাসী। রোববার (২এপ্রিল) সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী জানান, আশপাশ এলাকার ঝোপজাড় ও গাছ বৃক্ষে থাকা দুষ্টু বানরদল বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অকস্মাৎ ঢুকে পড়ে। বানররা হাড়িপাতিল ও খাবার-দাবার নষ্ট করে দেয় এবং শিশু-কিশোরদের আচড়ে ও কামড়ে আহত করে চলে যায়।

গত কয়েকদিন ধরে বানরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্যে দিনযাপন করছেন। রাতদিন ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে থাকতে হচ্ছে তাদের।

তারা জানান, বানরগুলো এতোদিন নগরীর চাষনী পীর মাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন আর সে এলাকায় না থেকে সারা ওয়ার্ড এমনকি নগরীর অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে এবং মানুষের অনিষ্ট সাধন করে চলেছে। এ পর্যন্ত অনেক শিশু-কিশোর আবাল বৃদ্ধ বানরের আক্রমনের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী তাদের জানমাল রক্ষায় বানরগুলো নগরীর বাইরে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জোর দাবি জানান।

স্মারকরিপি প্রদানকালে এরাকাবাসী পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, গোয়াইপাড়া পুরাতন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী সোলেমান মিয়া, মফিজ মিয়া, বাসন মিয়া, সাদির মিয়া সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে রোববার সকালে নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায় বানরের আকস্মিক হামলায় এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বনকলাপাড়া ৩৯/৩, বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কামুদপুর গ্রামের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে রাতের আধারে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বর আহত প্রবাসীসহ তার সহযোগী কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

গত রোববার রাত ১০ টার দিকে শমশেরনগর-ভানুগাছ সড়কের কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত প্রবাসী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি গত রোববার রাতে আলীনগর চৌমুহনী বাজার থেকে নিজ বাড়ী কামুদপুরে ফিরছিলেন।

রাত প্রায় ১০ টার দিকে কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আসা মাত্র পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা পূর্বকালীপুর গ্রামের উসমান উল্লার ছেলে আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ এর গ্রাম পুলিশ আশিক মিয়া ও  কামুদপুর গ্রামের মজমিল মিয়ার ছেলে মকলিছ মিয়া দেশীয় বল্লম ও ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে (নজরুল ইসলাম) কুপালে মুখ, হাতের আঙ্গুল, মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান কেটে যায়। এ সময় তার সাথে থাকা সজ্জাত মিয়া হামলাকারীদের বাধা দিলে হামলাকারীরা সজ্জাত মিয়ার উপরও হামলা করে। এতে সজ্জাত মিয়ার হাতের আঙ্গুল কেটে যায়। সজ্জাত মিয়া মাথা, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাদের চিৎকারে আশপাশের মানুষজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় প্রবাসী নজরুল ইসলাম মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  অভিযোগ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্য আশিক মিয়া ও  কামুদপুর গ্রামের মকলিছ মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল হাসান এ ধরনের ঘটনা আমি জানি না। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেটের সংবাদ ডটকম: নগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর অপারেশন টোয়াইলাইটে নিহত চার জঙ্গির মধ্যে দুই জঙ্গির লাশের দেহাবশেষ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তাদের দুজনের শরীরে লাগানো ‘সুইসাইড ভেস্ট’ বিস্ফোরিত হয়ে যাওয়ায় কারো ফেইস (মুখ) চেনার মতো উপায় নেই। ফলে এ দুটো লাশের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে: কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ।

সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং র‌্যাব হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে দুপুর ১২টা থেকে আতিয়া মহলের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল এবং ডগ স্কোয়াড।

এ সময় ভবনের নিচ তলা থেকে দুটি লাশের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, ভবনের ভেতরে অনেক ধ্বংসস্তুপ-ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। ওই ধ্বংসস্তুপে কোন বিস্ফোরক রয়েছে কিনা তা চেক করতে হবে। প্রথম দিনে ওই ভবন থেকে কোন বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। তাছাড়া ভবনের ভেতরে অনেক আইইডি থাকায় সতর্কতার সাথে অপারেশন পরিচালনা করতে হচ্ছে।

ভবনটি পুরোপুরি বিস্ফোরকমুক্ত করে ক্লিয়ার করতে আরো কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সার্ভিস অর্গানাইজেশনসমূহ তাদেরকে সহযোগিতা করছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ফের অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি। উদ্ধার অভিযানের টেকনিক্যাল সাইড তদারকি করছেন র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের লে: কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাহমুদ। প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি ছাড়াও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার বাসুদেব বণিক, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার(মিডিয়া) জেদান আল মুসাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সকাল সকাল ৮টায় আতিয়া মহল পরিদর্শনে আসে র‌্যাবের বোম ডিসেপোজাল ইউনিট। দুপুর ১২টা থেকে ভবনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে তারা। অভিযান চলাকালে ভবনের চারপাশে অবস্থান নেয় র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে শিববাড়ি পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

সানিউর রহমান তালুকদার, (নবীগঞ্জ): বাবার বড় স্বপ্ন ছিল দ্বিতীয় পুত্রকে ইউরোপ পাঠিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল! তা আর পুরণ হলনা। বাবাকে বাচাঁতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছিনে ফেলায় চিরতরে বিদায় নিতে হলো জামিলের।

তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন ও সহকর্মীদের কাঁদিয়ে সে এখন এখন পরপারে। জামিলের সাথে আর ফোনে কথা হবে না, দেখা বা আড্ডা কিছুই হবেনা সহপাঠিদের।

নির্মমভাবে কুপিয়ে জামিলকে যে বা যাহারা হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন তার পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজন, সহকর্মী, শুশীল সমাজ সহ সর্বস্থরের লোকজন।

অপর দিকে তার ভাই সৈয়দপুর মাদ্রাসার আলীমে অধ্যায়নরত কোরআনে হাফেজ এবারের দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল মওদুদ আহমদ।

কিন্তু মা-বাবা, ভাই-বোনের আত্মচিৎকারে জামিলের মতো মওদুদ ও বাবাকে বাচাঁতে এগিয়ে আসলে দূর্বৃত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে মওদুদ তার ভাইয়ের শোকে হাউমাউ করে কাদঁছে ও বারবার অজ্ঞাণ হচ্ছে। এ যেন এক খড়ার উপর মরার গা। যেটা মানবতার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাত অনুমান আড়াইটার দিকে আউশকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের আমীর মাওলানা মোস্তফা আহমদের বাড়ি মংলাপুরে ডুকে অস্ত্রধারী একদল দূর্বৃত্ত পাকা দালান বাড়ির কলাপসিবল গেইটের তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মাওলানা মোস্তফা আহমদ এর রুমে ডুকে তাকে এলোপাতারি মারপিট শুরু করে।

এসময় তার স্ত্রী সালেহা আক্তার হাউমাউ করে চিৎকার দিয়ে অন্যান্য রুমে ঘুমিয়ে থাকা তার পুত্র জামিল আহমদ সিলেট লিডিং ইউনির্ভাসিটির অর্নাস ২য় বর্ষের ছাত্র জামিল আহমদ (২৫), সৈয়দপুর মাদ্রাসার আলীমে অধ্যায়নরত মওদুদ আহমদ (২০), আউশকান্দি দি লিটল ফ্লাওয়ার জুনিয়র হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র মাসুদ আহমদ (১৪) এগিয়ে আসলে তাদেরকেও অস্ত্র দিয়ে বেধরক কুপিয়ে আহত করে তাদের বাবাকে পেটাতে থাকে।

অর্ধয্য হয়ে একপর্যায়ে তাদের বাবাকে রক্ষা করতে ডাকাতদের সাথে পাল্টাপাল্টি আক্রমন চলে। এতে সংঘবদ্ব ডাকাতদল ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপাতে তাকে। প্রায় ৩০/৩৫মিনিট সময় ডাকাতদের সাথে চলে তাদের তিন ভাইয়ের পাল্টাপাল্টি হামলা। একপর্যায়ে জামিল মুখোশপড়া দূর্বৃত্তদের মূখোশ টান মেরে খুলে ফেলায় জামিলকে তাদের বাড়ির উটানে নিয়ে বেধরক প্রহার করে।

ভাই জামিলের চিৎকার শুনে অপর দুই ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরকেও অস্ত্র দিয়ে বেধরক প্রহার করায় এতে তারা ৩ সহোদর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটি পড়ে। এর পর জামিলকে মৃত ভেবে দূর্বৃত্তরা চলে যায়।

তার মা ও বোনের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্বার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামিল আহমদকে মৃত ঘোষনা করেন।

অপর আহত ২ সহোদর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে মাওলানা মোস্তফা আহমদ এর কন্যা সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর ছাত্রী তামান্না আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, আমার পিতা ও ভাইকে যারা নির্মমভাবে হত্যা ও লুটপাট করেছে আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

তামান্না আক্তার আরো জানায়, তার বাবার একটি টাকার সাইড ব্যাগ লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। আমার বাপ-ভাইকে আমাদের চোখের সামনে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ঘাতকরা এটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা এমন কথা বলতে বলতে সে অজ্ঞাণ হয়ে পড়ে। জামিলের মাতা সালেহা আক্তার পুত্র হত্যার নির্মম ঘটনার বিবরন দিয়ে পুত্রের শোকে বার বারই মুর্ছা যান।

এবং তিনি তার ছেলে জামিল হত্যাকারীদের শাস্তি দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে আমাদের বাড়িতে  ডাকাতরা ডুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার সহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর পরও শান্ত হয়নি। তবে, এবার আমার কলিজার টুকরা জামিলকে আমার বুক থেকে কেড়ে নিল। আমি এর বিচার চাই।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসির এস.এম আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মামলা হয়েছে। ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ হৃদয় বিধারক মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.স.ম সামছুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের মাতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭/৮জন কে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

 

 

 

0 39

হাসান হামিদ: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘চোখেরবালি’ নিয়ে লিখেছিলাম গেল বছর। সেই লেখাটির পর ‘নৌকাডুবি’র উপর একটা লেখা শেষ হওয়ার আগেই খবর পেয়েছি কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের নৌকাডুবি হয়েছে।

নিজের পরাজয় সম্পর্কে আঞ্জুম সুলতানা সীমা তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিচ্ছু নেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাকে মনোনীত করেছিলেন। নৌকা প্রতীক আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। আসলে আমাদের রাজনীতির এই ট্র্যাডিশন খুব পুরানো, বহুদিন থেকেই সমানে চলছে। বড় নেতাদের বন্দনায় ব্যস্ত হয়ে খুশি করে যে যার মতো আখের গোছানোর রাজনীতি আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়।

এইসব কাণ্ড অতীতে অনেক দলের নেতা-নেত্রীদের প্রায় শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসলেও দলীয় নেতাদের হুঁশ  ফেরেনি। আমি অনেক দিন ধরে খুব উদ্বিগ্নের সাথে লক্ষ করেছি, শুধু মধ্যবিত্ত  রাজনীতিবিদেরাই নন, এ দেশের মন্ত্রী-এমপিরাও যে কোনো বিষয়ে কাজ-কামের কথার চেয়ে তেলবাজিটাই বেশি করেন।

শীর্ষ নেতৃত্বকে খুশি করতে নানা  স্তুতি আর বন্দনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরা কি রাজনীতির সংজ্ঞা জানেন? রাষ্ট্র বিষয়ক থিওরিগুলো? তাহলে আর দেশে প্রশ্ন ফাঁস, সরকারি আমলাদের ঘুষ বাণিজ্য; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সোনার বাংলার চিন্তা করে কী লাভ আছে কোনো? আমার তো মনে হয় সবকিছুর আগে এইসব মূর্খদের ঠেখাতে হবে, যারা নিজেদের অযোগ্যতাকে ডাকতে দিনে ছয়বেলা মোসাহেবীতে ব্যস্ত থাকেন।

লজ্জাহীনতা নেই, বুঝে না বুঝে ঠিক ঠিক করে, মাথা কাত করে সব মেনে নেওয়া মানুষগুলো একবারও কি ভাবে দেশের কথা? বঙ্গবন্ধু তো ভোগের রাজনীতি করেন নি। আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো ভাষণে বা বক্তৃতায় নিজেদের কথা বলেন না। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কিংবা কাজের কথা বলার চেয়ে পুরো সময় প্রধানমন্ত্রীর বন্দনায় মত্ত থাকেন।

মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়, এরা কি আসলে প্রশংসা করছেন নাকি কৌশলে আখের গোছাতে নেমেছেন? এ জাতীয় মোসাহেবী এবং দল ও দলের কাজ বাদ দিয়ে প্রশংসার নামে কথা বলার ভেতর দিয়ে তারা যে অন্যায় করছেন, তার একটা বড় প্রমাণ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী ফলাফেল আওয়ামী লীগের ভরাডুবি। কিন্তু নৌকাডুবির এই সংকেত ধানের শীষে হাওয়া দিচ্ছে এ কথা কয়জন বুঝেন?

তবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফল কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলেছে ক্ষমতাসীনদের। দুই নির্বাচনেই ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। সুপ্রিমকোর্টে নির্বাচনে পরাজয়ের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করা হলেও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের  নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইকে দায়ী করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

আসলে অন্য ব্যাপারও  আছে। খেলা হতে হয় সমানে সমানে। ব্যবধান বড় হলে খেলা জমে না। হার জিতেও কিছু যায় আসে না। আর্জেন্টিনা যদি অনেক দিন শুধু ভুটান আর মালদ্বীপের সঙ্গে  খেলতে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা তার নিজের শক্তি সম্পর্কে কার্যত সঠিক ধারণাটি এক সময় করতে পারবে না, এটাই স্বাভাবিক। তারপর হুট করে একদিন ব্রাজিলের সাথে খেলতে নামলে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

সমানে সমানে পরস্পর খেলায় উভয়ই টেকনিক জানে, কৌশল বোঝে এবং একজন আরেকজনকে টপকে যায়। আর আমাদের দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল এখন নেই। তাই আওয়ামী লীগ  এরশাদের সঙ্গে খেলে বা ওয়াক ওভার নিয়ে জয়ী ভাবে, তখন যে কোনো শক্ত মোকাবেলায় সে হারবেই। এখন অনেকে বলবেন, সরকার লোকাল প্রশাসন বা স্থানীয় নির্বাচনে ছাড় দিয়ে বিএনপিকে আসলে জাতীয় নির্বাচনে আনতে চাইছে।

এতে প্রলুব্ধ হয়ে তারা আসবে এবং গো হারা হারবে। কিন্তু কিভাবে? যে মানুষগুলো এসব নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে তারা জাতীয় নির্বাচনে মত বদলাবে? কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে জেলার দুই সংসদ সদস্যকে অভিযুক্ত করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে ২০১২ সালের কুসিক নির্বাচনেও আফজল খানকে হারিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক  সাক্কু।

আফজল এবং বাহারের দ্বন্দ্ব অনেক আগে থেকেই কুমিল্লার রাজনীতিতে সর্বজনস্বীকৃত। যার রেশ এবারের নির্বাচনেও পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার পরাজয়ের কারণ কী? বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মনিরুল হক সাক্কু ১১ হাজার ৮৫ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

সাক্কু পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট আর আওয়ামী লীগ মনোনীত সীমা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট। কুমিল্লার স্থানীয় নেতারা বলছেন, দলীয় প্রার্থী স্বচ্ছ ইমেজের হলেও তার পিতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট আফজল খান ও বাহার উদ্দীনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেই কুমিল্লায় ক্ষমতাসীন দলকে হারতে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এবারের নির্বাচনে আফজল খানের মেয়ে সীমার পক্ষে বাহারের পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে কাজ করলেও গোপনে ঠিকই বিএনপি প্রার্থী সাক্কুর পক্ষে ছিল বাহারের আশীর্বাদ। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সিংহভাগ ভোটকেন্দ্রে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সীমা।

কুসিক নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে সাবেক ছাত্রনেতাদের অধিক উপস্থিতিকেও দায়ী করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই এমন কিছু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এই নির্বাচনের পুরোটা সময় একটানা অনেক দিন কুমিল্লায় অবস্থান করেছেন। তাদের অনেকেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার কাজে।

এদের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যেমন বিরক্ত হয়েছে তেমনটি কুমিল্লার ভোটারদের মাঝেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আসল কথা হলো, আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ  দ্বন্দ্বের প্রভাবে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকার পরাজয়ের পেছনে রয়েছে অনেক কারণ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়হীনতা, ত্যাগী নেতাদের দিয়ে শক্তিশালী কেন্দ্র কমিটি গঠনে ব্যর্থতা, দলের ভেতরে থাকা শত্রুদের শনাক্ত করতে না পারা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এসবের মধ্যে অন্যতম।

তবে কারা নির্বাচনের সময় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিয়েছে, কারা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে দলকে বারবার বিপদের মুখে ঠেলে  দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে সেটা বের করতে না পারলে, সামনে এরকম অনেক কিছুই দেখতে হবে। পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি, আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করার উদ্দেশে সরকার সফল হলেও বিএনপি প্রার্থীর বিজয় দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে ভাবিয়ে তুলেছে।

কুসিক নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আন্তরিক ছিল। তবে তারা সরকারের কথামতো নয়, নির্বাচন কমিশনের কথামতো সার্বক্ষণিক তৎপরতা দেখিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে এখন থেকেই ইতিবাচক অবস্থানে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে পরীক্ষামূলক হিসেবে নেয়।

প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখেই আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় এখন থেকেই কৌশল ঠিক করছে বলেও জানা গেছে। শেষকথা হলো, উত্তম অধমের সাথে নিশ্চিন্তেই চলে। কিন্তু প্রকৃত গণত্রন্ত্র চর্চায় শক্তিশালী বিরোধী দল লাগে। নয়তো অধমের সাথে চলতে চলতে উত্তম একদিন তার শক্তি হারাবে। আর সেটাই তো স্বাভাবিক! লেখক:- গবেষক সদস্য, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

0 9

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

৩ এপ্রিল সোমবার বিকেল ৪টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের এক হাজার ৭২৯টি কলেজের মোট ৬৯১ টি কেন্দ্রে এক লাখ ৬৯ হাজার ৩৪ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে এক লাখ ৬১ হাজার ৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

উত্তীর্ণের হার ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও কলেজওয়ারী ফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.nu.edu.bd ও www.nubd.info) দেওয়া হয়েছে। যেকোনো মোবাইল থেকেও এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে।

মোবাইল থেকে ফল জানতে ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে nu লিখে স্পেস দিয়ে deg লিখে স্পেস দিয়ে reg নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রকাশিত ফল পুন:নিরীক্ষণের জন্য ৩ মে পর্যন্ত অনলাইনে (www.nubd.info) আবেদন করা যাবে।

0 4

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: আইসিসি ফিউচার ট্যুর প্ল্যান (এফটিপি) অনুযায়ী বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার সফরটা হওয়ার কথা ২০১৫ সালে; কিন্তু নানা কারণে সেই সফর পেছাতে পেছাতে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।

এফটিপি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার এই বছরের শেষের দিকেই বাংলাদেশে আসার কথা; কিন্তু সফরে টেস্ট খেলার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়া চায় ওয়ানডে খেলতে। আবার বাংলাদেশ চায় টেস্ট খেলতে। অস্ট্রেলিয়ার চাওয়া অনুসারে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এখন চলছে আলোচনা।

ফরম্যাট এবং সময় নির্ধারণই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সামনে। এফটিপি অনুযায়ী ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার যে সফর, সেখানে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের; কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে তখন বাংলাদেশে দল পাঠায়নি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড।

এরপর গত বছর জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর অক্টোবরেই বাংলাদেশ সফর করে ইংল্যান্ড। সেই সফরে বিসিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা দেখে দারুণ সন্তুষ্ট ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তখনই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রতিনিধি পাঠায়।

এরপরই চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ সফরের কথা জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কিন্তু এখন টেস্ট নয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড চাচ্ছে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে খেলার জন্য। কারণ এ বছরের শেষ দিকে রয়েছে তাদের অ্যাশেজ সিরিজ। তার আগে অক্টোবরে ভারতের মাটিতে একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলবে তারা।

সেই সিরিজের প্রস্তুতির লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে খেলতে চায় অসিরা। অন্যদিকে এফটিপি অনুযায়ী বাংলাদেশ চায় টেস্ট খেলতে। কারণ, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল মুশফিকরা। আবার বিদেশের মাটিতে সদ্যই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সুতরাং, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করার একটা বড় সুযোগ হারাতে চায় না বাংলাদেশ।

সে সঙ্গে জুলাইয়ে প্রস্তাবিত পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। বিসিবির পক্ষ থেকে তাই জোর দেওয়া হচ্ছে টেস্ট খেলার ব্যাপারেই।

বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে নিরাপত্তা ইস্যু সব সময়ই বড় বিবেচনা অস্ট্রেলিয়ার। তবে বাংলাদেশ সফর নিয়ে এবার আশাবাদী তারা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে প্রধান। তবে এই সফর নিয়ে আমরা আশাবাদী। এ ব্যাপারে আমরা নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিজস্ব নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।

২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে তিনটি ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় এসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। কিন্তু টেস্ট সিরিজ হয়নি এখনো। অথ্যাৎ, ২০০৬ সালের পর এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ।

0 43

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারী স্পিকার আমাল আল কুবাইসি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজেদের জন্য ‘রোল মডেল’ বলে মনে করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম নারী স্পিকার বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। আইপিইউ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তিনি।রোববার বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তাকে নিজেদের ‘রোল মডেল’ বলে অভিহিত করেন আমাল আল কুবাইসি।

 পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ইউএইর স্পিকার বলেন, আপনি আমাদের জন্য উল্লেখযোগ্য রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী ইসলাম ধর্মের নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের নিন্দা জানিয়েছেন বলেও জানান প্রেস সচিব।

0 21
আমাদের সম্মানিত পাঠক বৃন্দ, আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, আগামী ৩১ জুলাই থেকে প্রতি সোমবার প্রিন্ট আকারে বের হবে অনলাইন সিলেটের সংবাদ ডটকম এর...

0 14
সিলেটের সংবাদ ডটকম এক্সক্লুসিভ: “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলো পথ”- এই বাক্যটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে। কারাগারের কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন,...